#কানন_সিরিজ_২
#অজানা_রহস্য
১ম পর্ব
.
.
কানন শুয়ে আছে । সে বেশ কয়েকদিন ধরেই ভালো ভাবে ঘুমাতে পাইনি । কারণ সে #টাকা_চুরি রহস্যের সমাধানের জন্য
ব্যস্ত ছিলো । কিন্তু আসলেই কি টাকা চুরি রহস্যের সমাধান হয়েছে ! সে
ঘুমিয়েছে দুপুরে এখন সন্ধ্যা হয়ে এলো তবুও সে ঘুম থেকে উঠছে না । তখন কাননের আম্মু গিয়ে কাননকে উঠিয়ে এলো । কানন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ
হয়ে এসে সাপ্তাহিক
পত্রিকাটা নিয়ে পড়তে শুরু করলো । পড়তে পড়তে এক জায়গায় তার চোখ আটকে গেলো । তারপর সে পড়তে শুরু করলো এবং জায়গাটা লাল
কালির কলম দিয়ে মার্ক করে রাখলো । তারপর বেশ
কিছুক্ষণ পত্রিকাটা পড়ার পর টেবিলের উপর রেখে দিলো । এবং তার ফোনটা
নিয়ে একটু ফেসবুকেও ঢুকলো । রহস্যের জন্য ফেসবুকেও আসতে পায়নি কিছুদিন । ফেসবুকে ঢুকেই
দেখলো প্রেমের সমাধি নামের একটা আইডি থেকে
তাকে বেশ কয়েকটি ম্যাসেজ দিয়েছে । সে তার ম্যাসেজগুলো পড়তে লাগলো । ম্যাসেজ গুলো ৫মিনিট আগের । ম্যাসেজ গুলো পড়ে কানন কিছুটা অবাক হলো । কারণ
ম্যাসেজে লিখা ছিলো,,,,.
প্রেমের সমাধি=>"হ্যালো কানন ভাইয়া, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনি যেভাবে #টাকা_চুরি রহস্যের সমাধানটা করলেন । আমরা কেউ ভাবতেও পারি নি যে, মাসুদ আঙ্কেলই চুরি করেছে । আজ রাতেই আপনাকে ফোন করে এটা সুখবর দিবে ।"
.
কানন কিছুক্ষন চিন্তা করে তাকে একটা ম্যাসেজ পাঠালো,
কানন লিখলো, "কে আপনি ? আর কিভাবেই জানলেন যে আমরাই #টাকা_চুরি রহস্যের সমাধান করেছি । আর কিসের সুখবর ?"
এর কিছুক্ষণ পরেই সেই আইডি থেকে রিপ্লে আসলো, "আমি কে, তা আপনিই খুঁজে বার করুন । আপনিতো একজন গোয়েন্দা । আর কাল সকালেই জানতে পারবেন সুখবরটা কি । আর এখনকার মত বিদায় ।"
এই বলে সে অফলাইনে চলে
গেলো । কাননও কি ভেবে যেনো বেরিয়ে আসলো ফেসবুক থেকে । আর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো ।
.
পরদিন সকাল.....
.
কানন ঘুম থেকে উঠে দেখলো, রাপ্তি, রতন, রানী আর সাহাদ তার ঘরে বসে আছে । কাননকে উঠতে দেখেই তারা সকলেই একসঙ্গে বলে উঠলো, "হ্যাপি বার্থডে টু ইউ" তা শোনার পরে কাননতো প্রায় অবাক হয়ে গেলো ।
আজ সারাদিন কাননরা হৈ-হুল্লোড়েই কাটিয়ে দিলো । সন্ধায় কাননের মনে পড়লো কালকে তো প্রেমের সমাধি নামের আইডিটি থেকে বলেছিলো যে কাল রাতেই কেউ আমাকে ফোন করে সুখবর দিবে । কিন্তু কই কেউ তো ফোন করলো না । আর তখনি মনে পড়লো যে, তার ফোন গতকাল থেকে সাইলেন্ট হয়ে আছে । আর ফোনের স্ক্রীনে চোখ যেতেই চমকে উঠলো কানন । ২৩৭ টা কল উঠে আছে একটি নম্বর থেকে ।
নাম্বার টি কানন চেনে না । কে হতে পারেন ইনি ? আর
এতোবারই কেনো ফোন করেছিলো ? তাছাড়া প্রেমের সমাধি জানলো কিভাবে যে আমাকে ফোন করবে । তার কাছেতো আমার নাম্বার থাকার কথা
নয় । এসব ভাবতে ভাবতে আবার ফোন দিয়েছে আগন্তুক । কানন তাড়াতাড়ি
ফোনটা রিসিভ করে কানে নিলো । তখনি ওপাশ থেকে শোনা গেল,...
.
আগন্তুক=>"হ্যালো, আমি কি কাননের সাথে কথা বলছি ?[ও পাশ থেকে একটা মেয়ের কন্ঠ শোনা গেলো]"
কানন=>"হ্যাঁ, আমি কানন বলছি । আপনি কে ?"
আগন্তুক=>"আমি আপনাদের থানার তদন্ত কর্মকর্তার মেয়ে । আর আপনি এতো ভাব দেখান কেনো । কতোবার ফোন করেছি জানেন ? আপনি একজন গোয়েন্দা, তাই বলে কি অপরিচিত নম্বর থেকে কেউ ফোন দিলে ফোনটা রিসিভ করবেন না ? [একটু রেগেই বললো মেয়েটি]"
কানন=>"আসলে আমার ফোনটি সাইলেন্ট ছিলো । আর আজ আমার জন্মদিন তাই একটু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম । আপনার ফোনটি রিসিভ করতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত। দয়া করে এখন বলবেন কি, কিজন্য এতো ফোন করা । আমার তো মনে হচ্ছে আপনি খুবই বিপদে আছেন ।"
আগন্তুক=>"ও তাই নাকি ? আজ আপনার জন্মদিন ? হ্যাপি বার্থডে টু ইউ এ্যান্ড ম্যানি ম্যানি হ্যাপি রিটার্ন্স অব দা ডে । আর, কিছুটা বিপদে তো আছিই । কিন্তু আপনি জানলেন কি করে ?"
কানন=>"ধন্যবাদ । আমি আপনার ফোন দেখেই কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম
। তারপর আবার আপনি একটু ভয়ে ভয়ে আছেন বলে মনে হলো তাই । কি বিপদ সেটা কিন্তু বললেন
না ।"
আগন্তুক=>"আসলে কিছুদিন হতে আমাকে কেউ মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে । আর কাল যখন কলেজ থেকে ফিরছিলাম তখন কেউ একজন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে । কিন্তু আমার সমনে একটি অটোরিক্সা চলে আসায় একটুর জন্যই বেঁচে গেছি । গুলিটা অটোরিক্সায় লেগেছিল ।"
কানন=>"তা লোকটাকে দেখেছেন নিশ্চয় ।"
আগন্তুক=>"হ্যাঁ, আমি খুব ভালোভাবেই দেখেছি । এরপর দেখলে ঠিক চিনতে পারবো । আপনি প্লিজ যদি একবার আমাদের বাসায় আসতেন ।"
কানন=>"ঠিক আছে আমি তাহলে কাল সকাল ৯টায়
আপনাদের বাসায় আসছি ।"
আগন্তুক=>"ঠিক আছে, এখন তাহলে ফোনটা রাখছি । কাল দেখা হবে ।"
কানন=>"ঠিক আছে ।"
.
তারপর কানন ফোনটা রেখে দিলো । কানন বিছানায় বসতে বসতে খেয়াল করলো । কাল রাতে প্রেমের সমাধী বলেছিলো কেউ একজন সুখবর দিবে, আর এটা আবার কোন ধরনের সুখবর ? যাক তাও ভালোই হলো, মাথা খাটানোর জন্য একটা রহস্যতো পাওয়া গেলো । এসব ভাবতে ভাবতে কানন তার টেবিলে চোখ যেতেই সে দেখলো, কালকের পত্রিকাটা রাখা আছে । তখন সে পত্রিকাটা নিয়ে যে জায়গায় মার্ক করেছিলো সেটা পড়তে লাগলো । সেখানে লিখা ছিলো, "গত তিনদিন ধরে খুন হয়ে চলেছে সাধারন জনগন । গত তিনদিনে মোট সাতটা খুন হয়েছে, গোমস্তাপুর থানার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে । এদের মধ্যে ৪ জন ছেলে এবং ৩জন মেয়ে । তাদের সকলকেই এক বিশেষ ধরনের বন্ধুকের গুলি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে । আর হত্যাকারী প্রতিটি হত্যার স্থানে একটি করে চিরকুট রেখে গেছে । কিন্তু পুলিশ এখনো হত্যাকারীর সন্ধান পাইনি ।"
কানন সংবাদটা পড়ে চমকে উঠলো । কারণ এটা তাদের পাশের ইউনিয়ন কিন্তু সে কোনো খবরই পাইনি ! আর পাবেই বা
কিভাবে ? সে তো #টাকা_চুরি রহস্যের সমাধানের জন্য বাইরে ছিলো । পত্রিকাটা পড়তে পড়তে অনেক রাত হয়ে গেছে তাই কানন তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে একবার ফেসবুকে এলো,
দেখলো মাত্র ১০ জন
অনলাইনে আছে । তাদের মধ্যে কানন কাউকেই চেনে না । তাই ফেসবুক থেকে বেরিয়ে ঘুমিয়ে
গেলো ।
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন