#কানন_সিরিজ_২
#অজানা_রহস্য
MD Misad Ali
১০ম পর্ব
.
৯ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/685058902134548/
.
.
কানন বাসা থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গেল । দেখলো দক্ষিণ দিকে একটা বিশাল বটগাছ । গাছটার কাছে গিয়ে পূর্ব দিকের মাটি সরানো শুরু করল । অনেকটা মাটি সরানোর পর অবশেষে দেখতে পেল একটা মাটির কলস । মাটির কলসের মুখের লাল কাপড়টা খুলতেই কানন দেখল কালো ধোঁয়া উড়তে শুরু করল । সাথে চারিদিক থেকে ভেসে এলো অনেকের কান্না এবং হাঁসির শব্দ । প্রায় ঘন্টাখানেকের এরকম শব্দ আর ধোঁয়ার পর অবশেষে শেষ হলো । কানন তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে গেল ।
পরদিন সকাল,
কানন উঠে ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে গেল বাসা থেকে, সাথে তার ব্যাগ নিয়ে । যাবার আগে ভালোভাবে দেখে নিলো কিছু ফেলে গেল কি না । নাহ্, কিছু ফেলে আসেনি সে ।
কানন ঐ বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এলো বাসায় । বাসায় ফিরে নাস্তা সেরে বের হলো এবং রেখাকে ফোন করে দেখা করতে বলল । কানন গিয়ে বসে আছে নির্দিষ্ট জায়গায় এর কিছুক্ষণ পরেই এলো রেখা আর ইরানা । কাননকে রেখা বলল,
রেখা- জানো কানন, শাকিউর, রিয়াদ আর নুরনাহার এবং তাদের কোম্পানীর কিছু কর্মচারী
কানন- [রেখাকে বাধা দিয়ে] মারা গেছে এটাই তো ?
রেখা এবং ইরানা- [দুজনেই অবাক হয়ে] তুমি কিভাবে জানলে ?
.
কানন ওদেরকে সবকিছু শুরু থেকে বললো । ওরা শুধু অবাক হয়ে শুনতে থাকল । কানন বলল,
কানন- এখন শুধু এইটা প্রমাণ করতে হবে যে, মাসুদ রানা সম্পন্ন নির্দোষ । তিনি টাকা চুরির সাথে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না । টাকা চুরি নিয়ে অনুসন্ধান করতে করতে ওদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য জানতে পেরেছিল, যার ফলে তাকে বিনা অপরাধে অপরাধী বানানো হয়েছে ।
ইরানা- কিন্তু এটা প্রমাণ করবে কিভাবে ?
এমন সময় কাননের ফোনে এমএমএস আসার শব্দ হলো । কানন ফোনটা হাতে নিয়ে এমএমএসটা প্লে করলো । ভিডিওটা দেখার পর কাননের মুখে ফুটে উঠলো হাঁসি এবং হাঁসি মুখে বলল,
কানন-প্রমাণতো পেয়ে গেছি এখন শুধু কোর্টে পৌছানো বাঁকি আছে ।
রেখা- মানেটা কি ? কি প্রমাণ পেয়েছ তুমি ?
কানন- সেটা কোর্টে গেলেই দেখতে পাবে । তা মাসুদ রানার শুনানী কয়টায় আছে ?
রেখা- সাড়ে ১১টায় ।
কানন- তাহলে তো এখনো ঘন্টা দেড়েক আছে হাতে । চলো ধীরে ধীরে কোর্টের দিকে এগোনো যাক ।
তারা কোর্টে পৌঁছে দেখলো মাসুদ রানাকে নিয়ে আসা হয়েছে । রুবেলের চোখে পানি, নুরনাহারের মৃত্যুর ফলে । কানন, রেখা এবং ইরানা এগিয়ে গেলো রুবেলের দিকে । রুবেলের কাছে গিয়ে সব কথা রুবেলকে বললো । রুবেলের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, তার মেয়ে এরকম জঘন্য কাজে সহায়তা করেছে ভাবতেই মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে । দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু । কিছুটা দুঃখে, কিছুটা রাগে আর কিছুটা লজ্জায় বাকরুদ্ধ হয়ে রইলো রুবেল । অবশেষে কোর্টে হাজির করা হলো মাসুদ রানাকে, কানন মাসুদ রানার পক্ষ্যের উকিলকে একটা ভিডিয়ো দিলেন ।
কোর্টে যখন ভিডিয়ো প্লে করা হলো, সবাই অবাক হয়ে দেখলো,
ভিডিয়ো তে দেখা যাচ্ছে, সাকিউর, রিয়াদ, নুরনাহার এবং তাদের সঙ্গিরা নিজে স্বিকার করছে যে তারাই টাকা চুরির সাথে জড়িত । যখন মাসুদ রানা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানতে পেরে গেল, তখন মাসুদ রানার ছেলে মাহিনকে কিডন্যাপ করে । আর মাহিনকে ছাড়ার বিনিময়ে মাসুদ রানাকে দিয়ে ব্যাংকে চুরি করায় এবং ফেঁসে যায় মাসুদ রানা । চুরি করা সমস্ত টাকা লুকিয়ে রাখা আছে রিয়াদ এন্ড টেনিশন ইন্ডাস্ট্রিজের পিছনে ।
এই ভিডিয়ো দেখার পর মাসুদ রানাকে স্বসম্মানে মুক্তি দিলেন সাথে তার চাকরীতে যোগদান করার আদেশ দিলেন জার্জ এবং চুরি হয়ে যাওয়া সব টাকা কালেক্ট করে ফিরিয়ে দেবার জন্য আদেশ দিলেন ।
মাসুদ রানার ছেলে মাহিন দৌড়ে তার বাবার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো । কানন, রেখা আর ইরানা কোর্ট থেকে বেরিয়ে এলো, পিছন পিছন আসলো মাসুদ রানা, মাহিন আর রুবেল । বাইরে দেখা করে মাসুদ রানা কাননকে জিজ্ঞাসা করলো,
মাসুদ রানা- কানন, তুমি ঐ ভিডিয়ো টা কোথায় পেয়েছো ? আর তুমি কিভাবে জানতে পারলে যে আমি নির্দোশ ? আর কিভাবে এটা জানতে পারলে যে, টাকা চুরির পিছনে ছিল সাকিউর, রিয়াদ আর নুরনাহার ?
কানন- সে এক লম্বা কাহিনী । অনেক কিছুই ঘটেছে আপনার জেলে যাওয়ার পর ।
কানন সব ঘটনা বলল মাসুদ রানাকে । এতোগুলো ঘটনা শুনে মাসুদ রানা অবাক হয়ে বলল,
মাসুদ রানা- তারমানে, এই কেসের কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে রাপ্তি, রতন, সাহাদ আর রানীকে সাথে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তাকেও । আর তোমারও প্রাণ সংশয়ে ছিল !
কানন- মারতে তো আপনাকেও চেয়েছিল তারা, জেল থেকে মুক্ত করে । কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠল না ।
এরপর কানন তাদের বিদায় দিয়ে এক অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল । অশ্রুসিক্ত নয়নে কাননে চলে যাওয়া দেখল রেখা আর ইরানা ।
.
এমন সময় আকাশে রংধনুর উদয় হলো, যা অন্য সব রংধনুর চেয়ে একদম আলাদা ।
রংধনুর সাত রং (বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল) দিয়ে লিখা আছে "আমাদের মুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ, কানন" ।
ধীরে ধীরে লিখাটা মুছে গেল । কেউ বুঝল না এটার অর্থ শুধু কানন ছাড়া ।
.
.
[][][][][] সমাপ্ত [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন