এ কী হাল মোদের সোনার বাংলার!
মোঃ মিসাদ আলী
চারিদিকে শুনি হাহাকার শুধু,
করেছে কে মোদের কালো জাদু!
নিজের দোষ অপরে চাপায়ে নেতারা সাজে সাধু,
তারাই চুষে খাচ্ছে যত দেশের রত্ন-মধু।
সীমান্তবর্তী দেশের রাজা,
মারছে কেন এদেশের প্রজা?
চুপ কেন আজো দেওনি হুংকার?
বজ্রমুষ্টি কেন তুলনি গগন পানে আর?
এ জাতি তো ভীরুর জাতি নয়!
তবু কেন মানছ এ অবক্ষয়?
মনে দানা বেঁধেছে কিসের ভয়?
এই তো সময়, জয় করো সেই ভয়!
এগিয়ে যাবে বীরের জাতি,
হবে না আর কারো ক্ষতি।
এ বিশ্বাস রাখো সদা মনে,
সাহস হারালে হয় কি জয় কোনো ক্ষণে?
সইব না মোরা অন্যায় কোনো,
থাকব না আর পরাজিত,
শিক্ষা-জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে
তাদের করিব ভীত।
যখনি দেখি দেশের ভেতরে
বয়ে যায় রক্তের বন্যা,
শত চেষ্টায় পারি না থামাতে
সুপ্ত বিবেকের কান্না।
এসবের ভিড়ে বারেবারে শুধু মনে হয়...
এ কী হাল মোদের সোনার বাংলার!
রাস্তায় দেখি ক্ষুধার মিছিল, কণ্ঠে নীরব চিৎকার,
যে হাতে গড়েছে দেশ, আজ তারই হাতে শিকলের ভার।
ভোটের নামে চলছে আজ প্রহসন আর প্রতারণা,
নির্ভীক কণ্ঠ রুদ্ধ করেছে ভয়-নিপীড়ন-লাঞ্ছনা।
বইয়ের পাতায় শেখাই ন্যায়, বাস্তবে দেখি অন্যায় জয়,
শিশুর চোখে স্বপ্ন মরে, তরুণেরা আজ হয় নিরুপায়।
স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ রঙিন শুধু টিভি পর্দায়,
বাস্তবে ক্ষয়ে যাচ্ছে শেকড়, পঁচে গেছে রয়ে কাঁদায়।
যে দেশের মাটিতে শহীদের রক্ত মিশে আছে প্রাণে,
সেই মাটিতেই আবার গজায় অন্যায়ের লাল ফুল দানে।
গরিবের ঘরে জ্বলে না কো দীপ, রাজপ্রাসাদে আলো নেভে না,
অন্যায়ের মঞ্চে যারা দাঁড়ায়, বিচার কখনো হয় না।
কেউ বলে, “সব ঠিক আছে”, কেউ বলে,“সময় আসবে”,
কিন্তু সময় কবে আসে, যদি আমরা না জেগে উঠি তবে?
চুপ করে থাকা মানে আজ নত মস্তক দাসত্ব প্রাণ,
যেখানে অন্যায় রাজ করে, সেখানেই জন্ম নেয় বিদ্রোহের গান।
তবু আশার আলো আছে, নিভে যায়নি এখনো তাতে,
যুবকের মুঠোয় আগুন, লেখক-শিল্পীর কলম প্রতিঘাতে।
ফিরে আসবে আলোর দিন, যদি জাগে সত্যের ধ্বনি,
জনতার ঐক্যের শক্তি দেখাবে বিশ্বকে নতুন গগনখানি।
আমরা হবো সে জাতি, যাদের বুকের রক্তে আগুন জ্বলে,
যাদের কণ্ঠে উচ্চারণ হবে, “বাংলা মা, আমরা তোর তরে।”
তখনই মুছে যাবে আজকের সব কলঙ্কের রেখা,
তখনই হবে সত্যিকার সোনার বাংলার দেখা।
আর যতদিন এ মাটিতে শ্বাস নেবে কোনো প্রাণ,
ততদিন বাজবে উচ্চস্বর, “এই দেশ, এই মাটি, আমাদের প্রাণ!”
লেখা: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন