#কানন_সিরিজ_৩
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?
MD Misad Ali
৩য় পর্ব
.
২য় পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/700838633889908/
.
.
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা প্রস্তুত করছি আমি আর কানন। ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গেছে, সারারাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো কাননের। কিছুটা দূরে গিয়ে কথা বললো কানন এবং ফিরে এসে বললো,
.
-ওসি স্যার ফোন করেছিলেন। পাশেই একটা বাড়িতে একজন আত্মহত্যা করেছে। ওসি স্যার ওখানেই আছে একজন কন্সটেবল পাঠাচ্ছেন আমাদের নিয়ে যেতে।
-আত্মহত্যা করেছে! তো তুমি গিয়ে কি করবে?
-আরে চলো গিয়ে দেখে আসি ঘটনা কি।
-তাহলে নাস্তা শুরু করো তাড়াতাড়ি।
.
আমি আর কানন নাস্তা শেষ করে প্রস্তুত হলাম। কানন তার ব্যাগে কি যেন নিলো। এরমধ্যে উপস্থিত হলো এক পুলিশ কন্সটেবল। তার সঙ্গে আমরা এগিয়ে চললাম ঘটনাস্থলের দিকে। সেখানে যেতে প্রায় মিনিট ১৫ সময় লাগলো। বাড়িটার বাইরে অনেক মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা গেল। বাড়িটা ৪ তলা, যিনি আত্মহত্যা করেছেন, তিনি থাকতেন ৩য় তলায়। আমরা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখা মিললো ওসি স্যারের।
ওসি স্যার আমাদের দেখে এগিয়ে এলেন এবং বললেন,
-ওহ কানন এসেছো, এই রুমে তিনি একা ভাড়া থাকতেন। আর বাসার অন্য সদস্যদের মতে, শরিফ সাহেব গত ৩-৪ দিন থেকে বিষন্নতায় ভুগছিলেন, এর কারণেই হয়তো আত্মহত্যা করেছেন। এখন তুমি একটু পর্যবেক্ষণ করে দেখ, কি পাও। তুমি যেহেতু এখানেই আছো তাই তোমাকে ডাকলাম, এমনিতেই কেস সলভ হয়ে গেছে। এটা আত্মহত্যা, কারণ দরজা ভিতর থেকে লাগানো ছিলো। বাড়ির কাজের লোক সকালে ঝাড়ু দেওয়ার জন্য দরজা খুলতে বলছিলো, কিন্তু তিনি দরজা খুলছিলেন না। অগত্যা বাসার অন্য ভাড়াটিয়াদের ডেকে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখে শরিফ সাহেবের দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলছে, নিচে চেয়ারটা পড়ে আছে। তখন আমায় ফোন করে, আমি এসে দেখি তখনো লাস ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। আমরাই লাসটাকে নিচে নামিয়েছি স্বযত্নে।
-তারমানে ঘরের দরজা-জানালা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল?
-না, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিলো কিন্তু নদীর দিকের জানালাটা খোলা ছিল। আর জানালার আশে-পাশে কোনো পাইপ নেই যার দ্বারা কেউ ভিতরে আসতে পারে, আবার নিচে তিক্ষ্ণ কাঁটাযুক্ত একটা কুল গাছ আছে যার নাগাল জানালা থেকে অনেকটা নিচে। আর কেউ যদি ওখান দিয়ে উপরে উঠতেও চায়, তাহলে তিক্ষ্ণ কাঁটাতে তার শরীরের অনেক জায়গা জখম হয়ে যাবে। কিন্তু সেরকম কোনো চিহ্নও কুল গাছে নেই, এমনকি গাছের কোনো ডাল ভেঙ্গেও নেই। আর গত রাতে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়েছিলো, এরকম বৃষ্টির মাঝে গাছে ওঠা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
-সব প্রশ্নের উত্তরই আপনার কাছে প্রস্তুত দেখছি। তা খুব ভালো, কিন্তু রুমটাও পরীক্ষা করে দেখি অন্য কোনো প্রশ্ন পাই কি না।
-হুম, সেজন্যই তো তোমাকে ডাকা। তোমার কাজ শুরু করতে পারো।
.
আমি আর কানন রুমটায় প্রবেশ করলাম। রুমটার ভিতরে দেখলাম, একটা চৌকিতে শরিফ সাহেবের ডেড বডি রাখা হয়েছে। জানালাটা তখনও খোলা, একটু কৌতুহল নিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলাম, ওসি স্যারের কথার হুবহু মিল আছে। নিচের কুল গাছটা ২য় তলার জানালার সমান উচু। আশেপাশে কোনো পাইপ বা এ জাতীয় কিছুই নেই, জানালার বাইরে প্রায় ১৫-২০ ফিট দূর দিয়ে মহানন্দা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। কানন তার ব্যাগ থেকে একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করলো, এবং সব কিছুকে ভালোভাবে পরখ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে ওসি স্যারকে বললো,
-স্যার, শরিফ সাহেব বাম হাতী ছিলেন। তাইনা ?
-হ্যাঁ, কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে?
-এই দেখেন স্যার, ইনি রাতে মারা যাবার আগে কিছু একটা লিখছিলেন।' শরিফ সাহেবের বাম হাতের দিকে নির্দেশ করে বলতে থাকলো কানন' আমরা লিখতে লিখতে নিজের অজান্তেই হাতে কলমের কালির উপস্থিতি টের পাই। বাম হাতে দেখেন কলমের কালি যেটা ডান হাতে নেই। আর একজন ডানহাতী মানুষ কখনোই তাড়ার মাঝে বামহাতে লিখবে না।
-তুমি কিভাবে বুঝলে যে উনি তাড়ার মাঝে লিখছিলেন, কাগজটা কি পেয়েছো?' অবাক হয়ে বললেন ওসি স্যার
-না কাগজটা পাইনি কিন্তু এই যে দেখেন, বাম হাতের বিভিন্ন স্থানের কালিটা ক্ষিণ হয়ে গেছে, আর হাতে কাগজের ঘসা লাগার চিহ্নও আছে, যেমনটা খুব তাড়ায় লিখতে গিয়ে হয়। আপনি অনেক আগেই পড়ালেখা শেষ করেছেন, কিন্তু আমরা জানি, পরীক্ষার হলে আড়াই ঘন্টাতে যতটা হাতের সাথে ঘসা লাগে তার থেকে দ্বিগুনেরও বেশি লাগে শেষের আধা ঘন্টায়। পরীক্ষা শেষে হাতের জিওগ্রাফিই চেঞ্জ হয়ে যায়।
-বুঝলাম শরিফ সাহেব আত্মহত্যা করার আগে কিছু একটা লিখেছিলো, কিন্তু সেটা কোথায়?
-সেটাতো খুঁজে বের করতে হবে। আর স্যার, একটা কথা কিন্তু এখনো বলেননি।
-কি কথা কানন ?
-শরিফ সাহেব কি কাজ করতেন, আর উনার ফ্যামিলি মেম্বার কত জন?
-শরিফ সাহেব এখানের একটা ব্যাংকের ম্যানেজার পদে নিযুক্ত ছিলেন। ওনার গ্রামের বাড়ি বরিশাল, ওখানে শুধু ছোটো ২টা ভাই, স্ত্রী আর একটা মেয়ে থাকে। শরিফ সাহেব এখানে একা থাকতেন।
-ওনার বাসার লোক-জনকে ফোন করে জানানো হয়েছে নিশ্চয়।
-হ্যাঁ, ওরা সন্ধা নাগাদ চলে আসবে।
-ঠিক আছে, কিন্তু দড়িটা কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না যে।
-ওটাতো উইটনেশ ব্যাগে রেখেছি। দাঁড়াও দেখাচ্ছি।
-জ্বী, একটু নিয়ে আসেন কষ্ট করে।
.
ওসি স্যার কাননকে দড়িটা এনে দিলো। কানন আবার তার ম্যগনিফাইং গ্লাস দিয়ে কি যেনো দেখতে লাগলো খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে। দড়িটা কিছুক্ষণ দেখার পর জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো। এবং ওসি স্যারকে জিজ্ঞাসা করলো,
-আচ্ছা স্যার, এর উপরের রুমটায় কে বা কারা থাকেন?
-সেটাতো জানিনা, দাঁড়াও বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করছি।' বলেই ওসি স্যার এক কন্সটেবলকে উদ্দেশ্য করে বললেন' সজিব, বাড়িওয়ালাকে ডাক দাও ।
-কোনো প্রশ্ন আছে স্যার ?' বাড়িওয়ালা রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল
-হ্যাঁ, সেইজন্যইতো আপনাকে ডাকলাম। আচ্ছা, এই রুমের ঠিক উপরের রুমটায় কে বা কারা ভাড়া থাকে?
-পুরো ৪থ তলায় তো কেউই থাকে না স্যার। ফাঁকা আছে ৪থ তলা, তাই ওখানে পুরোনো আসবাবপত্র রেখেছি। তারপরও প্রায় ৪-৫ মাস থেকে সবগুলো রুমই তালা বদ্ধ ৪থ তলার।
-রুমের চাবি কার কাছে থাকে?' কানন জিজ্ঞাসা করল
-আমার কাছেই থাকে চাবি।
-ওয়েল, একবার উপর তলায় চলুন। দেখা যাক কিছু পাওয়া যায় কি না।' বলল কানন
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন