আবার সেই জঙ্গলে — পর্ব ৭

#আবার_সেই_জঙ্গলে

MD Misad Ali

৭ম পর্ব

.

৬ষ্ঠ পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryof.../posts/675637063076732

.

সব ভিনগ্রহের প্রাণীগুলো যখন ফিরে এলো, তখন দেখলাম সবার হাতে একটি করে ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী । তারা ধরে এনেছে এই জঙ্গলে বসবাস করা কিছু প্রাণীকে । যে এলিয়েন সবাইকে ইশারায় আদেশ দিচ্ছিল, সে একে একে সবার ধরে নিয়ে আসা প্রাণীগুলোর মুখে কি যেনো দেখতে লাগলো । এবং যখন সব প্রাণীদের মুখের ভিতর দেখা শেষ, তখন সে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল । কিছুক্ষণ এভাবে বসে থেকে সবাইকে ইশারা করলো, এবং বাঁকি এলিয়েনগুলো তাদের ধরে আনা বন্য প্রাণীদের ছেড়ে দিল । তারপর তারা ইউএফও এর ভিতর চলে গেলো, এবং ইউএফও উড়াল দিলো এলিয়েনদের নিয়ে হয়তো তাদের নিজেদের গ্রহ কিন্বা অন্য কোনো গ্রহের উদ্দেশ্যে ।

আমরা তাদের চলে যাওয়া দেখলাম, এবং ঝোপের ভিতর বাইরে বের হয়ে এলাম । দেখলাম, আলোর বলয় মিলিয়ে গেলো দূর দিগন্তে । তাদের আচরণ থেকে এতটুকু বুঝতে পারলাম, তারা কোনো প্রাণীর খোঁজে এই জঙ্গলে আসে । কিন্তু কি সেই প্রাণী ?

ঝোপের পাশেই আগুন জ্বালালাম, সারারাত জেগেই কেটে গেলো । সারারাত শুধু এই চিন্তাই করলাম, এলিয়েনগুলো কোন প্রাণীর খোঁজে এই জঙ্গলে এসেছিলো ? আর পৃথিবীতে তো অনেক জঙ্গল আছে, তাহলে শুধু এই জঙ্গলেই কেনো আসছে তারা ?

পরদিন সকাল,

তাহমিনা সারারাত নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলো । হালকা খাওয়া-দাওয়া করে আমরা ঠিক করলাম, বাসায় ফিরে যাবো । এই জঙ্গলের এতোসবের কারণ যখন এলিয়েন, তখন আমরা এখানে কি করবো । তাছাড়া এলিয়েনকে তো আর জিজ্ঞাসাও করতে পারি না, কি খুঁজছে তারা । তাহমিনা আর আমি ব্যাগ গুছিয়ে কম্পাসটা হাতে নিয়ে এগিয়ে চললাম জঙ্গলের বাইরে বের হতে । কিছুদূর আসার পর তাহমিনা বলল,

তাহমিনা- জারিফ দেখ, [একটা ব্যাঙ-কে ইঙ্গিত করে] কি সুন্দর ব্যাঙ । চলো সাথে নিয়ে যাই, বাসায় রাখবো ।

আমি- [তাহমিনার হাত ধরে] আরে আরে করছটা কি ? জানো এটা কতটা বিপজ্জনক ? বাইরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে সবাই নিজের মৃত্যু ডেকে আনে ।

তাহমিনা- [আমার কথা শুনে হাঁসছে] কি ? ব্যাঙ-এর কারণে মানুষের মৃত্যু ! এটাও কি সম্ভব ?

আমি- আরে এটা আর স্বাধারণ ব্যাঙ-এর মত নয় । দেখতে অনেক সুন্দর আর সাইজে অনেক ছোট্ট হলেও এদের বিষ দশ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলতে সক্ষম । আর তাছাড়া এদের বিষ মুখে নয়, এদের বিষ থাকে শরীরের চামড়ার উপরে । এদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর শরীরে হাত বোলাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এদের সংখ্যা কম নয় ।

তাহমিনা- কি সাংঘাতিক ! দুই ইঞ্চির একটা ব্যাঙও, মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী !

আমি- হুম, আমাদের খুব সাবধাণে এগোতে হবে । এই জঙ্গলে একটি ভুল পদক্ষেপের ফলে বিপদে পড়তে হতে পারে ।

তাহমিনা- আচ্ছা । কিন্তু এই ব্যাঙের নাম কি ?

আমি- পয়জন ডার্ট ব্যাঙ ।

তাহমিনা- দেখতে যেমন সুন্দর, নামটাও ঠিক তেমনি । [আরেকটি সাপের দিকে ইশারা করে] আরে দেখ দেখ কি সুন্দর একটা সাপ, এর শরীরে যেনো কেউ রঙ্গীন পাতা দিয়ে রেখেছে । এটাও কি বিপজ্জনক ?

আমি- একবার ধরে দেখ, তাহলেই বুঝতে পারবে ।

তাহমিনা- আরে মজা না করে বলো না ।

আমি- এটা বুশ ভাইপার সাপ, অনেকেই একে এ্যাথেরিস হিসপিডাও বলে থাকে । এই সাপের বিষের ভ্যাক্সিন এখনো বের হয়নি । অর্থাৎ কাউকে যদি এই সাপ কামড় দেয়, তার বেঁচে থাকাটা একদম অসম্ভব । এরা দেখতে যেমন সুন্দর, এরা ঠিক তেমনি বিষাক্ত ।

তাহমিনা- এতোকিছু কিভাবে জানো তুমি ?

আমি- এই পাঁচ বছর তো এদের সাথেই কাটালাম ।

.

এরপর আমরা বেরিয়ে এলাম হোয়া বাচু নামের জঙ্গল থেকে যা রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার ক্লাজ নাপোকা শহরে অবস্থিত । আমি আর তাহমিনা ড্যানিয়েলের সাথে দেখা করলাম । ড্যানিয়েল তার বাসায় নিয়ে গেলো এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করলো । দুপুরে আমরা রোমানিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার "চরবা দে বুরতা" খেলাম, সত্যিই অনেক সুস্বাদু একটা খাবার । ড্যানিয়েল এবং তার পরিবারের আতিথেয়তা, বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা আমায় এবং তাহমিনাকে মুগ্ধ করলো । খাবার শেষে ড্যানিয়েলের সাথে গল্পে মেতে উঠলাম,

ড্যানিয়েল- আমাদের দেশ থেকে চলে যাচ্ছ, আমাদের দেশ সম্পর্ক কতটুকু জানতে পারলে ?

আমি- এই হালকা কিছু জানলাম, আপনি একটু আলোচনা করলে হয়তো আরো কিছু জানতে পারবো ।

ড্যানিয়েল- আমাদের রোমানিয়ার আয়তন প্রায় ৯২ হাজার বর্গমাইল যা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ এবং ইউরোপ মহাদেশের দ্বাদশ বৃহত্তম রাষ্ট্র । আমাদের দেশের জনসংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি । এদেশে সবচেয়ে সুবিধাজনক কাজ হচ্ছে মেয়েদের দেখেই বলে দেয়া যায়, সে বিবাহিত নাকি অবিবাহিত । অবিবাহিতরা স্বাধারণত চুল খোলা রাখে আর বিবাহিতরা মারামা নামক এক ধরণের কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখে । আমাদের পার্লামেন্টে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় পার্লামেন্টুল রোমানিয়েই যা বুখারেস্টে অবস্থিত । বুখারেস্টকে পূর্ব ইউরোপের প্যারিস বলা হয় । আমাদের মুদ্রার নাম রোমানিয়ান লিউ, আমাদের ১ রোমানিয়ান লিউ তোমাদের বাংলাদেশী প্রায় ১৯ টাকার সমতুল্য । লিউ শব্দের অর্থ সিংহ । ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীতে জ৮২ থাকা সর্ণের এক বিশাল ভান্ডার রোমানিয়ার মাটির নিচে অবস্থান করছে । আর আমাদের রোমানিয়া জীব-বৈচিত্রে পরিপূর্ণ । আমাদের রোমানিয়ার জনগন প্রচুর পরিশ্রমী, যার ফলে দেশটা দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে ।

.

এভাবেই কথা চলতে থাকলো ড্যানিয়েলের সাথে । বিকালে আমরা রওয়ানা দিলাম ক্লাজ নাপোকা থেকে রেলযোগে বুখারেস্ট । বুখারেস্ট রেলস্টেশন থেকে এলাম বুখারেস্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে । সেখান থেকে সোজা ঢাকা এসে ল্যান্ড করলাম ।

বাসার সবাই তাহমিনাকে জীবিত দেখে তো ব্যাপক খুশি । রাতের খাবার খেয়ে সোজা বেডরুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম ভাঙ্গলো তাহমিনার ডাকে, দেখি চারিদিক অন্ধকার । কিছুটা বোছার চেষ্টা করে এতোটুকু বুঝলাম, আমরা আছি ফাঁকা কোনো জায়গায় । ব্যাপার কি ? ঘুমিয়ে ছিলাম বেডরুমে, আর ঘুম থেকে উঠে দেখি ফাঁকা জায়গায় ! তাহমিনার দিকে তাকালাম, দেখলাম ও অনেক ভয় পেয়ে আছে ।

চারিদিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলাম, এবং যা দেখলাম তাতে যে কারো ভয় পাবারই কথা । আমরা এসে পৌছে গেছি আবার সেই জঙ্গলে । অর্থাৎ পূর্ব ইউরোপের রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার ক্লাজ নাপোকা শহরের হোয়া বাচু জঙ্গলে ।

.

.

[][][][][] চলবে [][][][][]

আবার সেই জঙ্গলে — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ