#কানন_সিরিজ_৩
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?
MD Misad Ali
৫ম পর্ব
.
৪র্থ পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/702634223710349/
.
কানন বলতে শুরু করলো,
-আমি প্রথম ক্লু পেয়েছিলাম জানালা থেকে। আপনারা হয়তো খেয়াল করেননি, জানালার উপরের দেয়ালে দড়ি ঘর্ষণের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তারপর আমি দড়িটা নিলাম, যে দড়িটা দিয়ে শরিফ সাহেবকে ঝোলানো হয়েছিলো এবং আমার ধারণা আরো শক্ত হলো। দড়িটার গেরো দেওয়ার সময় বাম থেকে ডানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাধারণত একজন লেফ্ট হ্যান্ডেড মানুষ কখনোই বাম থেকে ডানে নিয়ে গেরো দেয় না। অর্থাৎ যে দড়িটা বেঁধেছে সে ১০০% রাইট হ্যান্ডেড। তারপর যখন উপরের রুমটাতে গেলাম, সন্দেহ কিছুটা বেড়ে গেলো দরজার তালা দেখে। বাঁকি তালাগুলোতে ধুলো জমে থাকলেও ঐ রুমের তালা একদম পরিষ্কার। ভিতরে গিয়ে দেখলাম, রুমের ফ্লোরে পানি আর সিলিংয়ের একটা রড বের হয়ে থাকে ফ্যান ঝুলানোর জন্য, সেখানে দড়ি বাঁধার চিহ্ন। যেই চিহ্ন ৪র্থ তলার রুমটার, অর্থাৎ শরিফ সাহেবের রুমের ঠিক উপরের রুমের জানালার নিচ দিকের দেয়ালেও পেয়েছি, দেয়ালের কিছু অংশের রং উঠে গেছে। ছাদে সেরকম কিছুই পেলাম না তাই নিচটা দেখতে এলাম। আর নিচে এসে পেয়ে গেলাম এই হুক। এখন আমি ক্লিয়ারভাবে বুঝতে পারছি কিভাবে হত্যা করা হয়েছে আর আত্মহত্যার রুপ দেওয়া হয়েছে।
-অস্বাধারণ, বিষয়গুলোর কিছুটা আমারো নজরে এসেছিলো। কিন্তু আমি এরকম কিছু ভাবিই নি।' অতি আশ্চর্য হয়ে বললাম
-ওহ মোর আল্লাহ্। হত্যাকারীতো তাহলে অনেক চতুর। কিন্তু মোটিভ অফ মার্ডার কিছু বুঝতে পারলে?
-খুনির মোটিভতো এখনো বুঝতে পারি নি। তবে যখন এটা জানতে পেরেছি কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, তখন মোটিভও বেরিয়ে আসবে। আর যাই হোক খুনি কিন্তু প্রফেশনাল। নাহলে এতটা নিঃখুতভাবে কাজ সারতে পারতো না।
-তাহলে খুনি খুন করলো কিভাবে?
-খুনি প্রথমত কমপক্ষে ৩-৪ দিন থেকে হত্যার পরিকল্পণা করেছে। গতকাল সন্ধায় উপরের রুমটাতে গিয়ে (তালা কিন্তু ভাঙ্গেনি, মানে চাবি ওর কাছেই ছিলো) সিলিংয়ে দড়ি বেঁধে নিচে ফেলেছে। তারপর শরিফ সাহেবের রুমে এসে লুকিয়ে অপেক্ষা করছিল। শরিফ সাহেব রুমে আসে আর এসে কিছু একটা লিখছিল। তারপর যখনি ঘুমাতে গেছে, খুনি বেরিয়ে এসে মুখ চেপে ধরে আর গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করে। অতকিত হামলার কারণে শরিফ সাহেব তেমনটা বাধা দিতে পারেন নি। শরিফ সাহেব মারা যাওয়ার পর ডেডবডিটা শিলিংফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয় হত্যাকারী। চেয়ারটা নিচে ফেলে দেয়, আর কাগজটা সাথে করে নিয়ে যায়। বেরিয়েছে জানালা দিয়ে, যেহেতু বৃষ্টি শুরুর আগেই হত্যাকারী রুমে এসেছিলো। তাই রুমে পানির ছিটেফোটাও পাওয়া যায়নি। কিন্তু বেরিয়েছে জানালা দিয়ে, যখন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিলো। দড়ি ভিজে গিয়েছিলো আর উঠতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিলো। উপরের রুমটায় পৌঁছে দড়ি খুলে, দরজা লাগিয়ে বিদায় নেয় হত্যাকারী। কিন্তু পানি রেখে যায় ফ্লোরে।
-অপরাধী যতই চেষ্টা করুক, কোনো না কোনো প্রমাণ রেখেই যায়।
-অন্য ভাড়াটিয়ারা বলছিলো, উনি বেশ কয়েকদিন থেকেই নাকি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। সেটা কত তারিখ থেকে জানতে হবে আর সেদিন তিনি কোথায় কোথায় গেছেন সেটাও খোঁজ করতে হবে। হয়তো এর ভিতরেই হত্যাকারীর দেখা মিলতে পারে।
-কিন্তু একজন মৃত ব্যাক্তি কোথায় কোথায় গেছে সেটা জানা কি সম্ভব হবে?
-চেষ্টাতো করতেই হবে। হইতো পাওয়া যেতেই পারে হত্যাকারীর সন্ধান।
-আমি তাহলে জিজ্ঞাসা করে আসি। আর দেখো কিছু পাও কি না।
.
ওসি স্যার চলে গেলেন। আমি আর কানন গিয়ে একটা ব্রেঞ্চে বসলাম। কানন কিছু একটা চিন্তা করছে। কিছুক্ষণ পর বললো,
-বুঝলে আলফী, আমার সন্দেহ কিন্তু বাড়িওয়ার দিকেই যাচ্ছে।
-তারমানে, তুমি বলতে চাইছ যে, বাড়িওয়ালাই হত্যা করছে শরিফ সাহেবকে?
-বাড়িওয়ালা না করলেও আমার মনে হয় সে হত্যাকারীর সাথে জড়িত।
-কেনো এরকম মনে হচ্ছে তোমার?
-কারণ, রুমগুলোর তালার চাবী শুধুমাত্র বাড়িওয়ালার কাছে থাকে। আর দুইটা রুমের তালাই হত্যাকারী চাবী দিয়ে খুলেছে। এখন প্রশ্ন হলো, হত্যাকারী চাবী কোথায় পেলো? যদি সে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে আবার ফেরত দেয় সেটা অন্যরকম ব্যাপার। কিন্তু যদি বাড়িওয়ালা নিজেই দিয়ে থাকে,
-আমার কিন্তু মনে হয়না যে বাড়িওয়ালা হত্যাকারীর সাথে জড়িত।
-কেনো? কেনো তোমার মনে হয়না?
-যদি বাড়িওয়ালা হত্যাকারীর সাথে থাকতো তবে ধরা পড়ার ভয়ে তালা কখনোই চাবী দিয়ে খুলতো না, তালা ভেঙ্গে ফেলতো। কারণ, হত্যাকারী অনেক ধুর্ত, তাই সে এরকম একটা ভুল কখনোই করবে না।
-কিন্তু সকল অপরাধীই তার অপরাধের কোনো না কোনো চিহ্ন ফেলে যায়। অনেক চেষ্টার পরে কোনো অপরাধ পার্ফেক্টভাবে কম্পিলিট করা যায় না, কোনো না কোনো ভুল থেকেই যায়। আর এটা একটা ভুলও হতে পারে।
-হতে পারে, কিন্তু যদি এটা ভুল না হয়ে ধোঁকা হয় তবে?
-আগে হত্যাকারীকে খুঁজে বের করি তারপর বিবেচনা করে দেখবো, এটা ভুল নাকি ষড়যন্ত্র।
.
আমাদের কথা বলার মাঝেই ওসি স্যার এসে পৌঁছালেন। এবং বললেন,
-হ্যাঁ কানন, শরিফ সাহেব গত ৪ দিন যাবত একটু অন্য রকম আচরণ করছিলেন। তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে ছিলেন, আর ঘটণাটা লক্ষ্য করেছে অন্য ভাড়াটিয়ারা ৪ দিন আগে যখন তিনি ব্যাংক থেকে ফিরেন তখন থেকে। কিন্তু সেদিন ব্যাংকে যাবার পূর্বে তিনি স্বাভাবিকই ছিলেন।
-তারমানে শরিফ সাহেব ব্যাংকে যাবার সময় অথবা ব্যাংক থেকে ফিরার পথে কিছু একটা হয়েছিলো। আমাদের একবার ঐ ব্যাংকে যেতে হবে যেখানে শরিফ সাহেব কাজ করতেন। হয়তো কোনো ক্লু পেয়ে যেতে পারি।
-তোমরা যাও, কোনো প্রবলেম হলে আমায় ফোন করবে। এখানে এখন অনেক কাজ আছে।
-আপনি না গেলেই ভালো স্যার, আপনাকে দেখে হত্যাকারী হয়তো গর্তে লুকিয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া, এটা যে আত্মহত্যা নয় হত্যা এটা অন্তত আজকের দিনটা গোপন রাখেন। কাল সকালের মধ্যেই আপনার সামনে হত্যাকারীকে হাজির করবো।
-ওকে, সেটা নিয়ে তুমি টেনশন নিয়ো না। আমি সবটা সামলে নিবো।
.
তারপর আমি আর কানন ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। আর প্রায় ২০ মিনিট পর পৌঁছলাম ব্যাংকে। গেটে গিয়ে দারোয়ানকে কানন জিজ্ঞাসা করলো,
-আচ্ছা, এই ব্যাংকেরই কি শরিফ সাহেব ম্যানেজার?
-আপনারা পুলিশের লোক বুঝি,
-নাহ্, আমরা পুলিশের লোক নই। আমরা জানালিজম স্টুডেন্ট, পাশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা জানালিজম পড়ছি। শরিফ সাহেবের বিষয়টা নিয়ে একটা প্রোজেক্ট দিয়েছে আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
.
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন