অজানা রহস্য — পর্ব ৫

#কানন_সিরিজ_২

#অজানা_রহস্য

MD Misad Ali

৫ম পর্ব

.

৪র্থ পর্বের লিংক:

https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/681036359203469/

.

.

কানন ভিডিয়ো টি দেখার পর কাঁদতে শুরু করলো । সে শুয়ে শুয়ে কাঁদছিলো এমন সময় কেউ একজন তার মাথায় হাত রাখলো । কানন চারিদিকে তাকালো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না । কেউ একজন কাননকে বললো, "ভয় পেয়ো না কানন । আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না । তুমি এখন ঘুমাও, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ।"

কানন কিছু না বলে চুপচাপ শুয়ে রইলো । কিছুক্ষনের মধ্যেই হারিয়ে গেলো ঘুমের দেশে ।

সকালে ইরানার ডাকে কাননের ঘুম ভাঙ্গলো । কাননের রাতের সকল স্মৃতি মনে পড়ে আবার চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো । কাননকে কাঁদতে দেখে রেখা জিজ্ঞাসা করলো,,,,

.

রেখা=>"এই কানন কি হয়েছে তোমার ? এভাবে কাঁদছো কেনো ?"

কানন=>"রতন, রানী, সাহাদ আর রাপ্তীর ডেডবডি কোথায় ?"

রেখা=>"কি বলছ এসব ? ওরাতো বেঁচে আছে । ওরা সন্ধার পরে তোমায় দেখতে এসেছিলো কিন্তু...."

কানন=>"[রেখাকে বাধা দিয়ে] আমি জানি সেদিন ওরা মারা গেছে । তাই মিথ্যা বলে লাভ নেই । ওদের কি কবর দেওয়া হয়ে গেছে ? আর আমাকে মিথ্যা বলছো কেনো ?"

ডাক্তার=>"তোমার মানসিক অবস্থা খারাপ দেখে আমিই ওদের সত্যকথাটা বলতে বারণ করেছিলাম । কিন্তু তোমাকে বললো কে ?"

কানন=>"আমার এমনিই আপনাদের সন্দেহ হচ্ছিলো কারণ ওরা আমাকে রেখে কোথাও যেতো না, এখনো যাইনি ।"

ডাক্তার=>"কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব ? ওদেরতো কবর দেওয়া হয়ে গেছে । ওরা কিভাবে তোমার সাথে থাকবে ?"

কানন=>"কবরতো দিয়েছেন দেহকে কিন্তু আত্মাকে মানে স্মৃতিকে তো কবর দেননি । আর আমাকে কখন ছাড়বেন ?"

ডাক্তার=>"তা ঠিক বলেছো, স্মৃতিকে তো আর কবর দেওয়া যায় না । তোমাকে আজ বিকেলেই রিলিজ করা হবে ।"

কানন=>"রেখা, আমার ব্যাগটা কি আছে তোমার কাছে ?"

ইরানা=>"রেখার কাছে নেই, আমার কাছে আছে ।"

কানন=>"ব্যাগের ভিতরে দেখ একটা ল্যাপটপ আছে, ওটা দাও ।"

.

ইরানা ল্যাপটপটা কাননকে দিলো, কানন কিছুক্ষন ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করার পর একটা কাগজে ম্যাপ আঁকলো । ম্যাপটি দেখে রেখা জিজ্ঞাসা করলো,,,

.

রেখা=>"এটা কিসের ম্যপ ?"

কানন=>"[তার পাশ থেকে একটা পত্রিকা দিয়ে] আমাদের উপর হামলা হবার পর থেকে আর কোনো হামলা হয়নি কিন্তু তার আগে মোট ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে । আর প্রতিটি হত্যার পর হত্যাকারি একটা অক্ষর লিখে যেতো । কিন্তু আমাদের বেলায় কোনো অক্ষর পাওয়া যায় নি । সংখ্যা গুলোর প্রথমে পাওয়া গিয়েছে যথাক্রমে, O, I, N, Y, M, S, E, N, O, E, T,,, । আর এই ম্যাপটা হলো সমস্ত হত্যাকান্ডের ম্যাপ । আর যেখানে যেই অক্ষর পাওয়া গিয়েছে সেখানে সেটা লিখা আছে । আমাদের উপর হামলা হয়েছিলো সমস্ত হামলা স্থানের ঠিক মধ্যখানে । কিন্তু এই অক্ষরগুলোর অর্থ কি হবে ?"

ইরানা=>"MONEY STOLEN"

কানন=>"কিভাবে ?"

ইরানা=>"তুমি একবার ভালো করে দেখ । তুমিতো MONEY STOLEN ই লিখেছো ।"

কানন=>"সত্ত্যিইতো Money Stolen মানে #টাকা_চুরি ? তারমানে কি #টাকা_চুরি কেশের সাথে এটা জড়িত ? আরে আগেতো ভেবেই দেখিনি, যারা হত্যা হয়েছে তারা সবাই ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলো । কিন্তু আর সবাই ছুটিতে এসেছিলো । কিন্তু ওরা রেখার উপর হামলা করেছিলো কেনো ? রেখা তুমি এক্ষুনি তোমার ফ্রেন্ডকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করো মাসুদ রানা কি ছাড়া পেয়ে গেছে ?"

.

রেখা ফোনে কথা বলার জন্য বাইরে চলে গেলো । কাননও গভির চিন্তায় ডুবে গেলো । প্রায় ৫ মিনিট পর রেখা ফিরে এলো । রেখাকে ফিরে আসতে দেখে কানন জিজ্ঞাসা করলো,,,

কানন=>"কি বললো ? মাসুদ রানা কি ছাড়া পেয়ে গেছে ?"

রেখা=>"নুরনাহার জানে না তাই বললো আঙ্কেলকে জিজ্ঞাসা করে জানাবে ।"

কানন=>"ঠিক আছে । তোমরা এখন যাও, খবর পেলে জানাবে ।"

.

রেখা আর ইরানা দুজনেই বাইরে চলে গেলো, রেখা

ইরানাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,

.

রেখা=>"ইরানা, কানন তখন বলছিলো সাহাদ, রাপ্তি, রতন আর রানীর আত্মা তার সাথে আছে, তাই

না ?"

ইরানা=>"আমারো তাই মনে হয়েছে । আবার হয়তো এমনিই বলেছে ।"

রেখা=>"আমার কিন্তু মোটেও ভালো ঠেকছে না । আমার মনে হচ্ছে অনেক কথাই গোপন করে যাচ্ছে কানন ।"

.

অন্যদিকে কানন ল্যাপটপে রতন, রাপ্তি, সাহাদ আর রানীর ছবি দেখে চোখের অশ্রু ঝরাতে লাগলো । ৩০ মিনিট পার হয়ে গেলো তার পরেও কেউ কাননের

রুমে আসেনি দেখে তার ব্যাগটা নিয়ে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়ালো । বাইরে এসে দাঁড়াতেই দেখলো দুরে একটা গাছের নিচে বসে গল্প করছে রেখা আর ইরানা । কানন ধীরে ধীরে তাদের ওখানে যেতে লাগলো । কিন্তু কিছুদুর যেতেই খুবই বিকট একটা শব্দে চারিদিক কেঁপে উঠলো । রেখা আর ইরানা পিছনে ফিরে দেখলো ...

.

.

[][][][][] চলবে [][][][][]

অজানা রহস্য — সব পর্ব

মন্তব্যসমূহ