#আবার_সেই_জঙ্গলে
MD Misad Ali
১ম পর্ব
.
.
আজ প্রায় তিন মাস পর আবার এ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ পেলাম । নিউজপেপার পড়তে পড়তে হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটা কলামে । শিরোনামটা ছিল এমন, "জঙ্গলের ভিতরে গেছে অনেক মানুষ কিন্তু ফিরে আসেনি অনেকেই ।"
শিরোনামটা পড়েই কৌতুহল তৈরি হলো মনের মধ্যে । তাই বিস্তারিত পড়তে শুরু করলাম,
রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার ক্লাজ নাপোকা শহরের প্রায় ২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে 'হোয়া বাচু' নামের এক রহস্যময়ী জঙ্গল ।
জঙ্গলটি পৃথিবীবাসীর নজরে আসে ১৯৬০ সালে এবং সেই বছরই জীববিজ্ঞানী আলেকজান্দ্রু সিফট আকাশে ডিম্বাকৃতির কিছু একটা উড়ে যেতে দেখেন এবং সেই বস্তুটির ছবিও তোলেন আলেকজান্দ্রু সিফট ।
এরপর আবার ইউএফও- এরমত গোলাকার বস্তুকে আকাশে উড়তে দেখেন এমিল বার্নিয়া নামে সেনাবাহিনীর এক টেকনিশিয়ান ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ।
কৌতুহলের কারণে এমিল আশেপাশের এলাকাবাসীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করেন । এলাকাবাসী জানায়, মাঝে মাঝেই তীব্র গোলাকার আলোর বলয় আকাশে উড়ে যেতে দেখতে পান তারা ।
এলাকাবাসী আরো জানায়, অনেক বছর আগে ২০০ ভেড়া নিয়ে এক রাখাল জঙ্গলে গিয়েছিলো । কিন্তু আজ পর্যন্ত সে ফিরে আসেনি, হয়তো হারিয়ে গেছে জঙ্গলের গোলকধাঁধাঁয় । এরপর আরো অনেকেই জঙ্গলে গিয়েছে, তাদের মাঝে কেউ কেউ ফিরেছে আবার কেউ কেউ ফিরেনি । আর যারা ফিরেছে তারাও প্রচুর জ্বর, মাথা ঘোরা, গায়ে ফোঁসকা পড়া, শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা নিয়েই ফিরেছে ।
জঙ্গলের মধ্যভাগে গোলাকার এক জায়গা আছে, যেখানে কোনো দিন কোনো গাছ বা লতা-গুল্ম জন্মাতে দেখা যায় নি । বিজ্ঞানীরা সেই জায়গার মাটি পরিক্ষা করে দেখেন, সেই মাটিতে অস্বাভাবিক কিছুই নেই যার কারণে গাছ জন্মাতে পারে না । এবং সেই মাটি ল্যাবে রেখে সেখানে কিছু ফুলের বীজ বপন করলে দেখা যায় গাছ জন্ম নিয়েছে । এলাকাবাসী ঐ গোলাকার স্থানটিকে ভূতুড়ে কর্মকান্ডের সেন্টার পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেন ।
বিজ্ঞানীগনের মতে, হোয়া বাচু জঙ্গলে অস্বাভাবিক মাত্রায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়ে থাকে । এছাড়া এখানে চুম্বকীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের বেশ কিছু বিচ্যুতি আছে ।
এলাকাবাসীর দাবী এইসবের পিছনে আছে এক চাষীর অতৃপ্ত আত্মা যাকে অনেকবছর আগে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয় এই জঙ্গলে । এছাড়াও জঙ্গলের গাছের ফাঁকে ফাঁকে কান পাতলেই শোনা যায় কিছু নারীর কান্নার আর্তনাদ অথবা হাঁসির আওয়াজ ।
আজ পর্যন্ত কেউ এই রহস্যের সমাধান করতে পারে নি । বিজ্ঞানীগন তাদের সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করছেন সঠিক ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখন পর্যন্ত সবাই ব্যার্থ ।
.
এতোটুকু পড়ার পর আমার কৌতুহল চরম শিখরে পৌছে গেছে । আমি যাবোই সেই হোয়া বাচু জঙ্গলে । তবে রহস্য উদঘাটন করার জন্য নয়, যাবো আমার পিপাশু মনের তৃষ্ণা মিটাতে, যাবো এক অজানা দিগন্তকে জানতে, যাবো নিজের অস্তিত্বকে খুঁজতে, যাবো সেই জঙ্গলের গভীরতা, পাষণতা আর ভয়ংকর রূপ দেখতে । যদি ফিরে না-ই আসতে পারি, অন্তত সেই জঙ্গলের মাঝে হারিয়ে যাওয়াদের লিষ্টে নিজের নামটা তো লিখাতে পারব । আমি যদি জঙ্গলের মাঝেই রয়ে যাই, তাহলেও কারো কিছু আসে যায় না । এমনকি পথ চেয়েও কেউ থাকবে না আমার । আত্মহত্যার চাইতে তো এটাই ভালো, লোকে বলবে অজানাকে জানতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ছেলেটার । আর বেঁচে গেলে আবার নতুন দিগন্তের খোঁজে বেরিয়ে পড়া যাবে তখন । এই নতুন দিগন্তের খোঁজে বের হওয়া প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেছে, আজ আমার বয়স ২৭ বছর ।
আমি আরহাম জারিফ, মাত্র ছয় বছর বয়সে কার এ্যাক্সিডেন্টে বাবা-মাকে হারাই । গাড়িতে আমিও ছিলাম, কিন্তু জানি না কিভাবে বেঁচে গিয়েছিলাম আমি । বাবা-মাকে ছাড়া থাকে যে কতটা কষ্টকর তা শুধুই ভুক্তভোগীই অনুভব করতে পারে । বাবা-মা হারানো শোকে ঠিকমত ঘুমাতে পারতাম না, কারো সাথে তেমন কথা বলতাম না, আর কথা বললেও রেগে কথা বলতাম । এভাবেই কাটতে থাকলে আমার বড়ো চাচা আমাকে একটা সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যান । সাইক্রিয়াটিস্ট বলেন, হঠাৎ এরকম মানষিক কষ্টের কারণে এমনটা হয়েছে । সবার সাথে মিলেমিশে থাকলে এটা ঠিক হয়ে যাবে । আমার বয়স যখন মাত্র ১৮ বছর, আমার বাবার রেখে যাওয়া কোম্পানীর দায়িত্ব এসে পড়ে আমার কাঁধে । বড়ো চাচা এতোদিন দেখছিলেন এই সব, কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছিলেন ।
প্রথমে তো কিছুই মাথায় আসছিল না, কি থেকে কি করব । পরে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছিলাম নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে । কিন্তু কোম্পানীতে আমার যোগ দেওয়াটা এমপ্লয়দের কাছে কাল হয়ে দাঁড়ালো । একটু পান থেকে চুন খসলেই শুরু করতাম অপমান । সব কর্মচারীই আমার উপর অতিষ্ট হয়ে উঠেছিলো । কিন্তু আমি আসার পর মাত্র তিন বছরের মাথায় আমাদের কোম্পানী দেশে ৩৭ নাম্বার থেকে টপ হয়ে গেল । টপে আসতে আমার কোনো ক্রেডিট ছিল না, সব ক্রেডিটতো তাদের, যারা সারাদিন কষ্ট করে এখানে কাজ করে কোম্পানীকে ১ নাম্বারে নিয়ে এসেছে । হোক তা সম্মানে, নিজের ইচ্ছায় কিন্বা ভয়ে, সেটা আমার দেখার বিষয় না । আমাদের কোম্পানী সারাদেশে ১ নাম্বার হয়েছে এটাই আমার কাছে বড় । কোম্পানী এক নাম্বার হওয়ায় একটা পার্টির ব্যাবস্থা করা হয়েছে । এসব পার্টি আমার ভালো লাগে না, তাই আমি বেরিয়ে এলাম ক্লাব থেকে ।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং
কলিংবেলের শব্দে কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলাম । দরজা খুলে দেখি সিহাব দাঁড়িয়ে আছে । সিহাব আমার পিএ ।
সিহাব- স্যার, আমায় ডেকেছিলেন ?
আমি- হ্যাঁ সিহাব, আমি কালকেই রোমানিয়া যাবো । আমার জন্য একটা টিকিট বুক করো । আর হ্যাঁ, কোম্পানীর সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো ?
সিহাব- জ্বী স্যার । কোম্পানী এখনো ১ নাম্বারই আছে, আপনার দেখানো পথেই যাচ্ছে কোম্পানী । আর আমি এক্ষুণি টিকিটের ব্যবস্থা করছি ।
আমি- ওকে সিহাব, বড়ো চাচ্চু আর কোম্পানীর খেয়াল রেখো ।
সিহাব- স্যার, একটা কথা বলবো ?
আমি- কি কথা ? বলো ।
সিহাব- স্যার, হোয়া বাচু না গেলে হয় না ?
আমি- নিউজের কলামটা তুমিও পড়েছ, তুমিতো জানো সব কিছু ।
.
এরপর সিহাব চলে গেল । আমি সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুতি নিলাম । পরদিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম এক অচেনা দিগন্তের খোঁজে ।
প্লেনে চড়ে এলিয়ে দিলাম শরীরটা প্লেনের চেয়ারে । জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আকাশের শুধা পান করা শুরু করলাম । আবার হারিয়ে গেলাম কল্পনায় ।
ক্লাব থেকে বের হচ্ছি, ঠিক এমন সময় হঠাৎ...
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন