#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ
MD Misad Ali
৩য় পর্ব
.
২য় পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryof.../posts/688395005134271
.
পরদিন সকাল,
সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছে আলফী, শুধু সেই মেয়েটার কথা ভেবে । সকালে বিছানা ছেড়ে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করতে এলো । নাস্তা শেষ করে তাড়াতাড়ি ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো । আলফীর বাবা-মা ভাবছে, ব্যাপার কি ? যে ছেলের ভার্সিটির নাম শুনলে শরীরে ১০৩ ডিগ্রী তাপমাত্রা হতো, সে আজ ভার্সিটি যাচ্ছে । যাক, হয়তো পড়ালেখার প্রতি গূরুত্ব দিতে শিখেছে ।
এইদিকে আলফী তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে এসে তার সদ্য পাওয়া ফ্রেন্ড সিহাব এবং মাসুমের সাথে দেখা করলো । তাদেরকে সবকিছু বললো, এবং খোঁজ নিতে বলল মেয়েটার ব্যাপারে ।
অতপর আলফী গিয়ে বসল ক্যান্টিনে আর সিহাব এবং মাসুম গেল মেয়েটার ব্যাপারে খোঁজ নিতে । প্রায় আধা ঘন্টা পর তারা ফিরে এলো ।
-দোস্ত ট্রিট দে । অনেক কষ্টে মেয়েটার কিছু ডিটেইলস পেয়েছি ।' হাঁসি মুখে বলল সিহাব
-সত্যিই ! কি কি জানতে পেরেছিস ! আর মেয়েটার নাম কি ? কি করে ? কোথায় থাকে ? ওর কি কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে না কি ?' অত্যন্ত উৎকন্ঠিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল আলফী
-অতটা ব্যাকুল না হয়ে আগে ট্রিট দে, পরে সব জানতে পারবি ।' বলল মাসুম
-ওকে চল ।' এক দির্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল আলফী
.
তারপর মাসুম আর সিহাব ভালোভাবে ভুড়িভোজ সেরে নিলো ।
-এবার বল প্লিজ কি কি জানতে পেরেছিস ।'
-মেয়েটার নাম তাহমিনা আক্তার আফিয়া । থাকে আমাদের হোস্টেল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরের একটা বাসায় । ওর বাবা একজন বড়ো বিজনেসম্যান ।' বলল মাসুম
-তাহমিনা থাকে ওর মা-বাবা আর একটা ছোটো ভাইয়ের সাথে । পড়া-লেখায় ব্রিলিয়ান্ট, এখন পর্যন্ত কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় নি । প্রেমকে প্রচুর পরিমানে ঘৃণা করে, এবং তাদেরকেও ঘৃণা করে, যারা প্রেম করে । ওর ছোটো ভাই এবার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে আর ও এবারই অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে আমাদের ভার্সিটিতে । প্রিয় রং সাদা, প্রিয় কাজ বই পড়া, প্রিয় মুভি টাইটানিক (কারণ টাইটানিক মুভির শেষে বিচ্ছেদ হয়েছিল), প্রিয় ফুল কদম ফুল । কিন্তু যেহেতু সে প্রেমকে প্রচুর ঘৃণার চোখে দেখে, তাই ওর কথা ভুলে যাওয়াই ভালো হবে ।' সিহাব বলল
-পাগল, প্রেমে তো সব মেয়েরাই পড়তে বাধ্য, তোরা শুধু দেখতে থাক । দেখবি একদিন তাহমিনা নিজেই আমাকে প্রপোজ করবে ।
-হুহ, এরকম কথা শুধু ফিল্মেই ভালো লাগে, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ।' সিহাব বলল
-আমি তোদের চ্যালেঞ্জ করলাম, তাহমিনা আগামী দুই মাসের মধ্যে যদি আমি তাহমিনাকে প্রপোজ না করি, তাহলে ও নিজে এসে আমায় প্রপোজ করবে ।' একটু জোর দিয়েই বলল আলফী
-আর যদি না করে, তাহলে ?' বলল মাসুম
-তাহলে আর কি ? দুই মাস পূর্ণ হওয়ার পরের দিন আমিই গিয়ে প্রপোজ করবো তাহমিনাকে ।
-আর তখন যদি তোকে রিজেক্ট করে দেয় তাহলে কি করবি ?' বলল সিহাব
-তাহলে ওর কথা আর কোনোদিন এই মুখেও আনবো না । কিন্তু সেটা হবার নয়, দেখে নিস ।
-তোকে যদি তাহমিনা প্রপোজ করে কিন্বা যদি তোর প্রপোজ এ্যাক্সেপ্ট করে তাহলে আমি নিজে তোদের পার্টি দিবো । আর তুই একমাত্র ছেলে না, যে তাহমিনাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছিস । ইতিমধ্যেই শতাধিক ছেলে তার পিছনে ঘুরে ব্যার্থ হয়ে ফিরে গেছে ।' বলল মাসুম
-পার্টি দেবার জন্য তাহলে প্রস্তুতি নে । আর ঐ শতাধিক ছেলেদের চেষ্টায় ত্রুটি ছিল, তাই ওরা ব্যার্থ হয়েছে । কিন্তু আমি ব্যার্থ হবো না, কারণ আমি এখন পর্যন্ত কোনো চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যার্থ হইনি, এবারও হবো না ।' একটু গর্ব করেই বলল আলফী
-সেটা তো সময়ই বলে দিবে ।' সিহাব বলল
-সময় তো বললবেই । কিন্তু তোরা এইটা বল, তোরা এতো খবর কিভাবে পেয়েছিস ?
-গুরু, এইটাই তো আমাদের গড গিফটেড পাওয়ার ।' হাঁসতে হাঁসতে বলল মাসুম
.
ওরা ক্যান্টিনে বসেই আড্ডা দিচ্ছিল, এমন সময় ক্যান্টিনে প্রবেশ করল তাহমিনা আর তার কয়েকজন ফ্রেন্ড । আলফী একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাহমিনার দিকে । কিছুক্ষণ পর বিষয়টা নজরে এলো তাহমিনার এক ফ্রেন্ডের । সে তাহমিনাকে বলতেই, তাহমিনা রাগী দৃষ্টিতে তাকালো আলফীর দিকে । কিন্তু আলফী চোখ সরাল না, অবশেষে তাহমিনারা-ই বেরিয়ে গেল ক্যান্টিন থেকে ।
-দোস্ত, তোদের থেকে আরও একটা হেল্প চাই ।' বলল আলফী
-আবার কি হেল্প ? তাহমিনাকে গিয়ে বলবো, যে তোমাকে আমাদের ফ্রেন্ড পছন্দ করে ?' বলল সিহাব
-আরে নাহ, অতকিছু করা লাগবে না । তোরা জাস্ট ওর দৈনিক রুটিনটার ব্যাপারে খোঁজ নে । আই মিন, ও কখন কি করে, কোথায় যায় এগুলোই ।
-জাস্ট এতটুকুই ! আমি তো ভাবলাম অনেক বড়ো আর কঠিন কোনো কাজ দিবি হয়তো । এটা তো তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেই পাওয়া যাবে, যারা এর আগে তাহমিনার পিছন পিছন ঘুরঘুর করতো ।' বলল মাসুম
-ওকে তাহলে আজ সন্ধ্যায় দেখা কর ।'
-ঠিক আছে ।' সিহাব বলল
.
আলফী ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে এলো । বাসায় এসে ঠান্ডা পানিতে গোসল সেরে খাওয়া শেষ করল । রুমে এসে বইটা হাতে নিয়ে ডুবে গেল কল্পনার জগতে । আলফীর মা ওর রুমে এসে দেখে আলফী পড়ছে । তার মা এটা দেখে খুব খুশিই হলো এবং মনে মনে ভাবলো, যাক ছেলেটার একটু সুবুদ্ধি হয়েছে ।
সন্ধ্যায় আলফী দেখা করলো সিহাব আর মাসুমের সাথে । তারা একটা কফি শপে বসে আড্ডা দিচ্ছে ।
-তোরাকে যে কাজটা দিয়েছিলাম, সেটা কতদূর ?' বলল আলফী
-[একটা কাগজ আলফীর দিকে এগিয়ে দিয়ে] এই নে তাহমিনার সাপ্তাহিক রুটিন । এক সিনিয়র ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করলাম, শুধুমাত্র তোর জন্য । ঐ ভাই তাহমিনার পিছনে দেড় বছর লেগে ছিল, কিন্তু তাহমিনা ওকে কোনো পাত্তাই দেয়নি ।' বলল মাসুম
-থ্যাক্স দোস্ত । কিন্তু এ কি ! একেক দিনের রুটিন একেক রকমের ! একটার সাথে আরেকটার কোনো মিল নেই ।
- ওটাতো হবারই ছিল, আর ঐ ভাইয়ের কাছ থেকে একটা কথা জানতে পারলাম, আজ পর্যন্ত যারা তাহমিনার পিছনে ঘুরছে, তারা কেউই প্রপোজ তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারে নি । শুধু দূর থেকেই দেখেছে ।' বলল সিহাব
-কেনো ? কথা পর্যন্ত বলতে পারেনি কেনো ?' একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করল আলফী
-তাহমিনার বাবা এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি । একবার এক ছেলে তাহমিনাকে ডিস্টার্ব করেছিল । তাহমিনা গিয়ে সরাসরি তার বাবাকে বলে দেয়, আর ফলশ্রুতিতে ছেলেটা আজও হাসপাতালে । তারপর থেকে তাহমিনার সাথে কথা বলতে সব ছেলেরাই ভয় পায় । আর আমাদের মনে হয়, তোর তাহমিনাকে ফলো করাও ঠিক হবে না । তাছাড়া সকালে যেভাবে দেখছিল তোর দিকে, আমার মনে হয় ওর বাবাকে বলে দিয়েছে তোর কথা ।' একটু ভীত হয়েই বলল মাসুদ
-হ্যাঁ, আমারও মনে হচ্ছে ।' মাসুদের কথার সাথে সম্মতি প্রকাশ করল সিহাব
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন