#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ
MD Misad Ali
৬ষ্ঠ পর্ব
.
৫ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/691514344822337/
.
-আমি কিছু বুঝিনা ভেবেছো, কোনটা এক্সামের দুশ্চিন্তা আর কোনটা অন্যকিছু?
-অন্যকিছু মানে? কি অন্য কিছু?
-ভাবিকে কখন বাসায় নিয়ে আসবা? আমিও তো দেখবো নাকি?
-ভাবি মানে? কোন ভাবি? কার ভাবি?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল আলফী
-কার ভাবি আবার? আমার ভাবি। তা ভাবির নাম কি? থাকে কোথায়? আর কি করে?
-তুই কার কথা বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
-গিফট কিনার সময় ঠিকই কিনতে পারো, কিন্তু আমাকে জানাতে পারো না। তাই না?
-তুই কোথায় ছিলি?
-তুমি যখন ভাবির জন্য গিফটগুলো কিনছিলে, তখন আমি ওখান দিয়েই বাসায় ফিরছিলাম।
-আব্বু-আম্মুকে আবার কিছু বলে দিসনি তো?' ভয়ার্ত কন্ঠে বলল আলফী
-এখনো বলিনি তবে তুমি যে দোকানে ভাবির জন্য গিফট কিনছিলে সেখানের একটা পায়েল আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ওটা যদি কিনে দাও তাহলে বলব না, আর না দিলে তো বুঝতেই পারছ।
-এটা কি ব্লাক মেইল করা হচ্ছে বড়ো ভাইকে?
-নাহ্, এটা বড়ো ভাইয়ার কাছে ছোটো বোনের একটা আবদার বলতে পারো।
-আচ্ছা তাহলে তোকে আর একটা কাজ করে দিতে হবে।
-আবার? কি কাজ?
-এই কালার পেপারগুলো খুব ছোট ছোট করে কেটে দিতে হবে।' একটা ব্যাগ থেকে কিছু কালার পেপার বের করে বলল আলফী
-আচ্ছা, বড়ো ভাই যখন বলল তখনতো কাজটা করতেই হবে। আর আমার আবদারটা মনে থাকে যেনো।
.
রিমঝিম তার রুমে ফিরে কাগজগুলো কাটতে শুরু করল। অপর দিকে আলফী রুমে এসে একটা ব্যাগ থেকে পায়েলটা বের করল। আলফী যখন দোকানে কিছু গিফট পেপার নিচ্ছিল তখনই রিমঝিমকে দেখেছিল সে। রিমঝিম একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল পায়েলটার দিকে, তাই আলফী তখনই কিনে ফেলেছিল। পায়েলটা টেবিলের উপর রেখে ব্যাগ থেকে বের করল একটা ছাতা, থ্রিলার গল্পের বই, তিনটা কদম ফুল, গিফট পেপার, টেপ এবং আঠা। বসে বসে বইটাকে গিফট পেপারের মোড়কে মুড়িয়ে নিল এবং তার উপরে কদম ফুল তিনটা আঠা আর টেপ দিয়ে ভালোভাবে লাগিয়ে দিল।
রাত দশটার সময় রিমঝিম এলো আলফীর রুমে।
-ভাইয়া, তোমার কাগজ রেডি। কাল তাহলে আমায় পায়েল এনে দিও।
-কাগজগুলো টেবিলের উপরে রাখ।
-তুমি কিভাবে জানলে ভাইয়া? আমি তো তোমাকে বাসায় আসার পরে বললাম, তারপরে তো তুমি আর বাইরে যাওনি। তাহলে পায়েলটা কিভাবে আনলে?' টেবিলের উপরে কাগজগুলো রাখতে গিয়ে পায়েলটা দেখে আশ্চর্য এবং খুশি হয়ে বলল রিমঝিম
-আমি তোর বড়ো ভাই, আমি না বুঝলে কে বুঝবে কোনটা তোর পছন্দ আর কোনটা নয়?
-ধন্যবাদ ভাইয়া, অসংখ্য ধন্যবাদ।
.
আলফী আর রিমঝিম বসে বসে গল্প করছে। আলফী তাহমিনার সমন্ধে সবকিছুই বলল এবং বলল কালকের প্লানের ব্যাপারে। রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাক দিলেন তাদের আম্মু। খাবার খেয়ে রুমে এলো আলফী, এসে মাসুমকে ফোন করে জেনে নিলো ট্যাংক পাওয়া গেছে। তারপরে সারারাত সবকিছু চিন্তা করতে থাকলো, কালকে কি কি করবে, কিভাবে প্রপোজ করবে এইসব।
পরদিন সকাল,
আলফী ফ্রেস হয়ে নাস্তা না করেই বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে। সোজা চলে গেল মাসুমের বাসায় এবং সেখানে গিয়ে সিহাবকে ফোন করে ডেকে নিল। মাসুম আর সিহাবকে প্লানটা ভালোভাবে বুঝিয়ে দিল, তারপর আধা ঘন্টা পরে আসছি বলে কোথায় যেনো চলে গেল। একেবারে ৩০ মিনিট পর ফিরে এলো আলফী। তারা সবাই বসে আছে এক ফুলের বাগানের পাশের রাস্তার ধারে। ফুলের সৌরভে চারিদিক সুরভিত। তারা অপেক্ষা করছে তাহমিনার। আজকে শীতটা একটু বেশিই পড়েছে বলে মনে হচ্ছে আলফীর। আলফীর ইশারা পেয়ে মাসুম আর সিহাব চলে গেলো তাদের নির্দিষ্ট স্থানে। মাসুম, সিহাব আর আলফী ফোনে কনফারেন্স কলে কানেক্ট হয়ে আছে, আর তাদের প্রত্যাকের কানেই লাগানো আছে ব্লুটুথ হেডফোন।
অপরদিকে তাহমিনা তাদের বাসা থেকে বেরিয়ে তার ফ্রেন্ড জেরিনের বাসায় গেল জেরিনকে ডাকার জন্য।
-সরি রে, মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে, তাই আজ ভার্সিটি যেতে পারবো না। তুই একাই চলে যা।' বলল জেরিন
-ওকে, তুই ঔষধ খেয়ে নিস। ঠান্ডায় একটু গরম চা খাওয়ার অভ্যাস কর।
-আর হ্যাঁ তুই এই ছাতাটা নিয়ে যা, রাস্তায় কাজে দিতে পারে।
-তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? এই শীতের দিনে কি কেউ ছাতা নিয়ে যায়?
-আর নিয়ে যা, বাসায় ফেরার সময় যদি রোদ্রের তাপ বেশি থাকে তাহলে কাজে দিবে।
-কথাটা খারাপ বলিস নি, দে সাথে রাখতে দোষ কি।
.
তাহমিনা জেরিনকে বিদায় দিয়ে রওয়ানা দিল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।
আলফী দূর থেকে দেখতে পেল তাহমিনাকে। সে মাসুদ আর সিহাবকে এ্যলার্ট থাকতে বলল।
তাহমিনা এগিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ দেখে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তাহমিনা তাড়াতাড়ি ছাতাটা ওপরে অন করলো, সঙ্গে সঙ্গে রঙ্গিন কাগজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরো তার মাথায় আর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। ঠিক এই সময় আলফী এসে হাঁটু গেড়ে তাহমিনার দিকে গিফট পেপারে মোড়ানো বই আর কদম ফুলটা এগিয়ে দিল।
-দেয়্যার আর নাথিং এ্যনিওয়ান এলস হু কুড ডু বেটার জব টু রাইজিং আওয়ার চিলড্রেন দ্যান ইউ। উইল ইউ বি মাই লাইফ পার্টনার ফর এভার?' হাঁটু গেড়েই বলল আলফী
-ইয়েস।' হঠাৎ এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় প্রচুর সারপ্রাইজড হয়ে বলল তাহমিনা
.
তাহমিনার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে এটা বাস্তবে ঘটছে তার সঙ্গে। ভাবছে, স্বপ্ন দেখছি না তো। দেরি না করে তাড়াতাড়ি আলফীর কাছে থাকা বইটা নিয়ে নিল।
এদিকে আলফী পানিতে ভিজে একাকার, তবুও এতটা আনন্দে সে আজ আত্মহারা। পৃথিবী জয়ের চেয়েও বেশি আনন্দের স্রোত তার মনে বয়ে চলেছে। কোথায় কি ঘটল তা নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা নাই।
সিহাব তাড়াতাড়ি পানি প্রবাহ বন্ধ করল, অন্যথায় এমন শীতে এভাবে ভিজলে আলফীর সর্দি লাগাটা নিশ্চিত। সিহাব আর মাসুম আলফীর দিকে ফিরে আসে এবং দেখে আলফী আর তাহমিনার দুটো শরীর এক হয়ে গেছে। তারমানে, দুজনেই ভিজছিল ঐ পানিতে। পানির লাইন অফ করায় হয়তো ভুল হয়েছে ভাবলো সিহাব।
আলফী সিহাব আর মাসুমকে দেখে একটু দূরে সরে এলো। তাহমিনার আর ভার্সিটি যাওয়া হলো না, ফিরে আসতে হলো বাসায়। চুপিচুপি বাসার ভিতরে ঢুকে কোনো রকমে নিজের রুমে প্রবেশ করে ড্রেস চেঞ্জ করলো। কিন্তু একটাই ভয় হচ্ছে, সর্দি না লেগে যায়।
আলফীও বাসায় ফিরে এসেছে, তাকে রিমঝিম দেখে বলল,
-কি ভাইয়া? প্লানতো দেখি কাজ করে গেছে।
-কিভাবে বুঝলি?
-তোমার মুখ দেখে যে কেউই বলে দিতে পারবে। তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে নাও।
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন