#কানন_সিরিজ_২
#অজানা_রহস্য
MD Misad Ali
৬ষ্ঠ পর্ব
.
৫ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/681941822446256/
.
প্রচন্ড জোরে আওয়াজ হওয়ায় ইরানা আর রেখা পিছনে ফিরে দেখলো কাননের রুমে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে । আগুন দেখে রেখা ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করে দৌড়াতে শুরু করলো কাননের রুমের দিকে । হঠাৎ করে পিছন থেকে কেউ রেখা আর ইরানার হাত ধরলো । তারা পিছনে ফিরে দেখলো কানন দাঁড়িয়ে আছে । কাননকে দেখে তারা দুজনেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো । কানন কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর জিজ্ঞাসা করলো,,,
.
কানন=>"আরে কি করছো তোমরা, ছাড়ো পাঠকরা পড়ছে ।"
রেখা আর ইরানা=>"সরি আমরা ভেবেছিলাম তুমি হয়তো ঘরের ভিতরেই আছো ।"
কানন=>"তা যাই হোক, আমাকে কেউ মারার জন্য হামলা করেছিলো । কিন্তু কে হতে পারে ? আমি যে বেঁচে আছি সেটা প্রকাশ করা যাবে না ।"
ইরানা=>"মানে ? কি বলছো এইসব ?"
কানন=>"কিছুক্ষণ পরেই মিডিয়া, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সবাই চলে আসবে । তোমরা বলবে আমি ঘরেই ছিলাম । আর আগুনে পুড়ে মারা গেছি ।"
রেখা=>"এভাবে মিথ্যা বলবো কেনো ?"
কানন=>"তাহলে আমাকে যারা হত্যা করতে চায় তারা ভাববে আমি মারা গেছি । আর তারা যদি জানতে পারে যে আমি বেঁচে আছি তাহলে আবার
আক্রমন করবে । এভাবে আমাকে আক্রমন করলে সাধারন মানুষেরও অনেক ক্ষতি হতে পারে ।"
ইরানা=>"তা ঠিক । ঐযে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে । তুমি এখন লুকিয়ে যাও কোথাও ।"
.
তখন কানন একটা চায়ের দোকানের পিছনে চলে গেলো । কিছুক্ষনের মধ্যেই তারেক, রুবেল, ফায়ার ব্রিগেড, কিছু পুলিশ সাথে একটি মেয়ে (কিছুটা সুন্দরী সাথে অহংকারী ) এবং মিডিয়ার লোক চলে এলো । মেয়েটাকে কানন চিনতে পারলো না তবে আন্দাজ করলো এই মেয়েটিই নুরনাহার । আগুন নেভানো যখন শেষ পর্যায়ে তখন কয়েকটি গাড়ি এসে থামলো সেখানে । গাড়ি থেকে নেমে
কয়েকজন দাঁড়িয়ে রইলো আর একজন সামনের গাড়ির দরজা খুলে দিলো । দরজা খুলতেন নেমে এলো একজন ভদ্র লোক, গায়ে খুবই দামি কোর্ট পায়ে দামি জুতা । তাকে দেখেই ইরানা দৌড়ে এলো তার দিকে এবং কি যেনো বললো কিন্তু কানন সেটা শুনতে পেলো না । লোকটা এগিয়ে গেলো তারেকের দিকে । তারেক লোকটির সাথে হাত মেলালো এবং কি যেনো বলতে লাগলো । লোকটি আসার কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি কালো গাড়ি এসে থামলো চায়ের দোকানটির সামনে । গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো এক ওভার স্মার্ট যুবক । তাকে দেখে যে কেউই বলবে আলালের ঘরের দুলাল । সে চায়ের দোকানে চা খেলো এবং গাড়িতে গিয়ে বসলো । গাড়িতে বসে বসে সে বারবার আগুনের দিকে তাকাচ্ছে এবং হাঁসছে । এটা দেখে কাননের সন্দেহ হলো কিন্তু সন্দেহ থাকলেই কিছু করা যাবে না, প্রমাণও লাগবে । কানন গাড়ির নাম্বারটা লিখে রাখলো এবং একটা ছোট ফ্লাইং রোবট দিয়ে তার ছবি তুলে রাখলো কয়েকটা । কিছুক্ষণ পর গাড়িটি চলে গেলো । আগুন নেভাতে নেভাতে দুপুর হয়ে গেছে । সব কাজ হয়ে গেছে তাই সবাই চলে গেছে । কানন ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো ওখান থেকে । কোনোরকমে নিজ বাড়িতে ফিরে তার সমস্তকিছু নিয়ে বেরিয়ে পড়লো নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে । কানন জানে তার নিজের বাড়িতে থাকা অনেকটাই বিপদজনক তাই একটা নতুন ফ্লাট পেলে ভালো হবে । কিছুদুর যাবার পর কানন দেখলো একটু ফাঁকা জায়গায় একটা বাড়ি । দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো জমিদার বাড়ি । কানন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো বাড়িটির দিকে । বাড়িটির কাছে এসে কানন দেখলো বাড়িটি পরিত্যাক্ত বাড়ির মতই লাগছে । আর দরজার তালাটাও বেশ পুরানো এবং ময়লাযুক্ত । দেখেই বোঝা যায়, কেউ এই বাড়িতে অনেক দিন ধরেই থাকে না । কানন কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পরও চালাটা খুলতে পারলো না । অবশেষে তার জুতার তলা থেকে নাইফটা বের করলো এবং এক বিশেষ পদ্ধতিতে তালাটা খুললো । এই পদ্ধতি শুধু চোররাই জানে কিন্তু কানন মনে করে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাফিয়ারা যে পদ্ধতিগুলো জানে সেগুলোর সব পদ্ধতিই একজন গোয়েন্দাকে জানতে হবে । কানন ধীরে ধীরে দরজাটা খুলতে শুরু করলো, দরজা ক্যাচ ক্যাচ শব্দে ভূতূড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে খুলে গেলো । কানন বাড়িটির ভিতরে যেতে লাগলো । অনেকদিন থেকে মানুষ না থাকা সত্ত্বেও বাড়ির ভিতরটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার । কানন বাড়িটা ঘুরে দেখতে লাগলো, কানন আরেকটা বিষয় নিয়ে অবাক হলো । এই বাড়িতেতো অনেকদিন থেকেই কোনো মানুষ থাকে না তাহলে বিদ্যুৎ এলো কিভাবে । বাড়িটা ঘুরতে ঘুরতে প্রায় বিকেল হয়ে গেলো কিন্তু এখনো লাঞ্চ করেনি কানন । তাড়াতাড়ি ব্যাগের ভিতরে থাকা বার্গারে কামড় বসাল । সে হাসপাতালের রুম থেকে বেরুনোর সময় টেবিল থেকে বার্গারটা নিয়েছিলো । কানন খাওয়া শেষ করে ফোন দিলো রেখাকে । রেখা ফোন ধরেই বললো.....
.
রেখা=>"হ্যালো, কানন তোমার সাথে কে ছিলো তোমার রুমে ?"
কানন=>"কেনো ? কি হয়েছে ? আমি একাই ছিলাম ওখানে ।"
রেখা=>"তোমার রুম থেকে একটা কঙ্কাল পাওয়া গেছে । সবাই ভাবছে সেটা তোমার ।"
কানন=>"কিন্তু আমিতো একাই ছিলাম, কঙ্কালটা এখন কোথায় ।"
রেখা=>"কঙ্কালটা কে কবর দেওয়া হয়েছে । পুলিশগুলো নিয়ে যেতে চেয়েছিলো, অনেক কষ্ট রক্ষা পেয়েছি ।"
কানন=>"থ্যাংক্স, কিন্তু কঙ্কালটা কার ?"
রেখা=>"জানি না । আর আব্বু আসছে এখন রাখি ।".
কানন ফোন রেখে দিলো আর ভাবতে লাগলো । কাননের সামনে অনেক রহস্য । কানন কি পারবে সব রহস্য উদঘাটন করতে ?
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন