সারপ্রাইজ ম্যারেজ — পর্ব ৭

#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ

MD Misad Ali

৭ম পর্ব

.

৬ষ্ঠ পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/692301241410314/

.

.

আলফী ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে এলো, এসে গল্প করছে রিমঝিমের সাথে। এমন সময় ফোন করল তাহমিনা।

-এই আলফী, এসব প্লান কি আমায় প্রপোজ করার জন্য ছিল নাকি আমায় সর্দি লাগানোর জন্য,,, হাঁ. হাঁ. হাঁচ্চি...

-আরে বলো কি? তোমারও সর্দি লেগে গেছে?

-আমারও মানে? তারমানে কি তোমারও সর্দি লেগেছে? তাহলে তো সমস্যা নাই, দুজনে একসঙ্গে ঔষধ খাওয়া যাবে। আর হ্যাঁ, সর্দি কিছুটা কমলে বিকালে দেখা করবা, ওকে?

-ওকে, কিন্তু কোথায়?

-আগে বিকাল হোক, তখন যানাবো।

.

এভাবেই কাটতে থাকলো দিন, মাস, বছর। তাদের মাঝে আন্ডার্স্ট্যান্ডিং খুব ভালো।

প্রায় তিন বছরের রিলেশনে ব্রেক করলো তাহমিনা। তাহমিনা আর আলফীর মাঝে সামান্য একটা বিষয়ে ঝগড়া লাগায়, ব্রেক আপ। আলফী অবস্য অনেকবার সরি বলেছে তাহমিনাকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছে, যদিও ভুলটা তাহমিনারই ছিল। কিন্তু অবশেষে ব্রেক-আপের তিনমাসের মাথায় তাহমিনার বিয়ে এক বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টের ছেলের সাথে হয়ে গেল। আলফীর মাথায় তো যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। চার বছরের রিলেশনের পর কিভাবে একটা মানুষ অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে? কত সপ্ন বুনেছিল দুজনে মিলে, কত কিছুর প্লান ছিল তাদের। কিন্তু আজ, সবকিছুকে ভুলে গিয়ে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করল তাহমিনা।

কেমন একটা হয়ে গেল আলফী, কারো সাথে সেইরকম কথা বলে না, কারো সাথে মিশে না। বাসা থেকে তেমন একটা বেরও হয়না, সব সময় ঘরের ভিতরেই থাকে। মাঝে মাঝে আত্মহত্যারও খেয়াল চাঁপে, কিন্তু পরক্ষণেই তার মা-বাবা আর ছোটো বোনের চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠে, সে আর আত্মহত্যাও করতে পারে না। ডিপ্রেশনের একদম হাই লেভেলে অবস্থান করছে আলফী। সারাক্ষণ শুধু ফোনের স্ক্রিনে তাহমিনার ছবি দেখতে থাকে, সারাক্ষণ শুধু তাহমিনার কথাই ভাবতে থাকে। তাহমিনাকে সে ভুলতে পারে না, তার বাবা-মা, ছোটো বোন সবাই আলফীকে বোঝানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যার্থ হয়। আড়ালে গিয়ে কাঁদে তারা, আলফীর এমন অবস্থা দেখে।

রিমঝিম ভাবে, এই অবস্থা থেকে বের হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে বেস্ট ফ্রেন্ড। তাই সে প্রথমে সিহাব এবং মাসুমকে ফোন করে। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাতে জানিয়ে দেয়, তারা আসতে পারবে না। অবশেষে রিমঝিম কিছুটা সংকোচবোধ করেও ফোন করে জারিফকে। রিমঝিম ভাবে, আলফী যাদের প্রকৃত বন্ধু ভাবতো তারাই তো তাকে সাহায্য না করে দূরে চলে গেল, তাহলে আলফী যার কথা না শুনে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব ত্যাগ করেছিল, সে কি এগিয়ে আসবে আলফীকে এই চরম পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে?

জারিফ ফোন রিসিভ করলে রিমঝিম সবকিছু বলল জারিফকে। সবকিছু শোনার পর জারিফ বিন্দুমাত্র দেরি না করে ছুটে এলো তার প্রিয় বন্ধুকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য।

জারিফ আসার ফলে রিমঝিম যেনো কিছুটা স্বস্থি পেল, কারণ রিমঝিম ভালো করেই জানে জারিম ঠিকই তাহমিনাকে ভুলতে আলফীর সহায়তা করবে এবং তাকে ঠিকই ডিপ্রেশন থেকে বের করে আনবে।

-আসসালামু আলাইকুম...' আলফীর রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল জারিফ

-ওয়ালাইকুম আসসালাম, জারিফ তুই এসেছিস? কেমন আছিস তুই?

-আলহামদুলিল্লাহ্, তুই কেমন আছিস?

-তোকে সেদিন ওভাবে না বললে আর তোর কথা শুনলে আজ আমার এই অবস্থা হতো না। আমাকে ক্ষমা করে দিস দোস্ত, তোকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি।

-আরে পাগল, তোর কথায় আমি কষ্ট পাইনি। আর তোর অবস্থানে আমি থাকলে হয়তো আমিও ঐরকমই বিহেব করতাম। তুই কি অবস্থা করেছিস নিজের? একটা মানুষ জীবন থেকে চলে গেলে কি জীবন থেমে থাকবে? তাকে তুই ভুলে যাচ্ছিস না কেনো?

-ভুলে যাবার কি কম চেষ্টা করেছি? কিন্তু আমি তাকে ভুলতেই পারছি না। যত ভুলতে চাইছি, তার স্মৃতি আমাকে আরো আঁকড়ে ধরছে। আমি তাহমিনাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না রে।

-তোর চেষ্টায় অবশ্যই কোনো না কোনো ভুল ছিল। কারণ মানুষ যদি পূর্ণ চেষ্টা করে তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আর তাহমিনাকে ভুলতে হলে তোর সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে ইচ্ছাশক্তি এবং মনোবল।

-চার বছর ধরে আমাদের রিলেশন ছিল, আমি যেখানেই যাই তার সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসে। এখন আমি কি করে তাকে ভুলতে পারি?

-আমাদের সবচেয়ে বড়ো ভুল কি জানিস? আমাদের সবচেয়ে বড়ো ভুল হচ্ছে আমরা তাদের ভুলে থাকতে চাই।

-কাউকে ভুলতে গেলে তাকে তো ভুলে থাকতেই হবে। এখানে ভুলের কি এলো?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল আলফী

-কাউকে ভুলে যাবার চিন্তা করলে যাকে ভুলে থাকতে চাই তার চিন্তা করেই প্রতিজ্ঞা করি। ফলে আমাদের সাব কন্সাস মাইন্ডে সেটা বারবার উপস্থিত হয়। সাব কন্সাস মাইন্ড শুধু যা ব্রেণে বেশি উপস্থিত হয় সেটা সেইভ করে ফেলে। তাই আমরা যত তাকে ভুলে যেতে চাইবো তত তাকে আঁকড়ে ধরবো।

-তাহলে তাকে ভুলতে চাইলে কি করতে হবে?

-আমরা সেই জিনিসটাকে ভুলে যেতে পারি, তাকে ভুলে যাবার চিন্তাটাই ভুলে গিয়ে। অর্থাৎ অন্য কোনো দিকে ব্রেণকে ট্রিগার করে।

-অন্যদিকে ব্রেণকে ট্রিগার করে কি আদ্যও ভুলে যাওয়া সম্ভব?

-আমরা অনেক সময় প্রত্যাক্ষণ করে থাকি, কোনো কারণে আমরা হাতে বা পায়ে প্রচুর ব্যাথা অনুভব করি, ব্যাথার কথা যত ভাবি তত ব্যাথার তিব্রতা বাড়তে থাকে। কিন্তু অন্য কোনোদিকে মনোযোগী হলে বা ঘুমালে আমাদের ব্যাথাটা কমে যায় বা অনেক সময় হারিয়ে যায়। ব্যাথাটা হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আমরা ব্যাথাটার কথা একদমই ভুলে যাই। এটাও ঠিক সেই রকমই, ব্রেণকে অন্যদিকে ট্রিগার করতে পারলেই তাকে ভোলা যাবে।

-আচ্ছা তাহলে ব্রেণকে কিভাবে ট্রিগার করবো অন্যদিকে? সব সময় কি ঘুমিয়েই থাকবো? আজকাল তো ঘুমের মধ্যেও আমি তাহমিনাকে দেখতে পাচ্ছি।

-আমরা সারাদিন যেগুলো বেশি বেশি কল্পনা করি, রাতে সেগুলোই স্বপ্ন হিসেবে দেখি। আর ব্রেণকে অন্যদিকে ট্রিগার করতে হলে নিজেকে সময় দিতে হবে, যা যা করতে ভালো লাগে তাই করতে হবে (অবশ্যই ভালো কাজগুলো), দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, কোরআন পড়তে হবে, সব সময় দোয়া জিকির করতে হবে যেমনটা রাস্তায় হাঁটার সময় আমরা গান বলি, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়তে হবে তাহলে স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখার সম্ভাবনা কমে যাবে। আর যেহেতু সকল সমস্যার সমাধান নামাজের মধ্যেই পাওয়া যায়, তাই ডিপ্রেশন কমে যাবে। খোদার সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়লে মানষিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। আর অনেকেই ডিপ্রেশন কমাতে মেডিটেশনের পরামর্শ দেন, কিন্তু মেডিটেশনের চাইতেও নামাজ বেশি ভালো কাজ করে ডিপ্রেশন কমাতে। আর একটা জিনিস আছে তোর যেটা তোর জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

-কি সেটা?

.

.

[][][][][] চলবে... [][][][][]

সারপ্রাইজ ম্যারেজ — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ