সারপ্রাইজ ম্যারেজ — পর্ব ৪

#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ

MD Misad Ali

৪র্থ পর্ব

.

৩য় পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/689201755053596/

.

-আমি এরকম সামান্য একটা প্রভাবশালী ব্যাক্তির কারণে আমার ভালোবাসা থেকে সরে যাবো এটা ভাবলি কিভাবে? তোরা যদি ভয় পাস তাহলে তোরা দূরেই থাকতে পারিস। আমি তো তাহমিনার সাথে কথা বলবই, আর সেটা কালকেই।' বলল আলফী

-ভুল করেও এটা করিস না। নইলে তোর সাথে সাথে আমরাও বিপদে পড়বো।' বলল সিহাব

-কোনো বিপদকেই এই আলফী ভয় পায় না। আর এতো ভয় পেয়ে কি হবে? যেটা হবার তা হবেই, এতো দুশ্চিন্তা করার কি আছে?

-তুই আসলে বুঝতেই চেষ্টা করছিস না, তোর একটা ভুলের পরিণাম কি হতে পারে।' বলল মাসুম

-আমি তো বললামই, যা হবার হবে। আর বাই, বাসায় ফিরতে হবে।

.

সেখান থেকে প্রস্থান করল আলফী। বাসায় ফিরে একটা খাতায় পেন্সিল দিয়ে স্ক্রেচ আঁকা শুরু করল। রাত প্রায় দশটার দিকে রিমঝিম এলো আলফীর রুমে।

-ভাইয়া, আমার ম্যাথটা নিয়ে প্রচুর প্রবলেমে পড়েছি। এটা সলভ করতে একটু হেল্প করো প্লিজ।' রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল রিমঝিম

.

রিমঝিমকে দেখে খাতাটা চট করে বন্ধ করে দিল আলফী।

-কোন অঙ্কে সমস্যা?' একটু বিরক্তি সুরে বলল আলফী

-এই অঙ্কটা।' বইয়ে একটা অঙ্ক দেখিয়ে বলল রিমঝিম

-এতো সহজ একটা অঙ্ক সলভ করতে পারিস না!' একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল আলফী

-বুঝতে পারলে তো সব অঙ্ককে সহজই মনে হয়, কিন্তু বুঝতে না পারলে তার চেয়ে কঠিন কিছুই নাই। আর এটাই তো অঙ্কের ক্যারেকটার।

-বাব্বাহ্, অঙ্ক নিয়ে ভালোই জ্ঞান অর্জন করেছিস দেখছি। দে বুঝিয়ে দিচ্ছি অঙ্কটা।

.

রিমঝিমকে অঙ্কটা বুঝিয়ে দিয়ে ডিনার সম্পূর্ণ করল আলফী। অতপর রুমে এসে স্ক্রেচটা দেখল, একেবারে পারফেক্ট স্ক্রেচ বানিয়েছে তাহমিনার। স্ক্রেচের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তা বুঝতেই পারে নি।

পরদিন সকাল,

ঘুম থেকে উঠে খাতাটা বন্ধ করে ফ্রেস হয়ে নিল। তারপর তাহমিনার সাথে কি কি কথা বলবে তা মনে মনে ঠিক করে ফেলল। নাস্তা শেষ করে চলল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। ভার্সিটিতে এসে প্রথমেই দেখা করল মাসুম আর সিহাবের সাথে।

-কিরে, কি খবর তোদের? এরকম মন খারাপ করে বসে আছিস কেনো?' মাসুম আর সিহাবকে বলল আলফী

-দেখ আলফী, তুই তাহমিনাকে ভুলে যা। নইলে এর পরিণাম অনেক ভয়াবহ হতে পারে। তখন তোর সাথে সাথে আমাদের উপরেও বিপদ আসতে পারে।' বলল সিহাব

-আরে তোরা দেখিস, কিছুই হবে না। তোরা শুধু শুধুই দুশ্চিন্তা করছিস। আর যদি কোনো বিপদ আসেও তাহলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আসবে, আর না আসলে কোনোদিন বিপদ আসবে না।

-এটা কিভাবে বলছিস যে, বিপদ আসলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আসবে?' অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো মাসুম

-কারণ আমি এই কয়েকদিন তাহমিনাকে যতটা ডিসটার্ব করবো, সেটা আজ পর্যন্ত কেউ কল্পনাও করতে পারে নি। একটা মেয়ের মধ্যে একটা ছেলের জন্য কিছু ফিলিংস তৈরী করার জন্য এর চাইতে ভালো কোনো মাধ্যম নেই। একটা মেয়ে একটা ছেলের প্রতি তত বেশি দূর্বল হবে যত বেশি ছেলেটার কাজ-কর্ম তার মনের ভিতরে জেঁকে বসবে। মেয়েটা ঐ ছেলেটার কথা যত বেশি পরিমানে কল্পনা করবে, ভাবতে তার কথা ঠিক ততটাই তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়বে। আর সেটার জন্য ছেলেটা যত বেশি ডিস্টার্ব করবে ততটাই মেয়েটা ছেলেটার কথা চিন্তা করবে আর তার ফল হবে ছেলেটার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়বে। আর তখন যদি ছেলেটা মেয়েটাকে প্রপোজ করে, তাহলে মেয়েটা ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

-তুই তো দেখি একদম লাভ গুরু, তা তাহমিনা কত নাম্বার?' অবাক হয়ে বলল সিহাব

-আরে পাগলা, প্রেমে পড়লে সবাই লাভ গুরু হয়ে যায় রে। আর তাহমিনা-ই আমার প্রথম প্রেম। এর আগে কোনো মেয়েই আমাকে আকর্ষণ করতে পারে নি। আর তাহমিনাকে দেখেই আমার হার্ট বিট প্রায় দ্বিগুন হয়ে গিয়েছিল, মস্তিস্ক তার সিগনাল পাঠানো স্থগিত করে দিয়েছিল, সবকিছু কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়েছিল, কোনো কিছুই কাজ করছিল না এমনকি কি করবো সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। তারপর থেকে যখনি তাহমিনার সামনে গেছি, ওর কথা চিন্তা করেছি, কিন্বা ওর নাম কোথাও শুনেছি তখনি আমার ঐ একই রকম অবস্থা হয়েছে।

-ওয়াও তুই তো দেখছি তাহমিনার প্রেমে রোমিও হয়ে গেছিস। তারমানে তুইও লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইটকে বিশ্বাস করছিস?' বলল মাসুম

-লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট বা প্রথম দর্শনে প্রেম বলে কিছুই নেই, প্রথম দেখায় যা হয় তাকে বলে ভালোলাগা আর সেটা নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকার ফলেই সৃষ্টি হয় ভালোবাসা। প্রথমবার কেউ কাউকে দেখলেই ভালোবাসতে পারে না, কারণ ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক জিনিস নয়। কিন্তু এটা ঠিক যে, ভালোলাগার জিনিসটার প্রতিই পরবর্তীতে ভালোবাসার জন্ম নেয়। আর বর্তমানে তাহমিনার প্রতি আমার যেইটা আছে সেটা ভালোবাসা আর ভালোলাগার ঠিক মাঝামাঝিতে অবস্থিত। এটাকে বলা যায় আকর্ষণ, প্রচুর পরিমানে আকর্ষণ।

-তারমানে তুই বলতে চাইছিস তাহমিনাকে তুই ভালোবাসিস না? শুধুই আকর্ষণ আর ভালোলাগা!' অবাক হয়ে বলল মাসুম

-অবশ্যই। ভালোবাসা কি এতোই সহজ যে, যখন যাকে ইচ্ছা ভালোবেসে ফেলব? ভালোবাসতে গেলে তার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। তার ভালোলাগা-খারাপ লাগা সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা কাউকে একবার ভালোবেসে ফেললে তাকে কখনো ভোলা যায় না। সে রয়ে যায় সারাটা জীবন হৃদয়ের এক কোনে।

-আর হ্যাঁ, তুই কি আজেই তাহমিনার সাথে কথা বলবি ?

-কথায় আছে না? শুভস্য শিঘ্রম, তাই দেরী করে কি করবো?

-ও আমার একটা কথা এক্ষুণি মনে পড়লো যে আজকেই আমার চাচ্চুর বাসায় যেতে হবে, আমার চাচ্চু খুব অসুস্থ। তাই আমি আর সিহাব যাচ্ছি আমার চাচ্চুর বাসা, আমাদের ফিরতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে। তুই সাবধানে থাকিস, আর কোনো প্রবলেম হলে জানাস।' বলল মাসুম

-আমাকে তাহলে আগে বলিস নি কেনো?' অবাক হয়ে বলল সিহাব

-আমি তো তোকে জানিয়েছিলাম, তুই হয়তো ভুলে গেছিস। চল আমাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে, আর বাই আলফী, ফিরে এসে দেখা হবে।

-ওকে বাই, সাবধানে যাস।

.

সিহাব আর মাসুম চলে গেল। আলফী দেখল তাহমিনা আর তার ফ্রেন্ডরা আসছে তাই তাদের দিকে এগিয়ে গেল।

-হ্যালো তাহমিনা, আই এ্যাম আবিদ আলফী। তুমি ভালোবেসে আলফী বলতে পার।' তাহমিনার সামনে গিয়ে বলল আলফী

.

আশেপাশে যারা ছিলো সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর অপেক্ষা করছে তাহমিনা কি রকম রিয়্যাক্ট করে তা দেখার জন্য।

.

.

[][][][][] চলবে... [][][][][]

সারপ্রাইজ ম্যারেজ — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ