#আবার_সেই_জঙ্গলে
MD Misad Ali
২য় পর্ব
.
১ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/671741686799603/
.
.
আমি ক্লাব থেকে বের হচ্ছি ঠিক এমন সময় হঠাৎ আননোন নাম্বার থেকে ফোন এলো । আমি রিসিভ করে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছিলাম, তখন কেউ আমার হাত ধরে টান দিলো । গিয়ে পড়লাম রাস্তার ধারে । তারপর আর কিছু মনে নেই,
চোখ মেলে দেখি হসপিটালের বেডে শুয়ে আছি । পাশে একটা মেয়ে বসে আছে, মেয়েটা খুব সুন্দর না হলেও কেমন যেনো মায়াবতী চেহারার । তার থেকে চোখ সরাতে পারছি না, তার চোখের দিকে যতই তাকাচ্ছি ততই হারিয়ে ফেলছি নিজেকে । তার চোখে কি কোনো জাদু আছে নাকি ! তার কপালের তিল তার লাবন্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে । হঠাৎ অনুভব করলাম, আমার হৃদস্পন্দন দ্বিগুন হয়ে গেছে । একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছে । কিছুই মাথায় আসছে না, এ কি হয়েছে আমার । কিছু বলতে চাইলাম, কিন্তু কোনো শব্দ মাথায় আসছে না ।
মেয়েটা এতক্ষণ আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল, এবার বলল,
মেয়েটা- আপনি কি পাগল ? রাস্তায় কিভাবে চলতে হয় জানেন না ? আমি না দেখলে তো ট্রাকটা আপনাকে ধাক্কা দিতো । আর আপনি এই হাসপাতালেই আসতেন তবে এই রুমে নয় মর্গে ।
.
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিনা । শুধু তাকিয়ে আছি মেয়েটার দিকে । মেয়েটা আমাকে চুপ থাকতে দেখে আবার বলল,
মেয়েটা- কি হলো, আপনি কি বোবা নাকি ? কিছু বলছেন না যে ।
.
এমন সময় ডাক্তার এলো, ডাক্তারকে দেখে মেয়েটা বাইরে গেলো । এতক্ষণে অনুভব করলাম, মাথায় প্রচুর ব্যাথা । ব্যাথার কারণ জানতে অটোমেটিকলি হাত চলে গেলো মাথায়, বুঝলাম মাথায় পট্টি বাঁধা । ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম,
আমি- স্যার, আমি এখানে কেনো ?
ডাক্তার- গতকাল আপনি ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন । তখন একটা মেয়ে আপনার হাত ধরে টান দেয়, কারণ একটা ট্রাক আপনাকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল । কিন্তু আপনি ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যান এবং ফুটপাথে পড়ে থাকা ইটে আপনার মাথা ফেটে যায় আর আপনি অজ্ঞান হয়ে যান । তখন ঐ মেয়েটিই আপনাকে নিয়ে আসে হসপিটালে ।
আমি- মেয়েটা কে ?
ডাক্তার- মেয়েটার নাম তাহমিনা আক্তার আফিয়া । তার বাবাও আপনার মত বড়ো বিজনেসম্যান, আলতাফ উদ্দীন সাহেব ।
আমি- ও তাহলে মেয়েটা এএসটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকের মেয়ে । যে কোম্পানী বর্তমানে আমার কারণে ২নং হয়েছে ।
.
আমাদের কথা বলার মাঝেই প্রবেশ করলো আলতাফ উদ্দীন সাহেব, তার ছেলে সুমন এবং বড়ো মেয়ে তানজীম । পিছন পিছন এলো সেই মেয়েটি মানে, তাহমিনা আক্তার আফিয়া । আলতাফ উদ্দীন সাহেবের হাতে ফুলের তোড়া । আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,
আলতাফ- জারিফ, এখন কেমন অনুভব করছো ?
আমি- এইতো আঙ্কেল, মাথাটা হালকা ব্যাথা করছে, তবে ঠিক আছি ।
আলতাফ- তোমার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরতো আমাদের বাসা যাওয়া ছেড়েই দিয়েছ ।
আমি- আসলে আঙ্কেল তখনতো মানষিকভাবে অসুস্থ ছিলাম, সুস্থতা লাভ করতে না করতেই আবার কোম্পানীর দায়িত্ব এসে পড়ে আমার উপর । তাই কোথাও সেভাবে যাওয়া আর হয়ে ওঠে না । তা আঙ্কেল, আপনারা কেমন আছেন ?
আলতাফ- এইতো বাবা, চলছে কোনো রকমে । আমি তোমাদের বাসা যাবো যাবো করছিলাম, কিন্তু কাজের চাপে যাওয়া হচ্ছিলো না । তোমার বড়ো চাচ্চু এখন কেমন আছে ?
আমি- ভালোই আছে, তবে বেশি হাঁটা-চলা করতে গেলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন ।
আলতাফ- আমিও ভাবছি কোম্পানীর দায়িত্ব এদেরকে বুঝিয়ে দেবো । তাই সুমনের জন্য ভালো একটা মেয়ে খুঁজছি, তানজীমের জন্য ছেলে আর তাহমিনাতো এঙ্গেজড ।
.
কথাটা শুনে বুকের বাঁ-পাশে হালকা ব্যাথা অনুভব করলাম । তাহমিনার দিকে তাকালাম, দেখলাম সে মুচকি মুচকি হাঁসছে । হাঁসিটা সবার মুখেই দেখলাম, কিন্তু কোনো অর্থ বুঝতে পারলাম না । আঙ্কেলকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
আমি- আচ্ছা আঙ্কেল, সুমন আর তানজীমকে তো অনেক জায়গায় দেখেছি । কিন্তু তাহমিনাকে কোথাও দেখি নি কেনো ?
আলতাফ- তাহমিনা একটু স্বাধীনচেতা । ও স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতেই বেশি ভালোবাসে । প্রায় সময়তো কি সব এ্যাডভেঞ্চার করে বেড়ায়, তাই আমাদের সাথেই ওর দেখা হয় অনেক দিন পর পর । আচ্ছা বাবা থাকো তাহলে, কালকে তোমাদের বাসায় যাবো । আর তাহমিনা, তুই এখানেই থেকে জারিফের খেয়াল রাখ ।
তাহমিনা- ওকে আব্বু ।
.
ওনারা চলে গেলেন তাহমিনাকে রেখে । আমি চুপচাপ শুয়ে শুধু তাহমিনাকে দেখছি । তাকে যতই দেখছি ততই বুকের বাঁ-পাশের যন্ত্রণাটা তিব্র হচ্ছে । তাই বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলাম না, চোখ বন্ধ করে রইলাম । প্রায় আধাঘন্টা থেকে রুমটাতে কোনো শব্দ হয়নি, নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে রুমটাকে । অবশেষে নিস্তব্ধতার অবশান ঘটাতে হলো আমাকেই, আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
আমি- আচ্ছা তাহমিনা, তুমি তো নাকি এ্যাডভেঞ্চার খুব পছন্দ করো । তা কোথায় কোথায় গিয়েছিলে এতোদিন ?
তাহমিনা- অনেক জায়গায়, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর, বন-জঙ্গল অনেক জায়গায় । যেখানেই নতুন কিছুর গন্ধ পাই, সেখানেই ছুটে যাই ।
আমি- বিয়ের পর কি দুজনে মিলে যাবে এ্যাডভেঞ্চারে ? নাকি ওখানেই সমাপ্তি হবে ?
তাহমিনা- আপনি যেতে চাইলে অবশ্যই যাবো । কিন্তু বিয়ের পর একা যাবো না ।
আমি- আমি গেলে মানে ? আমি দুজনে বলতে তোমাদের দুজনের কথা বলেছিলাম ।
তাহমিনা- আমিও হয়তো সেটাই বলেছি, আপনিই বুঝতে ভুল করেছেন । সে যাই হোক, বিয়েটা কখন করছেন ?
আমি- আর বিয়ে, কোনো মেয়ে আছে কি আমার জন্য ?
তাহমিনা- আশেপাশে খুঁজে দেখেন, থাকলে তো থাকতেও পারে ।
আমি- আমার আশেপাশে তো কাউকেই দেখি না, একজনকে ছাড়া ।
তাহমিনা- কেনো একটাতে হবে না ? আপনার বিয়ে করার জন্য কি হাজারটা মেয়ে লাগবে ?
আমি- কিন্তু সে তো ইতিমধ্যেই অন্যকারো হয়ে গেছে ।
তাহমিনা- সত্যিই কি অন্যকারো হয়ে গেছে নাকি আপনারই আছে সেটা সময়ই বলে দিবে ।
আমি- তাহলে এখন কি করা যায় ?
তাহমিনা- এখন শুধুই প্রতিক্ষা সঠিক সময়ের । বাই দ্যা ওয়ে, আমি আগামী শুক্রবার যাচ্ছি তাজিংডং, আপনি কি সফরের সঙ্গি হবেন ?
আমি- সঙ্গি তো অনেক কিছুরই হতে চাই, তবে এইরকম সফরের হলে ভাবতে হবে ।
তাহমিনা- ওকে ভেবেই জানান, কিন্তু আমার মনে হয় উত্তরটা হ্যাঁ-ই হবে । আর কালকের পর তো আরো নিশ্চিত ।
আমি- কেনো ? কাল আবার কি হবে ?
তাহমিনা- সেটা তো কালকেই জানতে পারবেন । এতো অধৈর্য্য হচ্ছেন কেনো ?
.
এভাবেই কথাবার্তা চলতে থাকলো আমাদের মাঝে ।
আমাদের প্লেন ল্যান্ড করলো রোমানিয়ায় ।
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন