#কানন_সিরিজ_৩
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?
MD Misad Ali
৮ম পর্ব/অন্তিম পর্ব
.
৭ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/705134173460354/
.
-ওহ, তাহলে তো অনেক দাম এগুলোর।' বলল কানন
-হ্যাঁ, দামতো আছেই, একটার দাম বাংলাদেশী টাকার প্রায় দশ হাজার, আর এখানে পাঁচটা বোতাম আছে।' একটু গর্ববোধ নিয়ে বলল শাহিন আলম
-কিন্তু আমিতো চারটা বোতাম দেখলাম। আরেকটা কোথায়?
-কিহ্, এখানে তো পাঁচটা বোতামই থাকার কথা।' ভালোভাবে রেইনকোর্ট পরখ করে বলতে থাকল শাহিন আলম' সত্যিইতো আরেকটা বোতাম গেল কোথায়? কালকে তো পরার সময় ঠিকই ছিল।
-বড় আশ্চর্য বিষয় শাহিন সাহেব, আপনি বাড়ির বাইরেই যাননি কালকে। তাহলে রেইনকোর্ট পরে কি করছিলেন?
-এমনিই ঐ বের হবো ভাবছিলাম তাই পরেছিলাম। পরে বৃষ্টির প্রকপ বেড়ে যাওয়ায় আর বের হইনি।' ইতস্থিত হয়ে বলল শাহিন আলম
-তাহলে বোতামটা আপনার বাসা মধ্যেই কোথাও পড়ে থাকার কথা।
-হ্যাঁ, আছে হয়তো কোথাও পড়ে।
-বুঝলে আলফী, ইনি বলছেন, কালকে কোথাও যাননি। কিন্তু এনার রেইনকোর্টের বোতাম পড়ে ছিলো সেই বাড়িতে, যেখানে শরিফ সাহেবের খুন হয়েছে। বড়ই আশ্চর্যের বিষয়।
.
একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে শাহিন আলম দিলো এক ভোঁ দৌড়, কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো ওসি স্যার। তাকে পাকড়াও করে বললেন ওসি স্যার,
-পালাচ্ছিস কোথায়? আমার হাত এতো নরম নয় যে আমার হাত থেকে কোনো অপরাধী পার পেয়ে যাবে।
-আমাকে তো গ্রেফতার করবেন, কিন্তু প্রমাণ করবেন কিভাবে? আর শরিফকে খুন করার মত মোটিভ আমার কি আছে?
-মোটিভ তো এ রুমে আছে' একটা রুমকে নির্দেশ করে বলল কানন
-কি আছে এই রুমে?' জিজ্ঞাসা করলেন ওসি স্যার
-তা ভিতরে গেলেই জানতে পারবেন। চলুন ভিতরে,
.
এই কথা শুনে শাহিন আলম থরথর করে কাঁপা শুরু করেছে। আমরা এগিয়ে গেলাম রুমটার দিকে, রুমের দরজা খুলে ভিতরে দেখে ওসি স্যার বললো,
-ওহ মাই গড, একি অবস্থা আমার থানায়।
.
দেখলাম ভিতরে সারি সারি করে সাজানো আছে, পিস্তল, রিভলবার, বন্দুক, কয়েক ব্যাগ গুলি, বারুদ আর কিছু বোমা বানানোর যন্ত্রাংশ। পিস্তলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, M1907, Intratec TEC-22, SR-1 Vektor, ALFA Combat, Deer Gun, Bersa-83, 2mm Kolibri, SIG P227 এবং বন্দুকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য AK-47, M16, Armalite AR-15, Dreyse Needle Gun, Karabiner 98k, M14, G-3, FN FAL, AK-74 ইত্যাদি। রুমটার ভিতরে মাত্র একটাই টেবিল, ১৭টা চেয়ার আর একটা বড় ফ্রিজ আছে। ওসি স্যার কাননকে বললো,
-কানন, তুমি কিভাবে বুঝলে ভিতরে এতো কিছু আছে?
-শুধু এগুলোই না, ফ্রিজে আরো কিছু আছে।
.
আমি কাননের কথা শুনে ফ্রিজের ঢাকনাটা উপরে উঠালাম এবং চমকে উঠে কাননের দিকে তাকালাম। ওসি স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
-আলফী, ফ্রিজে কি আছে?
-লাস স্যার, আরো তিনটা লাস।
ওসি স্যারও চমকে বললেন,
-কিহ্, আরো তিনটা লাস! বলো কি হে? কার লাস?
-দুইটা ছেলের আর একটা মেয়ের। এদের বয়স ২০ থেকে ২৫ হবে।
.
ওসি স্যার ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দেখলেন। এবং জিজ্ঞাসা করলেন,
-কানন, তুমি কিভাবে বুঝলে? আর ওদের হত্যার কারণ কি?
-স্যার, কিছুটা ক্যালকুলেশন, কিছুটা প্রমাণ আর কিছুটা সন্দেহ মিলে পৌঁছে গেলাম আসল হত্যাকারীর কাছে। সময়ের কিছুটা ক্যালকুলেশন করে বুঝলাম শরিফ সাহেব সেদিন এই পর্যন্তই এসেছিলেন। তারপর নজর গেলো এই রুমের জানালার নিচের একটা পেরেকে কিছুটা রক্তের দাগ লেগে আছে। সেই রক্তের স্যাম্পল সংগ্রহ করে পাঠিয়ে ছিলাম ল্যাবে ডিএনএ টেষ্ট করার জন্য। যখন রক্তের স্যাম্পল কালেক্ট করছিলাম, তখন রুমের ভিতরে রাখা বারুদের গন্ধ পাই। পরে যখন ডিএনএ টেষ্ট এর রিপোর্ট এলো এই পেরেকে লেগে থাকা ব্লাডের ডিএনএ আর শরিফ সাহেবের ডিএনএ ম্যাচ করে গেছে। ব্যাস চলে এলাম এখানে।
-আর রেইনকোর্টের বোতাম কোথায় পেলে?' অবাক হয়ে বললাম
-ওটা তো এখানেই পেয়েছি, যখন রেইনকোর্টটা নিয়েছিলাম তখন একটা খসিয়ে ফেলি। আর একটা বোতামেই সব সত্য বের করে দিলো।
-তাহলে এটা নিশ্চয় জানতে পেরেছ শরিফ সাহেবকে কেনো হত্যা করলো?
-অবশ্যই, সেদিন কি ঘটেছিলো বলি তোমাকে। চারদিন আগে যখন শরিফ সাহেব এই রাস্তাদিয়ে কোনো একটা কাজের জন্য যাচ্ছিলেন, তখন এখানে আসা মাত্র তিনি কাউকে আঘাত করার শব্দ শুনতে পান। দেখেন জানালা খোলা আছে, তাই তিনি উকি মারেন জানালার ভিতরে। আর সেই সময় শাহিন আলম গুলি করে হত্যা করে ঐ তিনজনকে। পিস্তলে সাইলেন্সার লাগানো ছিল তাই শব্দ কারো কানে পৌঁছায় না। কিন্তু শরিফ সাহেবের অসাবধানতার ফলে দেখে ফেলে শাহিন আলম, তাই তাড়াতাড়ি পালাতে গিয়ে হাত ছিলে যায় পেরেকে। নিজের চোখের সামনে কাউকে হত্যা করতে দেখলে যেকোনো মানুষেরই মানষিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। আর এইটাই ঘটেছিল শরিফ সাহেবের সাথে আর তাই তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। এদিকে শাহিন আলম শরিফ সাহেবকে মারার সব ধরণের পরিকল্পনা করে ফেলে। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় শাহিন আলম পৌঁছে যায় ঐ বাড়িটিতে, তার আগেই ঐ বাড়ির সব রুমেরই ডুপ্লিকেট চাবী বানিয়ে নিয়েছিল। ঐ বাড়িতে গিয়ে শরিফ সাহেবের উপরের রুমটায় প্রবেশ করে। শিলিংয়ে লাগানো ফ্যান টাংগানো হুকএ রশি বেঁধে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। রশিটিতে অনেকগুলো গেরো দেওয়া থাকায় তার নিচে নামতে একটুকুও কষ্ট হয়নি। শাহিন আলম সন্ধ্যা থেকেই শরিফ সাহেবের রুমে অপেক্ষা করছিল। শরিফ সাহেব রুমে এসে ওনার ডায়েরীতে ঘটনাটা লিখলেন এবং ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়লেন। সুযোগ পেয়েই শাহিন আলম শরিফ সাহেবের মুখে বালিশ চাঁপা দিয়ে মেরে ফেললেন। পরে একটা দড়ি দিয়ে টাঙ্গিয়ে দিলেন ফ্যানে। এবং সেই ডায়েরীটা সঙ্গে নিয়ে চলে এলেন সেই ঝুলন্ত রশি বেয়ে। তারপর বাসায় ফিরে জ্বালিয়ে দিলেন ডায়েরীটাকে।"
-তুমি এতোকিছু জানলে কিভাবে? তুমি কি আমাকে ফলো করছিলে?' অবাক হয়ে বলল শাহিন আলম
-ফলো করলে কি হত্যা করতে দিতাম?
-কিন্তু এই তিনটা লাশ কার?
-ওই তিনটা লাস শাহিন আলমের সহকর্মীদের। ওদের মধ্যে কিছু ঝামেলার কারণে ওদের তিনজনকে মেরে ফেলেছে শাহিন আলম।
-এটা কি ম্যাজিক?' আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-না আলফী, এটা ম্যাজিক নয়, এটাই লজিক।
-ভাবছিলাম এটা আত্মহত্যার কেস। কিন্তু যখন তুমি বলেছিলে এটা আত্মহত্যা নয় হত্যা, তখন আমাকে তো ২৪০ ভোল্টের ঝটকা লেগেছিল। কিন্তু অবশেষে কেস সলভ হয়ে গেল। ধন্যবাদ কানন।
-চলো আলফী, অনেকটা রাত হলো। এবার ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
-হুম চলো।
.
আমরা রওয়ানা দিলাম আমাদের রুমের উদ্দেশ্যে। ফিরতে ফিরতে কাননকে বললাম,
-আচ্ছা কানন, তুমি এতো কিছু বুঝলে কিভাবে?
-বললাম তো ওখানে।
-ওখানে তো অনেক কিছুই বলো নি।
-বুঝলে আলফী, পৃথিবীর অনেক কিছু না জানাটাই ভালো।
-কিন্তু এটা জানলেই ভালো। বলো তুমি,
-ওকে বলবো কোনো একদিন, যেদিন আমার ইচ্ছা হবে।
.
.
[][][][][] সমাপ্ত [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন