#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ
MD Misad Ali
৫ম পর্ব
.
৪র্থ পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/690739371566501/
.
-তো? আমি কি করতে পারি? আমি কি আপনার থেকে পরিচয় জানতে চেয়েছি নাকি পরিচিত হতে চেয়েছি?' বলল তাহমিনা
-না মানে ভাবলাম তোমাকে আমার পরিচয়টা দিয়ে রাখি। পরে আবার তোমার বাবাকে বলার সময় ঝামেলা হবে।
-আমার বাবাকে বলার সময় মানে? আমি আমার বাবাকে আপনার সমন্ধে বলব কেনো?
-আমাদের বিয়ের কথা বলার জন্য।
.
আলফীর মুখে এমন কথা শোনার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিল না। সবাই ভিষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আলফীর দিকে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তাহমিনার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
-আমাদের বিয়ে মানে?
-আমাদের বিয়ে মানে আমাদের বিয়ে, বাংলা ভাষা বোঝনা নাকি?
-না আমি বুঝেছি, কিন্তু কার সাথে কার বিয়ে এইটা বুঝতে পারছি না।
-কার সাথে কার আবার? আমার সাথে তোমার বিয়ে।
-ওয়াট এ্য জোকস। মজাটা ভালোই ছিল, বাস্তবে এটার কল্পনা পর্যন্ত করলে তার পরিণতি কি হতে পারে আশা করি আপনি ভালোভাবেই জানেন। আর যদি না জেনে থাকেন, তবে আপনার ফ্রেন্ডদের থেকে জেনে নিবেন।
-তুমি আমার কথা তোমার বাবাকে বলে তিনি হয়তো আমার হাত-পা ভেঙ্গে দিবেন। কিন্বা বড়োজোর তিনি আমায় মেরে ফেলবেন, কিন্তু আমায় মেরে ফেললে কি আমার হৃদয় থেকে তোমাকে মুছে ফেলতে সক্ষম হবেন বলে তুমি মনে করো? তোমাকে আমার হার্ট থেকে কোনোকিছুই মুছে ফেলতে পারবে না।
-আপনি যদি এরপরে আর কখনো আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন, আমাকে ফলো করেন কিন্বা আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে আমি আব্বুকে বলতে বাধ্য হবো।
-তোমার আব্বুকে আমি ভয় যদি করতাম তাহলে কি তোমার সাথে কথা বলতে আসতাম? যাই হোক, আমার একটু কাজ আছে তাই এখনকার মতো বাই। কিন্তু একটা ভেবো না আমি ভয় পেয়ে চলে যাচ্ছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবো।
.
আলফী চলে গেলো তাদের মধ্য থেকে। তাহমিনা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আলফীর গমন পথের দিকে। আর মনে মনে ভাবছে, কে এই ছেলে? যেখানে কেউ তার সাথে স্বাধারণ কথা বলার মত সাহস অর্জন করতে পারে না, সেখানে এই ছেলে সোজা বিয়ের কথা বলছে।
এভাবেই আলফী তাহমিনাকে ডিসটার্ব করতে থাকে সব জায়গাতেই। তাহমিনা যেখানেই যায়, দেখে আলফী দাঁড়িয়ে আছে। এরফলে তাহমিনা কিছুটা বিরক্ত হয় কিন্তু তার বাবাকে কিছুই বলে না।
এক সপ্তাহ পর ফিরে আসে মাসুম আর সিহাব। তারা সবকিছু জানতে পেরে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আর ভাবে, যখন এই সাত দিনে এতো ডিসটার্ব করার পরেও তাহমিনা তার বাবাকে কিছুই জানায় নি তাহলে আর জানাবেও না। তাদের উপরে কোনো ধরণের বিপদের সম্ভাবনা নাই।
এভাবেই কাটতে থাকলো দিন। তাহমিনার এটা এখন আর বিরক্ত লাগে না, খাপ খাইয়ে নিয়েছে নিজেকে এইসবের সাথে। আর আলফীর রুটিনে পরিণত হয়েছে তাহমিনাকে ডিস্টার্ব করাটা, তাহমিনাকে ডিস্টার্ব না করলেই তার খারাপ লাগে।
দেড়মাস তার পিছনে আঠার মত লেগেছিল আলফী। কিন্তু হঠাৎই কোথাও হারিয়ে গেছে সে। এদিকে তাহমিনা যেখানেই যায় আলফীকে খুঁজতে থাকে। রাতে ঘুম হয়না, সারাক্ষণ শুধু আলফীর কথাই চিন্তা করছে। কি হয়েছে আলফীর? সে ঠিক আছে তো?
অন্যদিকে আলফী শুধু আড়াল থেকে তাহমিনাকে দেখছে আর মজা নিচ্ছে। কারণ আলফী বুঝে গেছে তাহমিনা তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছে। তাহমিনা সব সময়ই মন খারাপ করে থাকছে, অন্য কোনো দিকে সে মনোযোগ দিতে পারছে না। তার ফ্রেন্ডরাও বুঝে ফেলেছে আসল কারণটা কি, তাহমিনার মন খারাপের। তারজন্য তারাও আলফীকে খুঁজছে, কিন্তু কেউই খুঁজে পাচ্ছে না আলফীকে।
.
আজ দুইমাস পূর্ণ হলো, আলফী, মাসুম আর সিহাব বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে।
-কি রে? চ্যালেঞ্জে আমি কি জিতলাম নাকি হারলাম?
-এখনো চ্যালেঞ্জ পুরো হয়নি আলফী, কারণ তুই বলেছিলি দুইমাসের মধ্যেই তাহমিনা তোকে প্রপোজ করবে। কিন্তু সে এখনো প্রপোজ করে নি। তোর হাতে এখন একটা দিন, কালকেই তোকে প্রপোজ করতে হবে তাহমিনাকে। আর কাল যদি তাহমিনা তোরে রিজেক্ট করে দেয়, তাহলে কি করতে চেয়েছিস মনে আছে তো?' বলল সিহাব
-আমি যদি এখনই তাহমিনার সামনে যাই, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, তাহমিনা নিজে আমাকে প্রপোজ করবে। কিন্তু আমি থাকতে তাহমিনা কেনো প্রপোজ করবে? কালকেই আমি তাহমিনাকে প্রপোজ করবো। আর তাহমিনা তো আমায় রিজেক্ট করবে না, তাহলে ওসব শর্ত মনে রেখে কি করবো? শুধু এতটুকু মনে আছে, মাসুম আমাদের পিকনিক দিবে।
-আরে ওটাতো আমি মজা করার জন্য বলেছিলাম, আর তোরা সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছিস?' বলল মাসুম
-ওসব বলে লাভ নাই, তুই পিকনিকের আয়জন কর।' বলল আলফী
-আচ্ছা ঠিক আছে, কাল আগে তাহমিনা তোর প্রপোজাল এ্যাক্সেপ্ট করুক, তারপর নাহয় পিকনিকের আয়োজন করা যাবে। তা কিভাবে প্রপোজ করবি তার সব প্লান ঠিক ঠাক আছে তো?
-প্লান তো প্রস্তুত, এখন শুধু তোদের একটু হেল্প লাগবে।
-কি হেল্প লাগবে এতটুকু বল, আমরা সর্বদা প্রস্তুত।' বলল সিহাব
-হ্যাঁ তারজন্যই ভয়ে এক সপ্তাহ পালিয়ে ছিলি।
-ইয়ে মানে,,, কিন্তু তুই বুঝলে কিভাবে?' লজ্জিত হয়ে বলল সিহাব
-তুই কি ভেবেছিলি? আমি বুঝতে পারবো না? যাই হোক, বাদ দে ঐ টপিক্স। তোদের একটা পানির ট্যাংক ভাড়া করতে হবে।
-পানির ট্যাংক মানে? গাজী ট্যাংক নাকি যমুনা ট্যাংক?
-আরে সিনেমার শুটিং স্পটে বৃষ্টি নিয়ে আসতে যে ট্যাংক ব্যাবহার করা সেগুলো।
-এই শীতে বৃষ্টি, বুঝছি না কাউকে প্রপোজ করার প্লান করছিস নাকি কাউকে মেরে ফেলার প্লান করছিস।
-ওকে ভাড়া করে ফেলবো, আমার এক মামা ফিল্মে কাজ করে। কখন লাগবে তোর?' বলল মাসুম
-কাল সকালে, তোরা প্রস্তুত থাকিস। আর সকালেই তোদের প্লানটা বুঝিয়ে দিবো।
-আচ্ছা তাহলে কাল সকালেই দেখা হচ্ছে।
-হুম, আমার অনেক কাজ আছে। কাজগুলো আজ রাতেই কম্পিলিট করতে হবে।
.
মাসুম আর সিহাব চলল ট্যাংক নিয়ে আসতে আর আলফী প্রথমে গেল বইয়ের দোকানে।
কিছুটা রাত করেই বাসায় ফিরল আলফী, তার হাতে কয়েকটা শপিং ব্যাগ নিয়ে।
-ভাইয়া, ব্যাগের ভিতরে কি আছে?' আলফীকে দেখে জিজ্ঞাসা করল রিমঝিম
-যা থাকার তাই আছে, তোকে বলতে হবে কেনো?
-না এমনিই জিজ্ঞাসা করলাম। ভাইয়া, একটা কথা বলবা?
-কি কথা?
-কি হয়েছে তোমার?
-আমার আবার কি হবে রে? আজ হঠাৎ করেই এমন প্রশ্ন করলি কেনো?
-এমনিই, বেশ কয়েকদিন থেকেই লক্ষ্য করছি তুমি ঠিকমত কিছুই করছ না। আর বেশিরভাগ সময় বাইরেই থাকছো তাই জিজ্ঞাসা করলাম আর কি।
-এমনিই এক্সামটা নিয়ে একটু দুশ্চিন্তাই আছি তাই।
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন