দ্য সুপার পাওয়ার
মোঃ মিসাদ আলী
নির্জন রাস্তা দিয়ে একা হেঁটে চলেছি।
রাস্তাটা বেশ চওড়া, দুই পাশে পুরোনো গাছের সারি। বাতাসে এক ধরনের ঠাণ্ডা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, বৃষ্টির আগের মাটির গন্ধ যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলো দপদপ করছে, কিছু জায়গায় পাতা ঝরে পড়ে আছে মাটিতে, সেগুলোর ওপর হাঁটলে কচমচ শব্দ হচ্ছে। যদিও রাস্তাটায় এই প্রথম আসা, তবুও অদ্ভুতভাবে সবকিছু চেনা চেনা লাগছে।
কিছুদূর এগোতেই মনে হলো কেউ আমাকে অনুসরণ করছে। বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছি, কিন্তু কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না। অথচ যখনই সামনে পা বাড়াই, পেছন থেকে স্পষ্ট পদশব্দ শুনতে পাই, যেন কেউ পাতা মাড়িয়ে হাঁটছে। বুকের ভেতর হালকা ভয় জমতে শুরু করল। আকাশে সন্ধ্যার শেষ আলো মিলিয়ে যাচ্ছে, চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। তাড়াতাড়ি পা চালালাম বাড়ির দিকে।
ঠিক তখনই দূর থেকে একটা গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠল। আলোটা ক্রমে কাছে আসছে। লিফটের আশায় হাত তুললাম|
কিন্তু একি! আমার হাত থেকে এক ঝলক সবুজ আলোকরশ্মি বেরিয়ে গিয়ে সোজা গিয়ে লাগল গাড়িটাতে! মুহূর্তেই গাড়িটা থেমে গেল।
আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, ড্রাইভারও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে বিস্মিত চোখে। চারপাশের বাতাস একদম নিস্তব্ধ। মনে হলো, সময় থেমে গেছে।
তাহলে কি এটা কোনো সুপার পাওয়ার?
আমিও কি সত্যি সত্যি কোনো অজানা শক্তির অধিকারী?
কৌতূহলবশত হাত নাড়লাম, আর অবাক হয়ে দেখলাম গাড়িটা ধীরে ধীরে উপরে উঠছে! ড্রাইভার ভয় পেয়ে গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে গেল। আমি তাড়াতাড়ি গাড়িটাকে নিচে নামিয়ে দিলাম, কিন্তু ততক্ষণে লোকটা দৌড়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে। রাস্তা আবার আগের মতো নিস্তব্ধ—শুধু হালকা বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ।
আমি ভেসে ভেসে বাসায় ফিরে এলাম।
রাত তখন গভীর, সবাই ঘুমিয়ে আছে। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ আর বাইরে রাতের হালকা বাতাস। আস্তে আস্তে দরজা খুলে ছাদে উঠে গেলাম।
চাঁদটা পূর্ণিমার, আকাশের মাঝখানে ঝুলছে, তার আলো ছড়িয়ে পড়েছে ছাদের প্রতিটি কোণে। বাতাসে ঠাণ্ডা আমেজ, চারপাশে নরম সাদা আলোয় সবকিছু স্নান করছে। হঠাৎ দূরের আকাশে দেখি কয়েকটা উজ্জ্বল বিন্দু এগিয়ে আসছে আমার দিকে। কাছে আসতেই বুঝলাম, সেগুলো ইউএফও!
তারা ক্রমে নামতে নামতে আমার দিকে গুলি ছুঁড়ল। একটা গুলি সোজা এসে লাগল আমার বুকে। তীব্র যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। বুকের ভেতর আগুনের মতো জ্বালা, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে রক্ত। ছাদের মেঝে লাল হয়ে যাচ্ছে, চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছে।
ঠিক তখনই অনুভব করলাম কেউ একজন আমাকে ঝাঁকি দিচ্ছে। চোখ খুলে দেখি আমার বড় ভাই দাঁড়িয়ে আছে, বলছে,
- “এই আলফী, কাঁদছিস কেন? ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখেছিস নাকি?”
কি! তাহলে আমি এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম?
ভাইয়ার উপর রাগ হলো কিছুটা। আর একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠালে হয়তো আমার সুপার পাওয়ার ব্যবহার করে ইউএফও-র এলিয়েনদের শেষ করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু এই ছয় বছরের শিশুর কল্পনাতেই হয়তো সে যুদ্ধটা চলবে সারাজীবন।
written on 14 Nov 2020.

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন