রহস্যময় পুকুর — পর্ব ১

#রহস্যময়_পুকুর

MD Misad Ali

১ম পর্ব

.

.

এবার অনেক গরম

পড়েছে । আর এই

গরমেই

পেয়ে গেছি গরমের

ছুটি । তাই আমি

(মিসাদ),

সালাহ্উদ্দিন,

রুবেল, সিফাত ও

মারুফ সবাই একত্রে

হয়েছি কোথাও

থেকে ঘুরে আসার

জন্য । এর

মধ্যে ঠিক করেছি

আমরা আগামিকাল

কাপ্তাই হ্রদ

দেখতে বান্দরবান যাবো । তো যেই

ভাবা সেই

কাজ । পরের দিন

সকালে আমরা

ট্রেনে উঠবো

তাই সব কিছু তৈরি

করে রাখছি । এটা

আমার প্রথম

ট্রেনে ভ্রমন । এর

আগে আমি কখোনোই

ট্রেনে চড়িনি

যদিও আমাদের

বাড়ি ট্রেন

স্টেশনের একদম

কাছেই । পরের দিন

সকাল ৫টায়

আমরা ট্রেনে

উঠলাম, ট্রেন চলছে

আপন গতিতে

। চট্টগ্রাম থেকে আবার গাড়িতে করে রওয়ানা দিতে হলো। সন্ধা সাড়ে ৬টায়

আমরা রাঙ্গামাটি

গিয়ে পৌছি এবং

একটি

হোটেলে গিয়ে উঠি

। রাতে ডিনার

সেরে সবাই

ঘুমানোর পরিকল্পনা

করি । সকালে উঠে

দেখি আমরা

যে হোটেলটাতে

উঠেছিলাম সেই

হোটেলের সামনে

সুন্দর একটি ফুলের

বাগান এবং

পিছনে একটি

বিরাট পুকুর তার

পাশে একটি বটগাছ

। আমরা

রাতে হোটেলে

আসায় এই সৌন্দর্য

দেখতে পাই

নি । আমরা

ব্রেকফাস্ট করে

বের হলাম কাপ্তাই

হ্রদের উদ্দেশ্যে ।

ওটা এখান থেকে

বেশি

দুরে নয় হয়তো প্রায়

১কিঃমিঃ হবে ।

আমরা কাপ্তাই

লেকের চারিদিকে

ঘুরাঘুরি করে আবার

হোটেলে

ফিরে আসি । এরপর

মারুফ বললো,,

মারুফ->"আজ আমি

জঙ্গলে যাবো

। তোরা কেউ আমার

সাথে যাবি ?"

আমি->"কেনো যাবো

না ?"

মারুফ->"তাহলে চল

যাত্রা শুরু করি ।"

সিফাত->"ইতিমধ্যেই বিকেল হয়ে

গেছে ।

জঙ্গলে যেতে যেতে

সন্ধা হয়ে যাবে ।

তাই

বলছি কাল সকালে

গেলে ভালো হতো

না ?"

রুবেল->"সিফাত, তুই

ভয় পাচ্ছিস না তো ?"

সিফাত->"আরে আমার

আবার ভয় ! সৈয়দ

সিফাত

আলীকে ভয় দেখাবে

এমন জ্বীনের জন্মই

হয়নি ।"

মারুফ->"তাহলে আজ

রাতে তুই একা যা

জঙ্গলে ।"

সিফাত->"তোরা

যাবি না ??"

আমি->"যাবো কিন্তু

সকালে । তুই রাতে

গিয়ে

জঙ্গলটা দেখে

আসবি ।"

রুবেল->"না থাক,

আমরা সকলেই যাবো

জঙ্গলে ।"

.

আমরা সকলেই

প্রয়োজনিয় সকল

জিনিস নিয়ে

যাত্রা শুরু

করে দিলাম । সেই

জঙ্গলে পৌছাতে

সন্ধা পার হয়ে

গেলো । আমরা

জঙ্গলে গিয়ে

জঙ্গলের

ভিতরের দিকে

যাওয়া শুরু করলাম ।

অনেক্ষন চলার পর

এক জায়গায়

থামলাম বিশ্রাম

করার জন্য । ঠিক

তখনি একটি

ভয়ঙ্কর গর্জন

শুনলাম । আমরা

শব্দটি শুনার পর

সবাই

যেনো পাথর হয়ে

গেলাম । কারোর পা

একটুও

নড়ছে না । অনেক

কষ্টে আমরা একটি

ঝোপের

আড়ালে লুকালাম ।

তারপর মনে হচ্ছে

শব্দটি

আমাদের দিকে

এগিয়ে আসছে ।

আমাদের

কারোর মুখে কোনো

শব্দ নেই । এর মধ্যে

খেয়াল করলাম

একটি ভয়ানক

চেহারার জন্তু

আমাদের

থেকে মাত্র ১০-১৫

হাত দুরে দাড়িয়ে

আছে ।

আর গর্জন করছে ।

জন্তুটির মুখ

কুমিরের মতো,

পায়ের ও হাতের নখ

বাঘের মতো,আর চোখ

দুটো সবুজ বর্নের ।

এমন সময় হঠাৎ

আমাদের

দিকে আশা শুরু

করলো। আমরা কেউ

একটুও নড়তে

পারছি না । তখনি

কি মনেকরে সেই

জন্তুটি একটি

পুকুরের দিকে যেতে

লাগলো এবং

পুকুরটিতে

নেমে গেলো । তার

কিছুক্ষন পর আমরা

সেই

জঙ্গল থেকে বের

হয়ে যায় এবং

সকালে আবার

জঙ্গলে যায় ।

জঙ্গলে গিয়ে আমরা

সবাই আশ্চর্য

হয়ে গেলাম । আমরা

রাতে যেখানে পুকুর

দেখেছিলাম

সেখানে কোনো পুকুর

নেই ।

সেখানে একটি

বিরাট বড় তেঁতুল

গাছ । আমাদের

ভালোভাবে মনে

আছে আমরা এখানেই

পুকুরটি

দেখেছি । কারন

আমার ঘড়ি সেই

ঝোপে

লুকানোর সময় খসে

পড়ে যায় এবং এখনো

সেখানেই ছিলো ।

তাহলে এখানে কি

হচ্ছে ? এই

প্রশ্নের উত্তর

পেতে হলে আমাকে

রাতে

আবার এখানে আসতে

হবে । আমরা রাতে

আবার

গেলাম সেই পুকুর

পাড়ে । সেখানে

গিয়ে দেখি

আবার সেই জন্তু পুকুর

থেকে উঠছে । আমরা

আবার সেই ঝোপের

আড়ালে আশ্রয় নিই ।

কিন্তু

সেই জন্তু আমাদের

দেখে ফেলে এবং

আমাদের দিকে

ধেয়ে আসে । কিন্তু

ঝোপের

কাছে আসতেই সে

দুরে ছিটকে পড়ে আর

তার

দেহ ধোয়ার কুন্ডলি

পাকিয়ে হারিয়ে

যায় । আমরা

সবাই নিশ্চিন্ত

হয়ে পুকুরের কাছে

যায় কিন্তু

সেখানে যেতেই

আবার সেই গর্জন

শুনতে পাই।

ভয়ে ভয়ে পিছনে

ফিরে দেখি এবার

একটি না

১০-১৫টি জন্তু চলে

এসেছে । আর

আমাদের

তিনদিক থেকে

ঘিরে ফেলেছে আর

এক দিকে

সেই

#রহস্যময়_পুকুর

। আমরা ভয়ে ভয়ে

পিছনে

হঠতে থাকি এবং

একসময় আমার ঘাড়ে

প্রচন্ড ব্যাথা

অনুভব করি ।

তারপরে আরকিছু

মনে নেই, জ্ঞান

ফিরে দেখি আমরা

একটি ঘরে

বিছানার উপর শুয়ে

আছি

। আমাদের ঘাড়ে

ব্যান্ডেজ করা ।

আমরা কেউ

বুঝতে পারছি না

আমরা কোথায় আছি,

আমরা ধিরে

ধিরে উঠে বাইরে

এসে দেখি এটি

একটি প্রাসাদ ।

কিন্তু দেখে মনে

হচ্ছে অনেক পুরোনো

একটি প্রাসাদ ।

আমরা ভাবতে থাকি

আমরা এখানে

কিভাবে এলাম ?

ঠিক তখনি কেউ

একজন ঘরে

প্রবেশ করলো । সে

আমাদের বললো.,,.

লোক->"আমার নাম

রোকন । আমার বাবা

এই শ্যামলপুর

রাজ্যের রাজা । আজ

রাতে আমি যখন

বাইরে যাই তখন

দেখি কিছু তোমরা

আমাদের রাজ্যের

প্রবেশ

দারে পড়ে আছো । কে

তোমরা ? আর এখানে

এসেছ-ই বা

কিভাবে ?"

.

আমরা তাকে সব খুলে

বললাম । তা শুনে সে

বললো .,,,.

রোকন->"তাহলে

তোমরা এখানে এলে

কিভাবে ?"

আমি->"তা তো

জানিনা । আর 2017

সালে রাজাদের

কথা

একটু অন্য রকম

লাখছে না ? আর

তোমাদের রাজ্যটাই

বা কোথায় ?

রোকন->"আমাদের

রাজ্যটা কাপ্তাই

হ্রদের পাশের

জঙ্গলের নিচে ।

আমাদের রাজ্যের

প্রবেশ দার

রাতের বেলায়

খোলা হয়।"

সিফাত->"কিন্তু ঐ

পশুটি ঝোপের কাছে

এসে

ছিটকে পড়ে গেলো

কেনো ?"

সালাহ্উদ্দিন->"

হয়তো সেই ঝোপে

কোনো

শক্তি আছে । যা

পশুটিকে আঘাত

করেছিল ।"

আমি->"হতে পারে ।

কিন্তু সেটা জানতে

হলে

আমাদের আবার সেই

ঝোপের কাছে যেতে

হবে ।"

.

.

{চলবে.....}

রহস্যময় পুকুর — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ