#কানন_সিরিজ_২
#অজানা_রহস্য
MD Misad Ali
৯ম পর্ব
.
৮ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryo.../posts/684392195534552/
.
.
কানন যখনি নাইফটা পেটে ঢুকাতে যাবে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বললো সামিম মাঝি,
সামিম- বলছি বলছি, আমায় মেরো না ।
কানন- তাহলে সত্যি করে বলেন । কে পাঠিয়েছে আপনাকে আর কি কি করতে বলেছে ?
সামিম- আমাকে সাকিউর পাঠিয়েছে, রেখা আর ইরানার উপর নজর রাখতে । তারা যদি কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে কথা বলে তাহলে তাকে খবর দিতে বলেছে । এর জন্য আমায় এক দিনে ১৫ হাজার টাকা দিবে বলেছে ।
কানন- ওহ্, তাহলে এই ব্যাপার । যান, এইবারের মত ছেড়ে দিলাম, আর এখানে যা ঘটেছে তা যদি সাকিউরের কান অবদি গেছে তাহলেতো বুঝতেই পারছেন । নাইফটা আর থামবে না, সোজা পেটে ঢুকে যাবে ।
সামিম- আমি কাউকেই কিছু বলবো না, দয়া করে আমায় যেতে দাও । আমি আর ওদের ফলোও করবো না ।
.
এরপর কানন সামিম মাঝিকে ছেড়ে দিলো । ছাড়া পেয়েই সামিম মাঝি দিলো এক দৌড় । কানন রেখাকে জিজ্ঞাসা করলো,
কানন- আচ্ছা রেখা, এই রিয়াদ এন্ড টেনিশন গ্রুপের পথচলা শুরু হয় কতদিন আগে ?
রেখা- তা প্রায় চার বছরের মত হবে ।
কানন- ওদের ফ্যামিলি থেকে টাকা দিয়েছিলো নাকি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলো ?
রেখা- তাদের ফ্যামিলি থেকে কিছুই দেয়নি আর তারা কোনো ব্যাংক থেকেও লোন নেয়নি ।
কানন- তাহলে ওরা এতোগুলো টাকা পেলো কোথায় ?
রেখা- সেটাইতো বড়ো আশ্চযের বিষয় ।
কানন- ওহ্ আর নুরনাহার আর রিয়াদের রিলেশন কতদিনের ?
রেখা- ওদের রিলেশনতো পাঁচ বছরেরও আগে থেকে ।
কানন- তারমানে আমার ধারণাই ঠিক ।
ইরানা- কি ধারণা কানন ?
কানন- মাসুদ রানা নিদোশ । সে #টাকা_চুরি করে নি ।
রেখা- সেটা কিভাবে সম্ভব কানন ? মাসুদ রানাইযে চুরি করেছে তা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে । তারপর আবার সে নিজেই স্বিকারও করেছে ।
কানন- বুঝলে রেখা, আমরা সময় যা দেখি এবং শুনি তা যে ১০০ শতাংশ সত্য হবে তা কিন্তু নয় । আমরা মিথ্যাও দেখতে বা শুনতে পারি, যেগুলোতে একটু দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে ঘটনাটাই ভিন্ন মনে হবে । তুমি এক কাজ করো রেখা, রুবেল আংকেলকে জিজ্ঞাসা করো মাসুদ রানার ফ্যামিলিতে কে কে থাকে আর কোথায় থাকে ।
রেখা- ওকে কানন । এক্ষণি ফোন করছি আঙ্কেলকে ।
.
রেখা কিছুটা দূরে গিয়ে কথা বললো এবং ফিরে এসে বললো,
রেখা- মাসুদ রানার পরিবার শুধু একটা ছেলেই আছে ১২ বছর বয়সী । আর ছেলেটি এখন ওদের বাসায় থাকছে । যেদিন মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয় সেদিন সেই ছেলেটি ঐ বাড়িতেই ছিলো । ছেলেটার নাম মাহিন । আর সবচেয়ে বড় কথা হলো কাল সন্ধায় মাসুদ রানা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে ।
কানন- কিন্তু আমরা সেদিন ঐ বাড়িতে শুধুমাত্র মাসুদ রানাকেই দেখেছিলাম, অন্যকেউ ছিলো না । নইলে দেখতে পেতাম তাকে ।
ইরানা- হয়তো সেই সময় বাইরে কোথাও গিয়েছিলো ।
কানন- না ইরানা না, সেদিন মাহিন বাইরে কোথাও যায়নি । তার আগের দিন তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিলো ।
ইরানা- কিহ্, কিডন্যাপ করা হয়েছিলো ! কে কিডন্যাপ করেছিলো আর কিসের জন্য ?
কানন- সাকিউর এবং রিয়াদ কিডন্যাপ করেছিলো কেশ থেকে বাঁচার জন্য । মাসুদ রানা হয়তো জানতে পেরে গিয়েছিলো যে, এতোগুলো #টাকা_চুরির পিছনে রিয়াদ আর সাকিউরের হাত আছে । তাই মাসুদ রানার মুখ বন্ধ করতে তার ছেলেকে কিডন্যাপ করে তাকে দিয়ে সেদিন চুরি করায় আর জেলে পাঠিয়ে দেয় তাকে, এবং বেঁচে যায় তারা । আর যারা এটা নিয়ে একটু ইন্ভেস্টিগশন করছিলো মানে আমাদের মেরে ফেলার চেষ্টা করে । এবং সফলও হয়, তারা মেরে ফেলে রাপ্তি, রতন, সাহাদ আর রানীকে । আর ওদেরকে সহায়তা করেছে নুরনাহার ।
রেখা- কিহ্, নুরনাহারও এসবের সাথে জড়িত !
কানন- হ্যাঁ, আর তোমার উপর এ্যাটাকটাও ওদেরই প্লান ছিলো । ওদের প্লান ছিলো তোমায় ভয় দেখিয়ে আমাদের ডাকা এবং ফিরার পথে আমাদের উপর এ্যাটাক করা ।
রেখা- তারমানে আমার জন্যই মৃত্যু হয়েছে সাহাদ, রতন, রাপ্তি আর রানীর । আর তুমিও বিপদে পড়েছো ।
কানন- তুমি নাহলে অন্য কাউকে দিয়ে ওরা কাজটা করাতোই । এখন সবচেয়ে বড় কথা হলো, মাসুদ রানার জিবন বিপন্ন । তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতে হবে । মাসুদ রানাকে জেল থেকে বের করাও ওদের একটা প্লান । মাসুদ রানাকে জেল থেকে বের করে বাইরে কোথাও হত্যা করবে তারা । তাহলেই আর কোনো প্রমাণ থাকবে না, সব শেষ হয়ে যাবে ।
ইরানা- এখন তাহলে কি করবে ?
কানন- আজ আপাতত সাকিউর আর রিয়াদের সমন্ধে কিছু ইনফরমেশন কালেক্ট করবো, কাল যাবো জেলের ওখানে, যেখানে মাসুদ রানাকে রাখা হয়েছে । দেখি কালকে রুবেল আঙ্কেলকে বলে মাসুদ রানার প্রোটেকশনের কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না ।
.
এই বলে কানন বেরিয়ে গেলো রেখাদের বাসা থেকে । বের হওয়ার আগে মাস্কটা আবার পরে নিলো । অনেক পরিশ্রম করতে হবে তাকে । সন্ধা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করে অনেক তথ্যই যোগাড় করতে সক্ষম হলো কানন । সন্ধায় আবার সেই বাড়িটায় ফিরলো কানন এবং রুমে গিয়ে হালকা নাস্তা করার জন্য ব্যাগে হাত দিলো । ঠিক এমন সময় কাননের মনে পড়লো গতরাতে পাওয়া সেই বইটার কথা । কানন নাস্তা সেরে বইটা বের করলো তার ব্যাগ থেকে । বইটা বের করে পড়তে শুরু করলো কানন । এবং পড়ে যা বুঝলো সংক্ষেপে এইরকম,
১লা জুলাই ২০১৪
আজ টম টেনিশনের ১৯০ তম জন্মদিন এবং ১৬৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী । মাত্র ২১ বছর বয়সে অনেক অর্থ সম্পদের মালিক হয় টম টেনিশন, কিছু জ্বীনকে খারাপ কাজে ব্যাবহার করে । সে ১৮ বছর বয়সেই সে শিখে ফেলেছিলো জ্বীনকে বশে আনার কৌশল । বেশ কিছু জ্বীনকে সে ব্যাবহার করতো বিভিন্ন ক্ষমতাশীল ব্যাক্তি এবং রাজ্যের কোষাগার থেকে টাকা চুরি করতো । এরকমভাবে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক হয় টম টেনিশন । ১৮৪৫ সালে হঠাৎ কেউ তার বশে আনা জ্বীনগুলোকে মুক্ত করে দেয় । জ্বীনগুলো মুক্তি পেয়ে তাদের দ্বারা এরকম জঘন্য কাজ করিয়ে নেবার জন্য হত্যা করে টম টেনিশনকে । কিন্তু মৃত্যুর আগে টম টেনিশন তার সকল মন্ত্রবিদ্যা লিখে লুকিয়ে রাখে একটা গাছের পাশে লুকিয়ে ।
আজ হঠাৎ করে সাকিউর নামের একজন পেয়ে যায় সেই মন্ত্রবিদ্যা । কিন্তু সেও টম টেনিশনের মতই মস্ত বড় ভুল করে । সেই গাছের পূর্ব পাশে একটা মাটির কলস লুকানো আছে, যার মুখে একটা লাল কাপড় বাঁধা । কেউ যদি ঐ কলসের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলে, তাহলে আবার মুক্তি পাবে বন্দি জ্বীনগুলো । গাছটা এই বাড়িটার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ।
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন