#কানন_সিরিজ_৩
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?
MD Misad Ali
১ম পর্ব
.
.
আজ সকাল থেকেই কানন একটু ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে । তার এই জগতে প্রবেশ করা বেশ কিছু বছর হয়ে গেল আর এর মাঝে গোটা কয়েক কেশ ও সলভ করেছে । সে যে এত ইন্টেলিজেন্ট, কিন্তু পড়ালেখায় তার কোনো মনযোগ নাই । সে সারাক্ষণ শুধু পড়ে আছে রহস্য আর অপরাধীর পিছনে । কাননের জন্য আজকাল ক্রিমিনাল গুলোও অশান্তিতে আছে, শান্তিতে ক্রাইমও করতে পারে না । কানন আজকে ব্যাস্ত কারণ, আজ সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় যাবে, সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করার জন্য ভর্তি হয়েছে । আগামীকাল ফর্ম এবং অন্য সব কাগজ জমা দিতে হবে এবং কিছু ফর্মালিটিজ পূরণ করতে হবে । তাই আজকে বিকালেই সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবে । দুপুরের আগেই তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো । দুপুরে কোনো রকমে খাবারটা সেরে বেরিয়ে পড়লো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের উদ্দেশ্যে । তার গন্তব্য এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় তারজন্য সে এখন প্রথমে রহনপুর রেলস্টেশনে যাবে, সেখানে বিকাল ৩টার ট্রেনে চেপে আমনুর আর আমনুরা থেকে রিক্সায় চেপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় । সে ইচ্ছা করলে কালকেও যেতে পারতো, যেহেতু তাদের বাসা খুব একটা বেশি দুরে না । কিন্তু ওখানে থাকার জন্য একটি বাসা ভাড়া করতে হবে তাই আজকেই যাওয়া । প্রায় ১ ঘন্টা জার্নির পর কানন পৌঁছাল আমনুরা রেলস্টেশনে । সেখানেই প্রথম দেখা হয় কাননের সাথে আবিদ আলফী মিসাদের অর্থাৎ আমার ।
আমি রেলস্টেশনে বসেছিলাম, ব্যাগটা পাশে রেখে । এমন সময় দেখলাম একজন আমার পাশেই এসে বসলো । উচ্চতা ৫' ৮" এর কাছাকাছি, দেহের রং শ্যামবর্ণ, সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী, চোখে মুখে বুদ্ধির ছাপ, এসেছে হয়তো লাস্ট ট্রেনে চেপে । আমি প্রায় ১৫ মিনিট মত বসে থাকার পর ব্যাগটা নিয়ে হাঁটতে লাগলাম । আমাকে একটা বাসা ভাড়া নিতে হবে, মেশ কিন্বা হোস্টেল আমার ভালো লাগে না । আর যেহেতু আমি এ এলাকারও না, তাই কারো কাছে হেল্প চাইতে হবে । এসব ভাবতে ভাবতে এগোচ্ছি এমন সময় পিছন থেকে কেউ ডাকলো,
-কি হে? কোথায় চললে, আমার ব্যাগ নিয়ে ?
আমি পিছনে ঘুরে দেখি যে আমার পাশে বসেছিলো তার হাতে আমার ব্যাগ, বুঝলাম সেই আমাকে ডেকেছে । অবাক হয়ে আমার কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে দেখি একই রকম ব্যাগ, কিন্তু ব্যাগের উপরে কারো নাম লিখা "রিহাদ আহমেদ কানন" । নিজের উপরেই প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, আমার ব্যাগ আমিই চিনতে পারি নি ।
সে হাঁসি মুখে এগিয়ে এলো এবং হাত বাড়িয়ে বললো,
.
-আমি রিহাদ আহমেদ কানন, বাসা গোমস্তাপুর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ।
-আমি আবিদ আলফী মিসাদ, বাসা সরিষাবাড়ী উপজেলা, জামালপুর ।
-ওহ, অনেকটা পথ অতিক্রম করে এসেছ দেখছি । তা এতটা পথ পাড়ি দিয়ে আসার কারণটা জানতে পারি কি ?' খুব উৎসাহিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল কানন
-আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স এ ভর্তির জন্য এসেছি । এখানেই পড়ালেখা করবো ভাবছি ।
-ওহ্ গ্রেট, আমিওতো সেম কলেজেই অনার্সে ভর্তি হবো, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ।
-আরে আমিওতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানেই, তা কি ঠিক করলে? থাকবে কোথায় ? মেশে, হোষ্টেলে নাকি আত্মিয়ের বাসায় ?
-মেশ বা হোষ্টেল নিয়ে কোনো প্রশ্নই আসেনা । তবে বাসা ভাড়া নেওয়ার পর আত্মিয়তা সৃষ্টি হতে পারে ।
-তা বাসা ভাড়া নিলে রুম মেট তো প্রয়োজন হবেই তোমার । আমি কিন্তু রুম মেট হিসেবে খুব একটা খারাপ না ।
-ওকে চলো, দুজন মিলে বাসা খুঁজি ।
-হুম, চলো । আমি আসলে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম, যদি বাসা ভাড়া না পাই তবে কি হবে এই ভেবে । কিন্তু যখন স্থানীয় একজনকে পেয়েছি তখন বাসাও ঠিক পেয়ে যাবো । কিন্তু এই সময় হঠাৎ করে কি বাসা পাওয়া যাবে ?
-আগে চলো তো, দেখা যাক কি হয় ।
-প্রথমে কোথায় যাবে ? আমি তো এখানকার কিছুই চিনি না ।
- প্রথমে পুলিশ স্টেশন চলো ।
-পুলিশ স্টেশনেও আজকাল বাসা ভাড়া পাওয়া যায় ?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-আরে ওসি স্যারকে আগে থেকেই বলে রেখেছিলাম বাসার ব্যাপারে । তিনি বলেছিলেন নিয়ে যাবেন ।
-তাহলে দেরী কেনো, তাড়াতাড়ি চলো, বাসা কি সন্ধার পরে দেখবো নাকি ?
-হুম চলো ।
.
আমরা দুজনে রওয়ানা দিলাম পুলিশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে । আমাদের ওখানে পৌঁছাতে প্রায় ১০ মিনিট মত লাগলো । গিয়ে দেখি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোঃ আয়ান আহমেদ স্যার বসে আছেন তার রুমে । কানন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো ।
.
-স্যার, এ আমার বন্ধু আলফী । আর আলফী, ইনি হচ্ছেন এই থানার অফিসার-ইন-চার্জ ।
-নাইস টু মিট ইউ মিস্টার আলফী । আর হ্যাঁ, কাননের সাথে থাকতে গেলে কিন্তু সবসময় সতর্ক থাকতে হবে । বলাতো যায় না, কখন কোন ক্রিমিনাল আক্রমন করে ।' বললেন ওসি স্যার
-কেনো স্যার, আক্রমন করবে কেনো ?' অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম
-তুমি জানো না, কানন একজন ভয়ংকর ডিটেকটিভ । যদিও বয়স কম তারপরেও এই বয়সেই সব বাঘা বাঘা ক্রিমিনালের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে ।' হাঁসতে হাঁসতে বললেন ওসি স্যার
.
কানন আমার ব্যাপারে সব বললো ওসি স্যারকে ।
.
-তা তোমাদের জন্য কিন্তু দারুণ একটা বাসা ঠিক করেছি। আর প্লেসটাও ভালো, সবদিক থেকেই ভালো ।
-কোন এলাকায় স্যার?' কানন জিজ্ঞাসা করল
-মসজিদপাড়াতে একটা দোতলা বাড়ির ওপর তলায় ।
-তারমানে পুলিশ স্টেশনের আশেপাশেই ?
-হ্যাঁ, এখান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার মত হবে, পায়ে হেঁটে গেলেও ৫ মিনিটের বেশি লাগবে না । আর তোমাদের ভার্সিটি পায়ে হেঁটে ১৫ মিনিট মত লাগবে । যেহেতু মহানন্দা নদীর খুব কাছেই, তাই দারুন পরিবেশ । তোমরা যদি চাও তবে এখনি দেখাতে নিয়ে যেতে পারি ।
-অবশ্যই স্যার । এর থেকে ভালোতো পাওয়াই মুশকিল । এখন বাসাটা ঠিক থাকলেই হবে ।
-আমারতো দারুণ লেগেছে বাসাটা । এখন তোমাদের পছন্দ হলেই হলো । চলো বাসাটা দেখবে ।
-জ্বী স্যার চলেন ।
.
আমরা বেরিয়ে এলাম পুলিশ ষ্টেশন থেকে এবং মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় উপস্থিত হলাম বাড়ির সামনে । বাড়িটার সামনে বাইরের দিকটায় সিড়ি, যা দিয়ে উপরে উঠা যাবে । ওসি স্যার বাড়িওয়ালাকে ডেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন । ভদ্রলোক অতি সাদরে গ্রহণ করলেন আমাদেরকে । সিড়ি দিয়ে উঠতেই দেখলাম একটা করিডোর । উপরের তলায় মোট পাঁচটা ঘর, যেগুলোতে ভাড়া থাকেন কয়েকজন চাকুরীজীবী । স্টুডেন্ট হিসেবে আমরা দুইজনই ভাড়া নিলাম ।
.
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন