#কানন_সিরিজ_৩
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা?
MD Misad Ali
৭ম পর্ব
.
৬ষ্ঠ পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/704328493540922/
.
কানন জায়গাটা ভালোভাবে দেখতে লাগলো। কিছুক্ষণ দেখার পর একটা ঘরের জানালার দিকে এগিয়ে গেল। ঘরটা বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে ছোট্ট একটা ঘর। ঘরের জানালা বন্ধ করা আছে। কানন জানালার দিকে এগিয়ে গিয়ে জানালায় বেড়ে থাকা পেরেকটাকে পরখ করতে শুরু করলো। দেখলাম সেখানে রক্ত লেগে আছে, রক্তটা শুকনো। কানন রক্তের কিছুটা তুলে একটা ছোট্ট প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে দিলো।
-বুঝলে আলফী, কিছু মানুষ আছে যারা রক্তের গ্রুপ পরিক্ষার জন্য নিজের জিহ্বাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।' আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে কথাগুলো বলল কানন
-আরে কি বলো? রক্তের গ্রুপ পরিক্ষা, আবার রক্ত পান করে? এরকম মানুষও এই পৃথিবীতে আছে নাকি?' কাননের কথায় আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-হ্যাঁ এরকম মানুষও পৃথিবীতে আছে। প্রতিটি গ্রুপের রক্তের আলাদা আলাদা স্বাদ থাকে। যারা বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখে তারাই বলতে পারে। কিন্তু এটাতে শুধু রক্তের গ্রুপ বলা সম্ভব, কার রক্ত সেটা বলা সম্ভব নয়।
-তুমি কি সেরকম কাউকে চিনো নাকি? যে এইরকমভাবে রক্ত পান করে বলে দিতে পারে রক্ত কোন গ্রুপের?
-শুধু আমি না, তুমিও তাকে চেনো। শুধু এইটুকু জানো না, যে সে এই কাজটা পারে।
-কে সে? আর এখন কোথায় আছে?' ভিষণ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম
-সে এখন তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।' হাঁসতে হাঁসতে বলল কানন
-তারমানে তুমিই রক্ত পান করে রক্তের গ্রুপ নিণয় করতে পারো?
-কোনো সন্দেহ আছে নাকি?
-আরে নাহ্, তোমাকে সন্দেহ করতে পারি?
-আচ্ছা ভাই, আপনি কি বলতে পারবেন এটা কার বাসা?' পাশ দিয়ে এক পথচারী যাচ্ছিল, তাকেই জিজ্ঞাসা করল কানন
-এটা শাহিন আলমের বাসা।
-ওহ্, তা শাহিন আলম কি কাজ করে?
-এই সামনেই একটা ঔষধের ফার্মেসী আছে। ওখানেই তিনি ঔষধ বিক্রি করেন।
-ওহ আচ্ছা, ধন্যবাদ ভাই
.
পথচারী তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চললে, কানন আমায় বললো,
-চলো এখন ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে হবে, আর ব্লাড স্যাম্পলটার ডিএনএ টেষ্ট করাতে হবে।
.
তারপর আমরা ফিরে এলাম ওসি স্যারের কাছে, এবং ইশরাক সাহেব বাসায় ফেরত গেলেন। আমাদের দেখেই ওসি স্যার বললেন,
-কি খবর কানন? কিছু জানতে পারলে?
-কেশ সলভড স্যার।
-কি বলো? কেশ সলভড মানে!' অবাক হয়ে বললেন ওসি স্যার
-কেশ সলভড মানে কেশ সলভড। হত্যাকারীর সন্ধান পেয়ে গেছি।
-আরে একটু খোলশা করে বলো তো, হত্যাকারীটা কে?
-তার আগে এই রক্তের ডিএনএ টেস্ট করতে হবে,' ব্লাড স্যাম্পলটা ওসি স্যারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলতে থাকল কানন' আর দেখতে হবে এটার ডিএনএ শরিফ সাহেবের ডিএনএর সঙ্গে ম্যাচ করে কি না। আমি ৯৫% সিওর যে এটা শরিফ সাহেবেরই রক্ত, এখন শুধু পরিক্ষা করে দেখাটাই বাঁকি আছে।
-যাও এটা ল্যাবে দিয়ে এসো। আর বলো এসো যেনো তাড়াতাড়ি এটার ডিএনএ-এর সাথে শরিফ সাহেবের ডিএনএ টেষ্ট করা হয়। আর তুমি রিপোর্ট নিয়েই আসবে, ঠিক আছে?' এক কন্সটেবলকে ব্লাড স্যাম্পলটা দিয়ে বললেন ওসি স্যার
-ওকে স্যার।' বলেই কন্সটেবল বিদায় নিলো
-এই কানন, এবার বলো হত্যাকারী কে? আর এই রক্ত কোথা থেকে পেয়েছো?
-আরে স্যার, একটু সবুর করেন। ব্লাড রিপোর্ট হাতে পেলেই সব জানতে পারবেন।
-আসলেই, তোমার এই একটা জিনিস আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে। সবকিছু জানার পরও চুপচাপ থাকো তুমি।
.
ঘন্টা দুয়েক পর কন্সটেবল ফিরে এলো, সঙ্গে ব্লাড রিপোর্ট। ওসি স্যার কন্সটেবলের হাত থেকে রিপোর্ট ফাইল নিয়ে পড়লেন এবং অবাক হয়ে বললেন,
-কানন, তুমি কিভাবে জানলে ডিএনএ ম্যাচ করে যাবে?
-সবই ক্যালকুলেশন আর আন্দাজ স্যার। আন্দাজের উপর হয়তো ৯০% দিতাম না. কিন্তু আমার ক্যালকুলেশন একদম পার্ফেক্ট ছিলো। এখন চলুন হত্যাকারীকে পাকড়াও করতে।
-কিন্তু হত্যাকারী কে সেটাই তো বলো নি এখন পর্যন্ত।
-ও হ্যাঁ, হত্যাকারীর নাম হলো, শাহিন আলম।
-এই শাহিন আলমটা আবার কে?
-চলেন, গেলেই দেখতে পাবেন।
.
আমরা এগিয়ে চললাম সেই গলির ভিতরে। গিয়ে দাঁড়ালাম সেই বাসাটার সামনে। ওসি স্যার কাননকে বললো,
-আমরা এখানে কেনো এসেছি কানন?
-কেনো আবার? শরিফ সাহেবের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে।
-কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া কিভাবে কাউকে গ্রেফতার করবো? আর কি বলবো তাকে?
-প্রমাণ আছে। আপনি তাকে বলবেন, শরিফ সাহেবকে হত্যার অপরাধে আপনাকে গ্রেফতার করা হলো, সিম্পল ব্যাপার।
-আরে তুমি কি আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে নাকি?
-আরে স্যার, আপনি শুধু এতটুকুই করেন, বাঁকিটা আমি সামলে নেবো।
-ঠিক আছে, তোমার যেমন ইচ্ছা।' একটু মন খারাপ করেই বললেন ওসি স্যার
.
তারপর দরজায় কড়া নাড়তেই কিছুক্ষণ পর দরজা খুললো এক ভদ্র মহিলা এবং জিজ্ঞাসা করলো,
-কে আপনারা আর কাকে চাই?
-শাহিন আলম সাহেব কি বাসায় আছেন?
-জ্বী আছে, কিন্তু আপনারা?
-আমরা স্যারের পেসেন্ট।
-ওহ্, আপনারা ভিতরে এসে বসুন আমি উনাকে ডেকে দিচ্ছি।
.
আমরা ভিতরে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই বেরিয়ে এলো ২৫-২৬ বছর বয়সের এক যুবক, সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী। বুঝলাম ইনিই তাহলে শাহিন আলম। আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললো,
-আমি মোঃ শাহিন আলম। বলুন আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি।
-বেশি কিছু না, জাস্ট সবকিছু সত্যি সত্যি বললেই হবে। আমাদের আবার অনেক কাজ আছে।
- প্রশ্ন করেছেন কখন? প্রশ্ন করলে অবশ্যই সত্য উত্তরই দিবো।
-ওকে ফাইন, কাল রাতে আপনি কোথায় ছিলেন?
-কাল রাতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিলো, তাই বাসায় ছিলাম।
-ওহ্ আচ্ছা, আপনার কোনো রেইনকোর্ট আছে?
-হুম, আছে একটা।
-দেখতে পারি কি রেইনকোর্টটা?
-অবশ্যই, একটু দাঁড়ান, নিয়ে আসছি' শাহিন আলম ওর ঘর থেকে রেইনকোর্ট নিয়ে এসে বাড়িয়ে দিলো কাননের দিকে এবং বলল' এই নিন।
.
কানন রেইনকোর্টটাকে ভালোভাবে দেখে আবার প্রশ্ন করলো শাহিন আলমকে,
-আপনি বলছেন কাল রাতে আপনি আপনার বাসাতেই ছিলেন, তাহলে এই রেইনকোর্টটাও নিশ্চয় এখানেই ছিল। নাকি অন্য কাউকে দিয়েছিলেন কালকের জন্য?
-আমি এবং আমার রেইনকোর্ট আমার বাসাতেই ছিলাম।' একটু বিরক্ত হয়েই বলল শাহিন আলম
-এই রেইনকোর্টটা দেখছি অন্যরকম মডেলের, বিশেষ করে এর বোতামগুলো।
-হ্যাঁ, রেইনকোর্টটা আমি নিজে তৈরি করিয়েছি আমার মত করে, আর বোতামগুলো রাশিয়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছে, এই ডিজাইনের বোতাম শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে না সারা বাংলাদেশের মধ্যে আর কারো কাছে নাই।
.
.
[][][][][] চলবে,,, [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন