#আবার_সেই_জঙ্গলে
MD Misad Ali
৪র্থ পর্ব
.
৩য় পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/673305849976520/
.
আজ সন্ধায় হসপিটাল থেকে রিলিজ দিলেন । এতোটা সময় তাহমিনা আমার জন্য প্রচুর কষ্ট করেছে । ও হয়তো বুঝতে চাইছে না যে, ও আমার সামনে থাকলে কষ্টটা একটু বেশিই হচ্ছে । হসপিটাল থেকে বাসা আমি একাই আসতে পারতাম, কিন্তু তাহমিনা একা ছাড়লো না । বুঝছি না এসবের মানে কি, সে তো অন্য কারো কামিটেড তাহলে আমাকে এত টেক কেয়ার করছে কেনো ? অন্য কারো সাথে এঙ্গেজড একটা মেয়ে আমার জন্য কাল রাত থেকে পড়ে ছিলো হসপিটালে । এখন আবার বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসেছে, অথচ তার সাথে এর আগে কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না । এসব ভাবছি আর জানালার বাইরে তাকাচ্ছি, বাইরে শুধু স্ট্রিট লাইট আর গাড়ি ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ছে না । এমন সময় তাহমিনা বললো,
তাহমিনা- কি ভাবছেন এতক্ষণ ধরে ?
আমি- এমনিই, ও কিছু না । আচ্ছা তোমার এঙ্গেজমেন্ট কার সাথে হয়েছে ?
তাহমিনা- হয়েছে একজনের সাথে । সঠিক সময় এলে ঠিক জানতে পারবেন ।
আমি- কিন্তু তোমার হাতে তো কোনো রিং নাই । এঙ্গেজমেন্টে রিং দেয়নি ?
তাহমিনা- আসলে আমার এঙ্গেজমেন্ট হয়েছিলো যখন আমি দুই বছরের । তখন একটা রিং দিয়েছিলো । সেটাকে আমি গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি ।
.
দেখলাম তাহমিনার গলায় একটা চেন, আর লকেটের জায়গায় একটা ছোট্ট আংটি । এটা দেখে বললাম,
আমি- আরে এ তো দেখি ছোট বাচ্চাদের রিং । এটা তোমার এঙ্গেজমেন্ট রিং ? বাহ্ !
তাহমিনা- আপনাকে বললাম না, আমি তখন দুই বছরের ছিলাম । তখন ভালোভাবেই হাতে পরতে পারতাম ।
আমি- তোমার দুই বছর বয়সের কথাও মনে আছে ? তোমার স্মৃতি-শক্তিতো তাহলে বেশ প্রখর ।
তাহমিনা- আরে নাহ্, এগুলো আমার মনে থাকতে যাবে কেনো ? আব্বু আমাকে বলেছে এইসব ।
.
কথা বলতে বলতে বাসায় পৌছে গেলাম । গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে বলে দিলাম তাহমিনাকে ছেড়ে আসতে, কিন্তু তাহমিনা যাবে না । সে বলছে কালকেই তো আব্বুরা আসছে এখানে, তাহলে আমি বরং রাতটা এখানেই থেকে যাই ।
কি আর করার ! বাসার ভিতরে চলে এলো আমার সাথে ।
বড়ো চাচ্চুর সাথে অনেক্ষণ ধরে গল্প করছে তাহমিনা । আমি রুমে শুয়ে আছি, তবে এতটুকু ভালোভাবেই বুঝতে পারছি যে, তাহমিনা আর বড়ো চাচ্চু বেশ পরিচিত । রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাইনিং রুমে গেলাম, সেখানে গিয়েই অনুভব করলাম মাথাটা আবার ব্যাথা করা শুরু করেছে । মাথা ব্যাথার কারণে রাতে শুধু জুশ আর ঔষধ খেয়েই শুয়ে রইলাম । কিন্তু চোখে ঘুম নাই, কিছু একটা হারানোর যন্ত্রণা আমায় ঘুমাতে দিচ্ছিল না । তারপরেও মনকে সান্তনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করতে থাকলাম, কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না । তাই বিছানা ছেড়ে উঠলাম এবং রুমের ভিতরেই পায়চারী করা শুরু করলাম । এভাবেই কেটে গেলো সারা রাত । মাথার ব্যাথাটা কমলেও বুকের বাঁ-পাশের ব্যাথাটা আরো বাড়ছিল । সকালে ধীরে ধীরে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো । বড়ো চাচ্চু এসে একবার দেখে গেলেন । তার কিছুক্ষণ পরেই এলো তাহমিনা এবং এসেই বললো,
তাহমিনা- সারারাত জেগেই কাটিয়ে দিলেন ?
আমি- সারারাত জেগে কাটালাম মানে !
তাহমিনা- আপনি যে রাতে ঘুমাননি সেটা ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে আপনাকে দেখে ।
আমি- তোমার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না । আসলে কি বলতে চাইছ তুমি ?
তাহমিনা- আপনার চোখ লাল, চোখের নিচে কালো দাগ আর মুখ ফ্যাকাশে । এটা দেখে যে কেউই বলে দিবে যে কাল সারারাত আপনি নির্ঘুম কাটিয়েছেন । কোনো বিষয় নিয়ে কি চিন্তিত ?
আমি- চিন্তিত মানে ?
তাহমিনা- এই ধরুন কোনো কিছু পাবার ইচ্ছা আছে কিন্তু তা হয়তো সম্ভব না । আবার ইচ্ছা করতে পেতে কিন্তু চিন্তা হচ্ছে পেতে গিয়ে হারিয়ে ফেলতে পারেন ।
আমি- এরকম কোনো চিন্তা-ই আমার মধ্যে নাই ।
তাহমিনা- সেটাতো বোঝা-ই যাচ্ছে । কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখেন, যদি কোনো কিছু সত্যিই মন থেকে চাওয়া যায় তবে তা ঠিকই পাওয়া যায় ।
.
এটা বলেই আমার রুম থেকে বেরিয়ে গেলো তাহমিনা । ব্রেকফাস্ট করে বসে আছি এরমধ্যেই এলেন আলতাফ আঙ্কেল, সুমন আর তানজীম আপু । এসেই সুমন তাহমিনাকে বলল,
সুমন- কিরে তাহমিনা, এখন থেকেই এখানে থাকতে শুরু করেছিস ?
তাহমিনা- আর কিছুদিন পর থেকে তো এখানেই থাকতে হবে । তাই আগে থেকেই প্রাকটিস করছি ।
.
ওদের কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝলাম না । তাহমিনা এখানে থাকতে যাবে কেনো ? এর মধ্যেই বড়ো চাচ্চু আমায় ডাক দিলো । আমি বড়ো চাচ্চুর রুমে গিয়ে দেখি আলতাফ আঙ্কেল আর বড়ো চাচ্চু গল্প করছেন । আমায় দেখে বড়ো চাচ্চু বললেন,
বড়ো চাচ্চু- জারিফ, এনাকে চিনো তো ?
আমি- জ্বী চাচ্চু, ইনি আলতাফ আঙ্কেল, আব্বুর বেস্ট ফ্রেন্ড । আর আমার বাল্যকালের বন্ধু সুমনের আব্বু ।
বড়ো চাচ্চু- তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি । তোমার আব্বু আলতাফকে অনেক বড় একটা দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলো, যেটা তুমি ছাড়া কেউ পূরণ করতে পারবে না ।
আমি- কি এমন কাজ চাচ্চু, যেটা আমি ছাড়া কেউ পারবে না ?
বড় চাচ্চু- হয়তো এটা মানতে তোমার অনেক কষ্ট হবে, তোমার আব্বু মৃত্যুর আগে কথা দিয়েছিলো আলতাফকে । যে তোমার বিয়ে তাহমিনার সাথেই দিবে, এমনকি এঙ্গেজমেন্টও হয়ে গিয়েছিলো । তোমার হাতে যে রিং টা আছে ওটা এঙ্গেজমেন্টের-ই, তবে পরে কিছুটা বড়ো করেছ তুমি নিজেই । এখন তোমার হাতেই আছে তোমার আব্বুর শেষ ইচ্ছা ।
.
এই কথা শুনে তো আমার লুঙ্গি ড্যান্স দিতে ইচ্ছা করছিলো । এমনকি মনে মনে ড্যান্সও দিচ্ছিলাম । কিন্তু বাইরে তার বিন্দুমাত্র প্রকাশ করলাম না ।
আমি- কিন্তু চাচ্চু, এতোদিন বলেন নি কেনো ? আর এভাবে কিভাবে বিয়ে করে নিবো ?
বড় চাচ্চু- তুমি এর আগে এটা শোনার মত পরিস্থিতিতে ছিলে না । আর তোমার আব্বুর শেষ ইচ্ছা ছিলো তোমার আর তাহমিনার বিয়েটা ।
আমি- ঠিক আছে চাচ্চু, আব্বুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আমি নিজের জীবন পর্যন্ত দিতে পারি ।
সুমন-[রুমে প্রবেশ করতে করতে] হয়েছে, আর জীবন দিতে হবে না । তুই শুধু বিয়েটা কর ।
.
অবশেষে ১৫ দিন পর বিয়েটা হয়েই গেলো । আমার অবশ্য তাহমিনাকে ভালো লাগে না, কিন্তু কি করার ? আব্বুর শেষ ইচ্ছা বলে কথা । তাহমিনা আর আমি পাশাপাশি বসে আছি, এমন সময় সে বললো,
তাহমিনা- বলেছিলাম না, যদি মন থেকে চাও তাহলে অবশ্যই পাবে ।
আমি- আমি একটা বিষয় বুঝলাম না, তুমি কিভাবে বুঝেছিলে ?
তাহমিনা- মেয়েদের ৩য় চক্ষু থাকে স্যার, যার দ্বারা প্রেমে পড়া বুঝে ফেলে ।
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন