#সারপ্রাইজ_ম্যারেজ
MD Misad Ali
২য় পর্ব
.
১ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/687599631880475/
.
-অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক মানেই মোবাইল ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা, একসাথে ঘুরতে যাওয়া, পার্কে বসে গল্প করা, হাত ধরে হাঁটা, লং ড্রাইভ, অন্ধকার কফি শপ । অতি সহজ ভালোলাগা থেকে দুইটা শরীর কাছাকাছি আসলে দুর্বল চিত্তের অতি স্বাভাবিক শরীরের চাহিদা চরিতার্থ করার প্রয়াস আসবেই । সে যতই ইনোসেন্ট হোক না কেনো, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সবারই ছিল, আছে আর থাকবে । মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেন, যেখানে দুজন বেগানা নারী-পুরুষ নির্জনে একত্র হয়, সেখানে তৃতীয়জন তাদের সঙ্গী হয় আর তা হলো শয়তান ।[জামে তিরমিযী, হাদিস : ১১৭১] এভাবে কিছুদিন প্রেম চলার পর তাদের সম্পর্ক শারীরিক মিলন পর্যন্ত গড়িয়ে যায় । আর ফলশ্রুতিতে পাওয়া যায়, অবৈধ সন্তান নিয়ে হাসপাতালে গর্ভপাত, রিকশা-সিএনজিতে মূল্যবোধ নৈতিকতার বিসর্জন, বয়ফ্রেন্ডের লালসার শিকার হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গণধর্ষণ, বাজারে তার ভিডিয়ো, নিজের অসম্মান, পরিবারের অসম্মান আর এতো এতো অসম্মান সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যা ।' বলল জারিফ
-কিন্তু আমি তো তাকে বিয়েই করবো । তাছাড়া তাকে বিয়ে করা আগে স্পর্শ পর্যন্ত করবো না । তাই এসব পরিস্থিতির শিকার হতে হবে না আমাদের । তাহলে কেনো এমন প্রেম হারাম হবে ?' আলফী বলল
-তোর মতো এমন কথা শুরুতে সবাই বলে, কিন্তু শয়তান তাদের এমন কাজ করতে বাধ্য করে । আর বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একে অপরের জন্য থাকে আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, প্রশান্তি কিন্তু বিয়ের আগে প্রেমে থাকে সন্দেহ, শরীরকেন্দিক ভোগবাদী চিন্তা, মানষিক উত্তেজনা আর ধীরে ধীরে আত্মিক অবক্ষয় । বিয়ের আগে যারা প্রেম করে তাদের সবার মাঝে সবচেয়ে বেশি থাকে সন্দেহ, সে কি আমায় সত্যিই ভালোবাসে ? না কি সবই অভিনয় ? কিন্তু এটা একজন স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে কখনোই স্থান পায় না । ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্কের পবিত্র আর বৈধ পন্থা হলো বিয়ে । এর বাইরে অর্থাৎ বিয়ের আগে নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, লিভ টুগেদার এসব সম্পূর্ণরূপে হারাম । তাছাড়া, বিয়ের আগে প্রেম করলে মানষিকভাবে অশান্তিতে থাকবি । আর প্রেম করে বিয়ে করার পর, অনেক ঝামেলার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । এটারও কোনো গ্যারান্টি নাই যে, তুই যার সাথে রিলেশনে যাবি তার সাথেই তোর বিয়ে হবে ।
-এসব বাদ দিয়ে এবার বল, তুই কি আমায় সাহায্য করবি ?' বিরক্তিভাব নিয়ে বলল আলফী
-তুই বলতে চাইছিস, মেয়েটার সাথে তোর রিলেশনের ব্যাপারে ?
-হ্যাঁ, আমি তো এটাই বলছি তোকে ।
-আমি তাহলে এতক্ষণ ধরে কি বোঝালাম তোকে ?' অবাক হয়ে প্রশ্ন করল জারিফ
-তারমানে তুই আমাকে কোনো সাহায্য করবি না । তাই তো ?
-তুই যদি বলিস, তুই মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাস । তাহলে তোর বাসায় গিয়ে সবাইকে বলে তোদের বিয়ের ব্যাবস্থা করে দিতে পারি । কিন্তু যদি বলিস মেয়েটার সাথে আগে প্রেম করবি তারপরে বিয়ে করবি । আর যদি ভেবে থাকিস এই কাজে আমি তোকে সাহায্য করবো, তাহলে তোর ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ।
-আমি বুঝি না, তুই কেমন ফ্রেন্ড । আমার সদ্য প্রাপ্ত ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে যদি সাহায্য চাই, তারা অবশ্যই সাহায্য করবে ।'
-দেখ আলফী, তুই কোনো ভালো কাজে আমার থেকে সাহায্য চাইলে অবশ্যই পাবি । কিন্তু দয়া করে খারাপ কাজের সঙ্গী হিসেবে আমাকে আশা করিস না ।
-তুই আমার সাথে আর কথাই বলবি না কোনোদিন । আর দেখাও করবি না, তোর মত ফ্রেন্ডের আমার প্রয়োজন নাই ।' একটু রেগেই বলল আলফী
-আমার সাথে কথা বলবি না ঠিক আছে । কিন্তু প্লিজ এরকম কোনো কাজ করিস না ।
.
তখন কোনো কথা না বলেই আলফী ওখান থেকে চলে গেল । জারিফ শুধু সেদিকে তাকিয়ে থাকল এবং দির্ঘশ্বাস ফেলল । জারিফ ততক্ষণ আলফীর গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকল যতক্ষণ না সে হারিয়ে গেলো দূর দিগন্তে । অবশেষে জারিফ তার নিজ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেল, এক বুক চাঁপা যন্ত্রণা নিয়ে । ছোটোকাল থেকেই আলফী আর জারিফ খুব ভালো বন্ধু । তারা যে কাজই করুক না কেনো, দুজনেই পরামর্শ করেই করতো । আলফীর সব ভালো কাজের সঙ্গী হয়ে ছিল জারিফ এবং সকল খারাপ কাজ জারিফের একটা কথায়-ই ত্যাগ করতো আলফী । কিন্তু আজ হঠাৎ কেনো এমন করলো ? এই একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে থাকলো জারিফের মাথার ভিতর ।
অপরদিকে আলফী কিছুটা দূরে গিয়ে চিন্তা করছে, কাজটা কি আমি ঠিক করলাম ? জারিফ তো আমার সকল ভালো কাজে সহায়তা করেছে আর খারাপ কাজগুলো বর্জন করতে বলেছে । কিন্তু এটা আবার কি খারাপ কাজ ? আমি তো মেয়েটার সাথে দৈহিক সম্পর্কের জন্য মিথ্যা প্রেমের নাটক করবো না । আমি মেয়েটাকে সত্যিই ভালোবাসবো এবং বিয়েও করবো ক্যারিয়ারটা গঠন হলেই । আর এখন বিয়ে করলে তো আমার ক্যারিয়ারটার বারটা বেজে যাবে । শুধু শুধুই জারিফ আমাকে বাধা দিচ্ছে । যদি বিয়ের আগে প্রেম করা হারাম হতো, তাহলে লাইলী-মজনু, শ্রী-ফরহাদ এদের প্রেমও হারাম ছিল । এমনকি আজকাল অনেক ইমানদার ব্যাক্তিও প্রেম করে বিয়ে করছে, তাহলে শুধু আমার বেলাতেই কেনো হারাম হবে ?
এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় পৌঁছে গেছে আলফী । তার মা খেতে ডাকছে কিন্তু সে বলছে ক্ষুধা নেই । বেশ কয়েকবার ডাকার পর খেতে বসেছে, কিন্তু খাওয়া বাদ দিয়ে কি যেনো গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে । এমন সময় কেউ চিমটি কেটে তার কল্পনার জগতে স্বপ্ন বোনার ব্যাঘাত ঘটালো । তাকিয়ে দেখে তার ছোটো বোন রিমঝিম, তারদিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাঁসছে ।
-কি খবর ভাইয়া ? কি এতো ভাবছো ?' হাঁসতে হাঁসতে জিজ্ঞাসা করল রিমঝিম
-কি আবার ভাববো ? কিছুই ভাবছি না ।' একটু ইতস্তিত ভাবে বলল আলফী
-তাহলে ভাতের দিকে তাকিয়ে বসে আছ যে, খাচ্ছ না কেনো ?' আবার প্রশ্ন করল রিমঝিম
আলফী দেখে তার বাবা-মা ও তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।
-ও এমনিই, সামনে আমার এক্সাম চলে আসছে । কিন্তু আমার তো সেই রকম কিছুই পড়া হয়নি । আর তেমটা ভার্সিটিতেও যাওয়া হয়নি । তাই এক্সাম নিয়েই কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছে । কি যে হবে...
-এ কয়দিন তাহলে ভালোভাবে পড়া-লেখা করো, আর এক্সাম খারাপ হলে কিন্তু সোজা অফিসে বসিয়ে দিবো ।' বলল আলফীর আব্বু
.
আলফী আর কোনো কথা না বলে তাড়াতাড়ি খেয়ে তার রুমে গেল । রুমে ঢুকেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলো । তারপর আবার কল্পনার জগতে হারিয়ে গেলো । এবার কেউ বিরক্ত করবার নেই । কল্পনার জগতটা যদি বাস্তব হতো তাহলে কতই না ভালো হতো ।
.
.
[][][][][] চলবে... [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন