আত্মহত্যা নাকি হত্যা? — পর্ব ৬

No photo description available. 

#কানন_সিরিজ_৩

#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?

MD Misad Ali

৬ষ্ঠ পর্ব

.

৫ম পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryof.../posts/703515940288844

.

-ও তোমরা তাহলে সাংবাদিকতা পড়ছো, এখানে বসো' ২টা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বলতে থাকলো দারোয়ান' তা কী কী জানতে চাও বলো।

-শুনলাম শরিফ সাহেব নাকি কয়েকদিন থেকে দুঃচিন্তায় ছিলেন, আর অন্যরকম আচরণ করছিলেন। এটা কতদিন আগে থেকে শুরু হয়েছিল বলতে পারবেন?

-গত ৩দিন আগে যখন তিনি যখন ব্যাংকে আসেন তখনই আমি প্রথম দেখি ওনাকে অন্যরকম আচরণ করতে।

-ঠিক কি রকম আচরণ করছিলেন তিনি?

-এই যেমন হর্ণের শব্দেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। একজন পিছন থেকে কাঁধে হাত রেখেছেন আর উনি চমকে উঠে দাড়িয়েছেন। এরকমই ঘটনা ঘটছিলো কয়েকদিন ধরে।

-তারমানে গত ৩ দিন আগে আপনি প্রথম বিষয়টা লক্ষ্য করেন, এই তো?

-হ্যাঁ, গত ৩ দিন আগে সকালে যখন তিনি ব্যাংকে আসেন, তখন আমি প্রথমবার বিষয়টা লক্ষ্য করি।

-আচ্ছা, তার আগের দিন কি উনার আচরণ ঠিকই ছিলো?

-হ্যাঁ, তার আগেরদিন ব্যাংক থেকে তিনি আর ইশরাক সাহেব হাঁসতে হাঁসতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

-এই ইশরাক সাহেব আবার কে?

-ইশরাক সাহেব আর শরিফ সাহেব খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সবাই বলে স্কুল লাইফের বন্ধুদের মাঝের সম্পর্কটা বেশি গভীর হয়। কিন্তু ওনাদের কর্মক্ষেত্রে মিলিত হয়েও এতোটা গভীর বন্ধুত্ব, সবার জন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত। ওনাদের প্রথম দেখা হয় এই ব্যাংকেই, দুজনেই এখানে জব করতেন।

-ও আচ্ছা, এই ইশরাক সাহেব এখন কোথায় আছে জানেন?

-উনিতো এখন ব্যাংকেই আছেন।

-একটু কষ্ট করে ডেকে দিতে পারবেন?

-তোমরা একটু বসো, আমি এক্ষুণি ডেকে দিচ্ছি ।

.

তারপর দারোয়ান ভিতরে চলে গেলো ইশরাক সাহেবকে ডাকতে। কাননকে বললাম,

-ওয়াও, মিথ্যা কথা বলে যে এতো কিছু করা যায় এটা জানা ছিল না। কিন্তু তুমি যদি পুলিশের লোক বলতে তাহলে আরো কিছু জানতে পারতে।

-বুঝলে আলফী, সাংবাদিকতা পেশাটা অনেক ইনটেরেশ্টিং একটা পেশা। আর এই পেশার মানুষকে একেকজন একেক রকম ভাবে নেয়।' আমার কথা শুনে হাঁসতে হাঁসতে বলল কানন

-একেকজন একেক রকম ভাবে নেয় মানে?' একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম

-যেমন স্বাধারণ পাবলিক ভালোবাসে, ক্রিমিনাল ঘৃণা করে, আর পুলিশ, রানিং পার্টি, অপজিশন পার্টি, বড় বড় ব্যাবসায়ী ভয় পায়।

-কেনো? ভয় পায় কেনো?

-কারণ, একজন সাংবাদিক কখন কার গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়। একজন সাংবাদিক হচ্ছে জাতীর কাছে স্বচ্ছ আয়নার স্বরূপ। সকল সত্যকে খুঁজে বের করে জনগনের সামনে তুলে ধরায় যার কাজ। এরজন্য সাংবাদিকদেরকে অনেক ঝুঁকিও নিতে হয়। আর তুমি জানলে অবাক হবে, এমনও কিছু জায়গা আছে, যেখানে পুলিশের প্রবেশাধীকার নেই কিন্তু সাংবাদিক ঠিকই অনায়াসা ঘুরাঘুরি করছে। আর কেউ কখনো চায়না সাংবাদিকে সাথে লাগতে যেতে।

-তাহলে তো তোমার সাংবাদিকতা পড়া উচিত ছিল, তোমার ইনভেশ্টিগেট করতে অনেক সুবিধা হতো।

.

আমাদের কথা বলার মাঝেই উপস্থিত হলেন ইশরাক সাহেব। হালকা স্বাস্থবান, চুল গুলো কোঁকড়ানো, চোখ লাল, মুখে গভীর দুঃখের ছাপ।

-তোমরা নাকি আমার খোঁজ করছিলে?' আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন ইশরাক সাহেব

-হ্যাঁ, আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়ালেখা করছি। আপনার বন্ধু শরিফ সাহেবের আত্মহত্যার ব্যাপারে আমাদের একটা প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, তাই একটু কথা বলতাম আপনার সাথে।

-শরিফ বড্ড ভালো মানুষ ছিল, জানিনা কিসের জন্য আত্মহত্যা করলো। ও সবসময় অন্য মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করতো। ওর এই সভাবের কারণেই হয়তো সবাই ওকে ভালোবাসতো।

-আচ্ছা, গত ৪ দিন আগে যখন আপনি আর শরিফ সাহেব ব্যাংক থেকে বেরিয়েছিলেন। তখন কি আপনি ওনার সাথে ওনার বাসা পর্যন্ত গিয়েছিলেন?

-না, আমি আর ও যখন বাসায় ফিরছিলাম তখন কিছুদূর গিয়েই ও আমাকে বলেছিল ওর নাকি কিছু কাজ আছে তাই ওর দেরি হতে পারে। তখন আমি একাই বাসায় ফিরেছিলাম, ও পরে গিয়েছিলো।

-অন্য দিনগুলোতেও কি শরিফ সাহেব একাই ফিরতো নাকি আপনার সাথে?

-এমনিতেই অন্য দিনগুলোতে আমরা দুজনে একসঙ্গে ফিরতাম। আমার বাসা শরিফের টা থেকে কিছুটা দূরে।

-ও আচ্ছা, তা শরিফ সাহেব কোন দিকে গিয়েছিল বলতে পারবেন কি?

-হ্যাঁ, অবশ্যই। তোমরা একটু বসো, আমার অফিস টাইম শেষ তাই ব্যাগটা নিয়ে আসি।

.

আমাদেরকে বসতে বলে ইশরাক সাহেব ভিতরে চলে গেলেই আর প্রায় মিনিট পাঁচেক পর ওনার ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এলেন। আমরা কিছুদূর এগিয়ে একটা গলির সামনে এসে দাঁড়ালাম। ইশরাক সাহেব সেই গলিটার দিকে ইশারা করে বললেন,

-এই গলির ভিতরেই সেদিন গিয়েছিল শরিফ।

.

আমরা গলিটার ভিতরের দিকে চলতে শুরু করলাম। ভিতরে যেতে যেতে শুধু বাড়ি ছাড়াও একটা মসজিদ আর বেশ কয়েকটা ছোট দোকান দেখলাম। প্রায় ১০ মিনিট হাঁটার পর গলিটা শেষ হলো একটি রাস্তার ধারে, সেখানে বেশকিছু মানুষের ভীড়। মনেহয় একটা বাজারের ভিতর এসে পড়েছি আমরা। কানন সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলো, এবং ইশরাক সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলো,

-আচ্ছা ইশরাক সাহেব, আপনি শরিফ সাহেবকে কয়টার সময় এখানে ছেড়ে গিয়েছিলেন?

-তা ধরো প্রায় পৌনে দুইটার নাগাদ ছেড়েছিলাম শরিফকে গলির শুরুতে। কারণ, আমরা সেদিন বেরিয়েছিলাম ১ টা ৩০ মিনিটে, আর গলির শুরুতে আসতে অফিস থেকে প্রায় ১৫ মিনিট মত লাগে।

-আর গলি শুরুর ওখান থেকে শরিফ সাহেবের বাসা পৌঁছাতে কতক্ষণ সময় লাগে?

-তা প্রায় ১০ মিনিটের মত হবে। আর তাড়ায় থাকলে ৭ মিনিট।

-আপনি তারমানে শরিফ সাহেবের বাসার ওখান দিয়ে গেছেন ১ টা ৫৫ এর নাগাদ। আর শরিফ সাহেব বাসায় ফিরেছিলেন ২টা ১০ এর নাগাদ, অথাৎ আপনার থেকে প্রায় ১৫ মিনিট পরে। তারমানে শরিফ সাহেব এই জায়গার আশেপাশেই কোথাও এসেছিলেন। কেননা আমরা এসেছি প্রায় ১০ মিনিট গলির ভিতরে, এখন যদি এখানে এমন কিছু একটা দেখি যেটা খুব ভয় পাওয়ায় তাহলে ১০ মিনিটের পথ ৬-৭ মিনিটে পাড়ি দেওয়া কোনো অসম্ভব কিছু নয়। আর ওখান থেকে শরিফ সাহেবের বাসা যেতে লাগবে ৭ মিনিটের মত। আর তিনি একা ছিলেন মোট ২৫ মিনিটের মত। কারণ ইশরাক সাহেব শরিফ সাহেবকে ছেড়েছেন ১টা ৪৫ এ, আর শরিফ সাহেব বাসায় পৌঁছেছেন ২টা ১০ এ । তারমানে এখানেই কিছু একটা ঘটেছিলো।

.

.

[][][][][] চলবে... [][][][][]

আত্মহত্যা নাকি হত্যা? — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ