#আবার_সেই_জঙ্গলে
MD Misad Ali
৫ম পর্ব
.
৪র্থ পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryof.../posts/674108089896296
.
পরদিন সকাল,
ঘুম থেকে উঠে দেখি ছয়টা বাজছে । এমন সময় রুমে প্রবেশ করল ড্যানিয়েল এবং আমাকে ঘুম থেকে জাগতে দেখে বলল,
ড্যানিয়েল- আরে জারিফ, ঘুম থেকে জেগে গেছ দেখছি । যাক, তোমাকে আর কষ্ট করে জাগাতে হলো না । চলো ফ্রেস হয়ে নাও, ব্রেকফাস্ট রেডি হয়ে আছে ।
.
ফ্রেস হয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম এবং বেরিয়ে পড়লাম হোয়া বাচুর উদ্দেশ্যে । একটা মোটর গাড়িতে করে আসতে প্রায় আধা ঘন্টা সময় লাগলো । আমায় নামিয়ে দিয়ে বিদায় নিলো মোটর গাড়ি চালক ।
এখন আমি দাড়িয়ে আছি এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় জঙ্গলের সামনে, যার নাম হোয়া বাচু । রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার ক্লাজ নাপোকা শহরে অবস্থিত এই রহস্যময় জঙ্গলটির আয়তন প্রায় ২৫০ হেক্টর । বাইরে থেকেই জঙ্গলটিকে দেখে অনেক ভয়ংকর বলে মনে হচ্ছে । ব্যাগের কম্পাস আর ম্যাপটা দেখে নিলাম ঠিকঠাক আছে কি না । ধীরে ধীরে জঙ্গলের দিকে এগুতে লাগলাম, ঠিক এমন সময় শুনতে পেলাম মহিলাদের কান্নার আওয়াজ । এই শব্দের কথাই এলাকাবাসীরা বলতো, সেই শব্দ শুনেই কাঁধ বেয়ে শীতল স্রোত বয়তে শুরু করেছে । আমি যতই ভিতরে যাচ্ছি ততই জঙ্গলের ঘনত্ব বাড়তে দেখছি । কিছুটা ভিতরে আসার পর দেখলাম, একটা সাপ মরে পড়ে আছে । সাপটার মুখ দিয়ে রক্ত বেয়ে পড়েছে । একটু দূর থেকেই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম, এটা ন্যাটিক্স সাপ । ন্যাটিক্স সাপ স্বাধারণত ইরানের লার ভ্যালি নামক অঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু রোমানিয়ায়ও এই সাপ থাকতে পারে কেউ কল্পনাও করে নি । ন্যাটিক্স সাপের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা বিপদের আভাস পাওয়া মাত্রই নিজের মুখ দিয়ে রক্ত বের করে এবং মরার ভান করে পড়ে থাকে । যখন কেউ ভাবে যে সাপটি মারা গেছে এবং এর কাছে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তার মরণ ছোবলে কুপোকাত করে ফেলে শিকারকে । এরা অত্যান্ত বিশাক্ত সাপ, এটাকে এ্যাভয়েড করে চলাটাই আমার জন্য মঙ্গল । তার থেকে কিছুটা দূর দিয়ে এগিয়ে চললাম ভিতরের দিকে । কম্পাসটা বের করতেই মন খারাপ হয়ে গেল, কারণ কম্পাসের মতে আমি এতক্ষণ ভিতরের দিক থেকে বাইরে যাচ্ছিলাম । তারমানে গোলক ধাঁধাঁর কারণে, ভিতরে এসে আবার সে পথ দিয়েই বাইরে যাচ্ছিলাম । জঙ্গলে গাছের ঘনত্ব বেশি হওয়ার ফলে এটা ঘটেই থাকে । আবার পিছন ফিরে হাঁটতে থাকলাম কম্পাস হাতে করে । যাওয়ার সময় যেখানে ন্যাটিক্স সাপটাকে দেখেছিলাম, সেখানে এখন একটা মৃত খরগোশ পড়ে আছে আর সাপটা উধাও । হয়তো এগিয়ে চলেছে নতুন শিকারের খোঁজে । এমনিতেই গা-ছমছমে পরিবেশ তার মধ্যে কিছুক্ষণ পর পর শোনা যাচ্ছে মহিলাদের হাঁসি কিন্বা কান্নার শব্দ । কিছুক্ষণ হাঁটার পর নিজের উপরই প্রচন্ড রাগ হলো । আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে, এই জঙ্গলে চুম্বকীয় ও তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের বেশ কিছু বিচ্যুতি আছে । যার ফলে কম্পাস উল্টোপাল্টা কাজ করা শুরু করেছে আর আমি কম্পাস ফলো করে পৌঁছে গেছে যেখানে দিয়ে জঙ্গরে প্রবেশ করেছিলাম, ঠিক সেখানে । নিজের উপরেই প্রচুর রাগ হচ্ছিল তার চেয়েও বেশি রাগ হচ্ছিল কম্পাসের উপর । মনে হচ্ছিল একটা আছাড় মারি কম্পাসটাকে । কিন্তু একটা সমাধানতো পেলাম, কম্পাস যা দেখাবে আমাকে ঠিক তার উল্টোটা বুঝতে হবে । তাই আবার ভিতরে এগিয়ে যেতে লাগলাম । ভিতরে এগিয়ে যেতে যেতে শুনতে পেলাম রক্ত হিম করা গর্জন । গর্জন শুনেই বুঝলাম, এটা ভাল্লুকের গর্জন তাও এমনি সেমনি ভাল্লুক নয় বাদামি ভাল্লুক বা ব্রাউন বিয়ার । রোমানিয়ার বিখ্যাত ব্রাউন বিয়ারের নাম অনেক শুনেছি, আজ মনে হচ্ছে সাক্ষাতও হয়ে যাবে । আর সাক্ষাত হলেই প্রাণ নিয়ে বাঁচার চিন্তা বাদই দিতে হবে তাছাড়া বিপদ যে এদিকেই এগিয়ে আসছে তা নিশ্চিত । তার গর্জনের শব্দ ধীরে ধীরে বাড়ছে, তার মানে সে এদিকেই আসছে । এই জঙ্গলে যে আর কি কি আছে আল্লাহ্ই জানে । আমি তাড়াতাড়ি একটা ঝোপের মাঝে লুকিয়ে পড়লাম । কিন্তু ভাগ্য ভালো ছিল, ভাল্লুকটা গর্জন করতে করতে অন্য দিকে চলে গেছে । দেরী না করে তাড়াতাড়ি ভিতরের দিকে এগুতে থাকলাম । জঙ্গলটা যেমন ভয়ংকর, ঠিক তেমনি বৈচিত্রপূর্ণ । হরেক রকমের পশু-পাখি, বিভিন্ন রকমের গাছ, কীট-পতঙ্গ অনেক রকমের জীবের বসবাস এই জঙ্গলে । শুধুমাত্র কোনো মানুষ বসবাস করে না এই জঙ্গলে । প্রায় সন্ধ্যার নাগাদ পৌছালাম এক ফাঁকা জায়গায়, একটা বিশাল গোল চত্বর । তারমানে এটাই সেই জায়গা, যেখানে কোনোদিন কোনো উদ্ভিদ পর্যন্ত জন্মায়নি । এতো ঘন জঙ্গলের মাঝে এরকম ফাঁকা জায়গা, সত্যিই রহস্যজনক । জায়গাটায় কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর দেখলাম, কিছু জায়গার মাটি পোড়া পোড়া আছে । আর কিছু জায়গায় পাউডারের মত কিছু পড়ে থাকতে দেখলাম । ঐ জায়গা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে লুকিয়ে থাকলাম, রাত তখন ৯ টার মত হবে । হঠাৎ দেখলাম ক্ষীণ আলোর আভা দেখতে পেলাম আকাশে । সেটাকে তারা বা প্লেনের আলো বলে উড়িয়ে দিতে চাইলাম, কিন্তু পরক্ষণেই আমার ধারণা ভুল প্রমানীত হলো । দেখলাম গোলাকার এক আলোর ঝলক নিচে নামছে, ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো । নিজের অজান্তেই মুখ থেকে শব্দটা বের হলো, "ওয়াও ইউএফও"
ইউএফও ল্যান্ড করলো সেই গোলাকার ফাঁকা জায়গায় ।
বুঝলাম, এই ইউএফও-ই দেখেছিলো জীববিজ্ঞানী আলেকজান্দ্রু সিফট এবং এর ছবিও তুলেছিলেন তিনি । তাছাড়া ১৯৬৮ সালে এমিল বার্নিয়াও এই ইউএফও টাকেই দেখেছিল । এবং এলাকাবাসীও তাহলে এটার কথাই বলছিল ।
আমি এগিয়ে গেলাম সেই গোল চত্বরের দিকে । দেখলাম ইউএফও থেকে বেরিয়ে আসছে, নীল রংয়ের এক ধরণের প্রানী । প্রানীগুলো মানুষের মত হাঁটা-চলা করছে । ২০ টা প্রানী বের হলো ইউএফও থেকে । তাদের একজন কি যেনো ইশারা করলো, বাঁকি সবাই ভিতরে চলে গেলো ।
তাদের ভিতরে চলে যাওয়ায় কিছুটা ভয় পেলাম, ওরা আবার বুঝে ফেলে নি তো । কিন্তু না, তারা গিয়েছিলো কয়েকটা বাঘ, সিংহ, সাপ আর সুন্দর সুন্দর কিছু পাখি ভিতর থেকে নিয়ে আসার জন্য । বাইরে এনে সবগুলোকে ছেড়ে দিলো । ছাড়া পেয়েই তারা ছুটে চললো, এক মুহূর্তও দেরী না করে ।
আমার পাশ দিয়েও একটা সিংহ চলে গেলো, কিন্তু আমায় কিছু করলো না ।
সব বাঘ, সিংহ, সাপ আর পাখিগুলো উড়ে চলে যাওয়ার পর সব অদ্ভুত প্রাণীগুলো বসে পড়ল মাটিতে ।
এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন হাত রাখল আমার কাঁধে । ভয়ে আমার হৃদপিন্ড প্রায় বেরিয়ে আসার মত অবস্থা । ভয়ে ভয়ে পিছনে ঘুরে তাকালাম,,,
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন