#আবার_সেই_জঙ্গলে
MD Misad Ali
৬ষ্ঠ পর্ব
.
৫ম পর্বের লিংক:
https://mobile.facebook.com/diaryof.../posts/674891609817944
.
কাঁধে হাত রাখার কারণে পিছনে ফিরে তাকালাম, এবং দেখেই প্রচুর মাত্রায় শকড হলাম । মনে পড়ে গেলো সেই স্মৃতি, সেই বিয়ের দিন
.
আমি- মেয়েদের কি সত্যিই ৩য় চক্ষু থাকে ?
তাহমিনা- অবশ্যই, সেই ৩য় চক্ষুর মাধ্যমেই তো মেয়েরা সহজেই বুঝে ফেলে । কেউ তার দিকে কি নজরে তাকাচ্ছে, সেটাও বুঝে ফেলে ৩য় চক্ষুর দ্বারা-ই ।
আমি- এটাকে ৩য় চক্ষু বলে না ম্যাডাম, এটা হচ্ছে সিক্স সেন্স । যা মেয়েদের মাঝে একটু বেশিই থাকে । আর তোমার সিক্স সেন্স, সম্পন্ন ভুল তথ্য তোমাকে দিয়েছে ।
তাহমিনা- ঠিক বুঝলাম না, ভুল তথ্য দিয়েছে মানে ?
আমি- মানে তোমাকে যে আমার ভালো লেগেছিল সেটা সম্পন্নরূপে ভুল । তোমাকে আমার একটুও পছন্দ হয়নি, আর তোমাকে বিয়ে করার কথা তো আমি কখনো কল্পনাও করতে পারি না । কিন্তু বিয়েটা করতে হলো কারণ, আব্বু কথা দিয়েছিল । এখন তোমাকে বিয়ে না করলে তো আব্বুর দেয়া কথার খেলাপ হতো, তাই বিয়ে করতেই হলো ।
তাহমিনা- এই যে মিস্টার, তুমি হসপিটালে আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিলে, মনে তো হচ্ছিলো শহীদ হয়ে গেলেও চোখ সরাবে না । আর আমি যে এঙ্গেজড এটা শোনার পর তোমার যে অবস্থা হয়েছিল, সেটাকে তুমি কি বলবে ? তাছাড়া বাড়ি ফিরার সম সারা রাস্তা এমনকি সারারাত কি ভেবে ঘুমাওনি ?
আমি- ওসব খারাপ অতীত ছিল, আর খারাপ অতীতকে আমি কখনই স্মরণ করতে চাই না । কিন্তু বর্তমানে যে আমি তোমাকে একটুও ভালোবাসি না, এটাই সত্য ।
তাহমিনা- ঠিক আছে, তাহলে আমি কালকেই তাজিংডং চলে যাচ্ছি । বিয়ের জন্য তো যাওয়া হয়নি, এবার গেলে সমস্যা নেই তো ?
আমি- আমি কি তোমাকে যেতে নিষেধ করেছি ? তোমার ইচ্ছা হলে তুমি যেতে পারো ।
তাহমিনা- ওকে, আমি কালকে সকালেই যাচ্ছি তাজিংডং ।
.
পরদিন সকালে তাহমিনাকে ছাড়তে এলাম রেলস্টেশনে । ট্রেনের টিকিট নিয়ে এসে তার হাতে দিলাম, টিকিটটা নিয়ে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো একদৃষ্টিতে । তারপর ট্রেনে উঠে বসলো, আমি তাকে বিদায় দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম । আমি যখন ফিরছিলাম, তখন তাহমিনার চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা বয়ে চলেছে ।
অবশেষে ট্রেন ছেড়ে দিল, তাহমিনা কান্না করছে ট্রেনের ভিতরে । এমন সময় কেউ তার মাথায় হাত রাখল, মুখ তুলে দেখলো আমিই দাঁড়িয়ে আছি তার সামনে । বুকে কয়েকটা কিল মারছে আর বলছে,
তাহমিনা- কি জন্য এসেছ তুমি ?
আমি- তিনবার কবুল বলে বিয়ে করা বউকে একা পাঠিয়ে দিবো তাজিংডং ? আর আমি না আসলে তো তোমার কান্নার ফলে ট্রেনে বন্য বয়ে যেত ।
তাহমিনা- তাতে তোমার কি ?
আমি-তাতে আমার কি মানে ? পরে লোকে বলতো, আরহাম জারিফের স্ত্রীর কান্নার ফলে ট্রেনে বন্যা হয়েছে ।
তাহমিনা- তুমি কি আমায় সত্যিই ভালোবাস না ?
আমি- তুমি বুঝনা ?
তাহমিনা- বুঝি, কিন্তু তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই ।
আমি- কেনো ? তোমার ৩য় চক্ষু কিছু বলছে না ? আর সব কথা কি মুখেই বলতে হবে ? অনুভব করতে পার না ? কিছু সময় নিশ্তব্ধতাই বেশি বলে কথা বলার চাইতে ।
তাহমিনা- তারপরেও প্লিজ একবার বল ।
আমি- পবিত্র আল-কোরআনে সুরা আয যারিয়াতের ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, "আমি প্রতি জিনিসই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর ।" আর আমি এটা বিশ্বাস করি যে, আমার জন্য যাকে বানানো হয়েছে সেটা তুমিই । আর কিছু বলা লাগবে ?
তাহমিনা- না, এটাই অনেক ।
.
ট্রেন থেকে নেমে মটরগাড়ী করে চললাম তাজিংডং-এর উদ্দেশ্য । তাজিংডং-এর শৃঙ্গে উঠে যখন আমরা প্রকৃতির রং-এ মুগ্ধ, এমন সময় হঠাৎ পাহাড় ধসের সৃষ্টি হয় । আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখানের বেশ বড় একটা অংশ ধসে পড়ে । আমি জ্ঞান হারায় আর যখন জ্ঞান ফিরে, দেখি পাহাড়ের একটা গাছে আমি আটকে আছি । সেই ধসে বহু মানুষের প্রাণহানী হয়, হারিয়ে ফেলি তাহমিনাকে । প্রায় ছয় মাস ওখানে থেকে খুঁজে ফিরি তাকে, কিন্তু খুঁজে পাইনি । অবশেষে তার ইচ্ছাগুলোকে আমার নিজের করে শুরু করি পথচলা । কিন্তু আজ পর্যন্ত ভুলতে পারিনি তাকে, রয়ে গেছে বুকের বাম-পাশে ।
.
দির্ঘ পাঁচ বছর পর আবার দেখা হলো তাহমিনার সাথে, রোমানিয়ায় । আমি যখন লুকিয়ে লুকিয়ে ইউএফও এবং ভিনগ্রহের প্রাণীদের দেখছিলাম তখন আমার কাঁধে রাখা হাত আর কারো নয়, তাহমিনার । এখন সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, নিজের চোখকেই যেনো বিশ্বাস করতে পারছি না । শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তাহমিদাকে, দুজনের চোখ বেয়ে অশ্রুর বয়ে চলেছে । এ অশ্রু কোনো দুঃখের অশ্রু নয়, এটাতো আনন্দের অশ্রু । প্রায় আধাঘন্টা পর তাহমিদা বলল,
তাহমিদা- তুমি বেঁচে আছ ?
আমি- হুম, মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা যে কত বেশি, এই পাঁচ বছরে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি । কিন্তু তুমি বাসায় ফিরনি কেনো ?
তাহমিদা- আমি ভেবেছিলাম তুমি ঐ ধসে মারা গেছ, আর যেখানে তুমি থাকবে না সেখানে আমি গিয়ে কি করবো ? বেশ কয়েকবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরক্ষণে তোমার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় সেটাও পারিনি ।
আমি- কিন্তু তুমি এখানে কেনো ?
তাহমিনা- তিনদিন আগে পত্রিকায় একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম, যেখানে লিখা ছিল,,,
আমি-[তাহমিনাকে বাধা দিয়ে] তারমানে তুমিও আর্টিকেলটা পড়েছিলে ! এখানে কিন্তু ভিনগ্রহের প্রাণীদের যাতায়াত আছে ।
তাহমিনা- হ্যাঁ, বুঝলাম । আমি একটু দূরে ছিলাম যখন ইউএফও এখানে আসে । ইউএফও দেখেই আমি এদিকে আসি, আর দেখি তুমি এখানে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে আছ । আর যাই হোক এই ধরণের প্রাণী থেকে সাবধান, যারা বাঘ, সিংহকে সাথে নিয়ে থাকতে পারে তারা বাঘ, সিংহের চাইতেও ভয়ংকর হবে নিশ্চয় ।
আমি- সেটা তো ঠিক, কিন্তু এরা পৃথিবীতে কি খুঁজতে এসেছে ?
তাহমিনা- তুমি গিয়ে ওদেরকেই জিজ্ঞাসা কর, আমি কিভাবে বলবো ?
আমি- পাগল নাকি ? ওদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে বিপদে পড়তে যাবো ? আর তাছাড়া ওরা কি আমাদের ভাষা বুঝতে পারবে ?
তাহমিনা- চলো, ওদের উপর নজর রাখি । দেখি ওরা কি করে, তাহলেই হয়তো বুঝতে পারবো ।
আমি- হুম চলো, ঝোপের মধ্য থেকেই ওদের উপর নজর রাখি ।
.
আমরা ঝোপের মধ্যে প্রবেশ করলাম । দেখলাম একটা ভিনগ্রহের প্রাণী অন্যদের কি একটা ইশারা করলো, তারপর বাঁকি সবাই জঙ্গলের চারিদিকে ছড়িয়ে গেলো । বেশ কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এলো এবং সবার হাতেই...
.
.
[][][][][] চলবে [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন