সারপ্রাইজ ম্যারেজ — পর্ব ৮

#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ

MD Misad Ali

৮ম পর্ব

.

৭ম পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/692983601342078/

.

-বাইরে কোথাও ঘুরতে যা, মানুষের জীবন-যাপন দেখ, প্রকৃতিকে অনুভব কর তথা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব কর, উপভোগ কর নিজের জীবনটাকে। একটা পাখি যেমন খোলা আকাশের নিচে মুক্তভাবে ডানা মেলে উড়ে যায় দূর দিগন্তে, ঠিত তেমনি তুইও চলতে থাক। এভাবে ২১ দিন যদি অন্য কিছু নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে পারিস, তাহলে তাহমিনাকে খুব সহজেই তোর স্মৃতি থেকে ডিলিট করতে সক্ষম হবি এবং এটা হবে সাব কন্সাস মাইন্ডের জন্য। ২১ দিনের ভিতরেই মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হয়।' বলল জারিফ

-তাহলে আমি কোথায় যাবো?' আলফী বলল

-যেখানে তোর ইচ্ছা হয়, কাল থেকে পুরো দেড় মাস বাসায় আসবি না। আমি সব ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি, তুই প্রস্তুত থাকিস। আর নামাজ, দোয়া-জিকির, কোরআন শরিফ পাঠ এবং আয়াতুল কুরসি পড়তে ভুলিস না। মানুষের জীবন-যাপন দেখলে বুঝতে পারবি, কত মানুষ তোর থেকেও বেশি কষ্টে আছে। তোর যেখানে ইচ্ছা যাবি, কিন্তু একটু সাবধানতা অবলম্বন করবি।

-আমার কি কি ভালোলাগে সেটা তো আমার চাইতে তুই বেশি ভালো বুঝিস, তুই বল কোথায় যাবো?

-নিজের মনকে প্রশ্ন করবি, কোথায় গেলে তোর ভালোলাগবে, কি করলে তোর ভালোলাগবে। তোর মত ঠিকই সঠিক উত্তর দিবে।

-কিন্তু...

-কোনো কিন্তু নয়, তুই কালকে যাবি তোর যেখানে ইচ্ছা হয়।' আলফীকে বাধা দিয়ে বলতে থাকল জারিফ', তুই কি একটা কথা সত্য করে বলবি?

-কি কথা?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল আলফী

-আমি আসার পর তাহমিনার কথা কয়বার মনে এসেছে তোর?

-দুই কিন্বা তিনবার, কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?' ভিষণ আশ্চর্য হয়ে বলল আলফী

-হাহ হা, এইটাকেই বলে মাইন্ডে অন্যদিকে ট্রিগার করা। যতক্ষণ তুই কোনো কাজে ব্যাস্ত থাকবি, তোর ব্রেণ ঐ কাজ ছাড়া অন্য কোনোদিকে মনোযোগ তেমনটা দিবে না।

-আসলেই, আমি যেখানে তাহমিনাকে ছাড়া অন্য কিছু কল্পনাও করতে পারছিলাম না, সেখানে এতক্ষণ ধরে তাকে ভুলে ছিলাম। তারমানে আমিও পারবো তাহমিনাকে ভুলে যেতে।

-তুই বলছিলি না, তোর ভিতরে মনোবল নেই তাহমিনাকে ভুলে থাকার মত? এই নে চলে এসেছে মনোবল, এখন শুধু এই মনোবলটাকেই ধরে রাখতে হবে।

-আমি আর কখনোই এই মনোবল হারাবো না, এমনকি হারাতে দেবো না।

-গুড বয়, আমার একটু কাজ আছে রে, তাই যেতে হবে। ইশরার জন্য কিছু খেলনা কিনতে হবে।

-ইশরা মামনী কেমন আছে?

-ভালোই আছে, তবে একটু দুষ্টামী বেশি করছে।

-ছোটোতে সবাই একটু আধটু দুষ্টামী করেই। আর সে তো একটু বেশি করবেই, দেখতে হবে না মেয়েটা কার।

-তুই কি বলতে চাইছিস, আমি ছোটোতে বেশি দুষ্টামী করতাম?

-সত্য বলতে ভয় কিসের? তুই তো অনেক দুষ্ট ছিলি।

-তুই কি তাহলে খুব ভালো ছেলে ছিলি? তুই তো আমাদের হেডমাস্টার ছিলি, আর আমরা সেখানের ছাত্র।

-এটা কিন্তু একটু বেশিই হয়ে গেল জারিফ। আমি ছোটোতে কত ভালো ছিলাম, তোর মনে নাই? স্যারের আমায় কত আদর করে বলত, বড় হয়ে এই ছেলেই কিছু একটা করবে জীবনে।

-আমিতো কিছু একটা বলতে অন্যকিছু ভাবতাম,,,

-আহা, তুইও না...

.

আলফী আর জারিফের হাঁসির শব্দ শুনে ছুটে এলো রিমঝিম। সে যেনো নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কত চেস্টার পরেও ভালোভাবে কথা বরছিল না আরফী। কিন্তু জারিফ এসে কত সহজেই সবকিছু ঠিক করে দিল। জারিফের বিয়েতে আলফীকে অনেকবার ডাকার পরেও যায়নি আলফী। কিন্তু আলফীর এই রকম পরিস্থিতিতে জারিফই এগিয়ে এল।

জারিফ বেরিয়ে গেল আলফীদের বাসা থেকে। আলফী রুম থেকে বেরিয়ে সোজা ছাদে চলে গেল। ছাদে মুক্ত হাওয়ায় কতদিন থেকে শ্বাস নেয়নি আলফী। খোলা আসমানের নিচে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকলো, সাদা তুলার মেঘ, পুবদিগন্তে কিছুটা কালো মেঘ, নীল আকাশ, সূর্য আর তার নিচে পাখিদের এলোমেলো উড়ে বেড়ানো, চারিদিকে ঘন সবুজ গাছ। এসব দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায় আলফীর। পিছন থেকে কাঁধে হাত রাখে রিমঝিম।

-আজকে প্রকৃতি কত সুন্দর, তাই না ভাইয়া?' বলল রিমঝিম

-প্রকৃতি তো সবসময় সুন্দর-ই হয়, শুধু আমরা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে পারি না।

-কিন্তু কিছুদিন থেকে প্রকৃতি কেমন জানি নিস্তেজ হয়ে ছিল, আজকে প্রকৃতি আবার আগের সৌন্দর্য ফিরে পেয়েছে। ফিরে পেয়েছে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার মানুষটাকে। আজকে তাইতো পশ্চিম আকাশে রংধনুর দেখা মিলেছে।

-আরে তাই তো' অবাক হয়ে দেখল আলফী

.

ধীরে ধীরে রংধনু বিশাল আকার ধারণ করছে।

-বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল এই সাতটা রং মিলে তৈরি হয় রংধনু।' নিজের অজান্তেই কথাগুলো মুখ থেকে বের হলো আলফীর

-না ভাইয়া, এই রংগুলো রংধনুর রং নয়। এগুলো সূর্যের আলোতে থাকা সাত রং। যখন সূর্যের কিরণ মেঘ ভেদ করে আসে, তখন পানি ভেদ করে আসার ফলে সূর্যের এই সাতটি রং আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়। আলোকে অন্ধকার কখনোই আটকে রাখতে পারে না, আলো ঠিকই বেরিয়ে আসে অন্ধকারের বুক চিরে। রাত যতই ঘন কালো হোক না কেনো, পরদিন সকালে সূর্য ঠিকই তার কালোকে দূর করে দেয়। আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হয় এক নতুন ভোরের।' বলল রিমঝিম

-দেখ দেখ, হঠাৎ করে কতগুলো প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।

-সত্যিই তো, অনেক সুন্দর প্রজাপতিগুলো, এদের প্রজাতিকে বলে ব্লু মরফো বাটারফ্লাই। প্রজাপতির হাজার হাজার প্রজাতির মধ্যে ব্লু মরফো অন্যতম। যদিও একটা প্রজাপতির বয়স মাত্র কয়েক মাস, তারপরেও এদের দেখলে খারাপ মনটাও ভালো হয়ে যায়। প্রজাপতির বয়সের দুই তৃতীয়াংশ সময় এরা পোকার রুপে থাকে।

.

ওদের কথাবলার মধ্যেই ছাদে আসে আলফীর বাবা-মা। তারা আলফীকে এভাবে দেখে ভিষণ খুশি, অনেকদিন পর আলফী ছাদে এসেছে। ছাদের এককোনে আলফীর লাগানো গাছগুলোর পাতা কেমন যেনো হলুদ বর্ণের হয়ে গেছে। আলফীর ছাদ বাগানে কিছু ফুল আর ঔষধী গাছ লাগানো আছে। হয়তো যত্নের অভাবে গাছগুলোর এমন অবস্থা, কিন্তু রিমঝিম তো গাছগুলোতে ঠিকই পানি দিত, আগাছা পরিষ্কার করতো। তাহলে হতে পারে তার প্রকৃত মালিকের এমন করুণ পরিস্থিতি তারাও সহ্য করতে পারে নি।

সন্ধার আকাশ, সেজেছে এক নতুন রুপে, নতুন রংয়ে। ধীরে ধীরে রংয়ের পরিমানটা আরো গাঢ় হচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সত্যিই অনেক মাদকতা আছে।

রাতে নামাজ পড়ে এসে সবার সাথে গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ করল আলফী। খাওয়া শেষ করে এক পারা কোরআন পড়ল এবং শুয়ে শুয়ে আয়তুল কুরসি পড়লো আর দোয়া জিকির করতে থাকলো।

দোয়া জিকির করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই পারেনি আলফী।

ফজরের আজানের ধ্বনি কানে যেতেই ঘুম ভাঙ্গলো আলফীর।

.

.

[][][][][] চলবে... [][][][][]

সারপ্রাইজ ম্যারেজ — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ