আত্মহত্যা নাকি হত্যা? — পর্ব ২

No photo description available. 

#কানন_সিরিজ_৩

#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?

MD Misad Ali

২য় পর্ব

.

১ম পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/699972457309859/

.

.

আমাদের রুমটায় প্রবেশ করলাম, দেখলাম রুমটার সাইজ প্রায় ১৫*৮ ফুট। ভাড়ার হিসেবে রুমটা অনেকটা বড়, যদি মেসের মত করে থাকা যায় তবে আমাদের রুমটায় ৪-৫ জন অনায়াসেই থাকতে পারবে। রুমটার সাথে এ্যাটাচ বাথরুম আর কিচেন। আর আমাদের রুমটা বাড়ির পিছন দিকে। জানালাটা খুলতেই দারুন একটা সুবাসে ঘর ভরে গেল, বেলী ফুলের সুবাস। দেখলাম বাসার পিছনের দিকটায় একটা ছোট্ট বাগান আর কিছুটা দূরে বয়ে চলেছে মহানন্দা নদী।

রুমটায় ২টা চৌকি রাখা আছে। আমাদের বিদায় দিয়ে ওসি স্যার এবং বাড়িওয়ালা চলে গেলেন। আমি এবং কানন দুজনে মিলে রুমটাকে আমাদের বসবাস উপযোগী করার প্রস্তুত্তি শুরু করলাম। সব ঠিক ঠাক করতে রাত প্রায় ১০টা বেজে গেল। রান্না করার মত এনার্জি তখন আর নাই তাই কানন আর আমি গেলাম পাশের এক হোটেলে এবং রাতের খাবার সেরে বাসায় ফিরলাম প্রায় পৌনে এগারটায়। বাসায় ফিরে কাননকে বললাম,

.

-আচ্ছা কানন, আমাকেতো তুমি চিনতে না এমনকি এখনো চিনো না, তারপরেও রুম শেয়ার করলে কেনো?

-তোমাকে দেখতে অনেকটাই সাহাদের মত। অনেকটা বললে ভুল হবে, পুরোটাই সাহাদ। তোমাকে আর সাহাদকে যে কেউই গুলিয়ে ফেলবে ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে।

-সাহাদ আবার কে? আর সাহাদ কি সত্যিই আমার মত দেখতে?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম

-সাহাদ আমার ছোটকালের বন্ধু। গত দুই বছর আগে পযন্ত আমরা একসঙ্গেই থাকতাম। আমি রেলষ্টেশনে প্রথমে তোমাকে দেখে অনেক অবাক হয়েছিলাম, তাই তোমার পাশে বসে কিছুটা নিরিক্ষণ করেছি এবং ফল স্বরূপ পেলাম, তোমার আর সাহাদের চেহারার ৩টি অমিল রয়েছে। ১. তোমার কপালে একটা তিল আছে যা সাহাদের ছিল না। ২. সাহাদের চোখের মনির রং খয়েরী আর তোমারটা কালো। আর ৩. সাহাদের ঠোটের নিচে একটা কাটা দাগ ছিল যেটা তোমার নেই।

-অনেক মনোযোগ দিয়ে পযবেক্ষণ করেছ দেখছি। তা সাহাদ এখন কোথায় থাকে?

-অনেকটা রাত হলো। এবার ঘুমিয়ে পড়, আমরাতো আজ থেকে একসঙ্গেই থাকছি, ধীরে ধীরে সবটা জানতে পারবে।' কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল কানন

-ঠিক আছে, শুভ রাত্রী।

-শুভ রাত্রী।

পরদিন সকাল,

কাননের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো আমার। জেগে দেখি সকাল সাড়ে ৯টা বাজে। ফ্রেস হয়ে বের হলাম দুজনে নাস্তা করার জন্য। প্রায় সোয়া ১০ টার নাগাদ আমরা বাসায় ফিরে এলাম এবং আমাদের ডকুমেন্টগুলো নিয়ে এগিয়ে চললাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। ভার্সিটির সকল ডকুমেন্ট জমা দিয়ে বাসায় ফেরা পর্যন্ত আমাদের মাঝে সেরকম কোনো কথা হলো না। বাসায় ফিরে কানন আমায় বললো,

.

-বুঝলে আলফী, আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ খুব সবার সাথেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং খুব বন্ধুত্ব প্রিয় হয়।

-সেটাতো তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে মিস্টার কানন।

-তুমি নিশ্চয় খেয়াল করেছো, এই বাসার অন্য সব ভাড়াটিয়ারা আমাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে সেটা বুঝতে পারছে না।

-হুম, সেটাতো খেয়াল করেছি। তো চলো, আলাপ করে আসি ওনাদের সাথে।

-চলো।

.

দুজনে মিলে এগিয়ে গেলাম পাশের রুমের দিকে, বুঝলাম ভিতরে বেশ কয়েকজন আছে। দরজায় নক করতেই একজন ভদ্রলোক দরজাটা খুলে দিলেন, এবং আমাদের দেখে হাঁসি মুখে বললেন,

.

-আরে তোমরা, এসো এসো, ভিতরে এসো। ভাবছিলাম তোমাদের ডাকতে যাবো, তোমরা নিজেরাই আসাতে ভালো হলো। তা পরিচয় পর্ব সেরে নিই, আমি আরমান মল্লিক, বাসা-শিবগঞ্জ। [আরেকজনকে ইঙ্গিত করে] এ হলো হিমেল শেখ, বাসা-নাচোল। হিমেলের পাশের জন ইশমাইল হাসান বাসা-ভোলাহাট আর ওর পাশে আরাফাত কামাল, বাসা-শিবগঞ্জ। আর আমরা সবাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জব করি।

-আমি রিহাদ আহমেদ কানন, বাসা-গোমস্তাপুর। এবার অনার্সে ভর্তি হয়েছি চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

-আমি আবিদ আলফী মিসাদ, বাসা-সরিষাবাড়ী, জামালপুর। আমিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হয়েছি।

-কি! তুমি জামালপুর থেকে এসেছো! তোমাকে আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাগত।' বলল আরাফাত কামাল

-ধন্যবাদ আঙ্কেল।

.

কিছুক্ষণ গল্প করার পর আমরা ফিরে এলাম আমাদের রুমে। কানন আর আমি, দুজনে মিলে দুপুরের খাবার প্রস্তুত করতে শুরু করলাম। এভাবেই কাটলো বেশ কয়েকটা দিন। কয়েকদিন পর সন্ধায় প্রচুর বৃষ্টি শুরু হলো, অবশ্য সকাল থেকেই মেঘ মেঘ আবহাওয়া ছিলো। বৃষ্টির দাপট দেখে কানন বললো,

-বুঝলে আলফী, যেরকম বৃষ্টি শুরু হয়েছে, রাতের মধ্যে থামবে বলে মনে হচ্ছে না।

-তা তো বটেই, সকাল থেকে আটকে থেকে এবার ঝরছে অঝর ধারায়। কিন্তু এভাবে চললে তো রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা যাবে না।

-কি বলো? বাসায় কিছু নেই নাকি?

-আরে তুমিই তো বলছিলে যে ডাল শেষ। এখন খাবে কি?

-আমি বলেছিলাম! ও হ্যাঁ, দুপুরেতো দেখলাম। আসলে কাজের মাঝে মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে।' অবাক হয়ে বলল আলফী

-তাহলে এখন কি করার? লবণ দিয়েই ভাত খেতে হবে তাহলে।

-আরে নাহ্, আমার ব্যাগে দেখো একটা রেইন কোর্ট আছে, ওটা বের করো তো।

-কি বলো! বাইক নেই আর রেইনকোর্ট দিয়ে কি করো?' আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম

-আরে পাগল, বাইক বাসায় আছে। আমি যখন এখানে আসি তখন বাইকটা রিপেয়ার করতে দেওয়া ছিলো তাই নিয়ে আসি নি। এবার বাসায় গেলে নিয়ে আসবো।' হাঁসতে হাঁসতে বলল কানন

.

তারপর আমার কাছ থেকে রেইনকোর্টটা নিয়ে বেরিয়ে গেল। ১৫ মিনিট পর বাসায় ফিরলো, সাথে ডাল আর কিছু সবজি নিয়ে। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর শুয়ে শুয়ে বৃষ্টির রাতকে উপভোগ করলাম। কখন ঘুমিয়ে গেছি জানি না।

.

.

[][][][][] চলবে... [][][][][]

আত্মহত্যা নাকি হত্যা? — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ