#রহস্যময়_পুকুর
MD Misad Ali
২য় পর্ব/অন্তিম পর্ব
.
.
এরপর আমরা রোকনদের রাজ্য ঘুরে দেখা শুরু করি । এবং সন্ধায় ফিরে আসি রাজমহলে রাতে ঘুমানোর
সময় জানালা দিয়ে দেখলাম রোকন কোথাও যাচ্ছে । আমরা রোকনের পিছু নিই । আমরা দেখলাম রোকন একটি গুহার ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে । আমরাও তার পিছু পিছু গেলাম এবং গুহার ভিতরে সেই রক্তহিম করা আওয়াজ শুনলাম । আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম । আমরা দেখলাম রোকন তখনো গুহার পথে চলে যাচ্ছে । আমরা আবার তার পিছু নিলাম এবং দেখলাম গুহার ভিতরে অনেক গুলো পশু ঠিক যেরকম আমরা
জঙ্গলে দেখেছিলাম । আমরা সবাই একটি পাথরের
আড়ালে লুকিয়ে গেলাম এবং সবকিছু দেখতে লাগলাম । আমরা দেখলাম রোকন
আস্তে আস্তে সেই পশুর মত আকৃতি ধারন করা শুরু করলো । এবং পুরোপুরি পশুতে রুপান্তরিত হলো । আমরা সবাই ভয় পেয়ে গুহা থেকে বের হয়ে এলাম, এবং রাজপ্রাসাদে ফিরে
এলাম । রাজপ্রাসাদে এসে
সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম আর
ঘুম ভাঙ্গলো মারুফের ডাকে । আমি উঠে জিঙ্গাসা
করলাম,,,
আমি->"কি হয়েছে, এভাবে ডাকছিস কেনো ?"
মারুফ->"রোকন ফিরে এসেছে ।"
আমি->"আমি জানি । রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুম আসছিলো না । তাই জানালার পাশে বসে ছিলাম তখন দেখলাম রোকন ফিরলো কিন্তু তার হাতে কিছু ছিলো । তা যা থাকুক রোকন যেনো বুঝতে না পারে যে, আমরা
তার আসল পরিচয় পেয়ে
গেছি ।"
রুবেল->"(ঘরে প্রবেশ করতে করতে) তা নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না । ও আমরা ম্যানেজ
করে নেবো । কিন্তু এই পশুগুলোকে ধ্বংস করার কোনো উপায় খুজে বের করেছিস ।"
আমি->"উপায় পেতে হলে আমাদের জঙ্গলের সেই ঝোপের কাছে যেতে হবে । এবং দেখতে হবে সেখানে কি আছে ।"
মারুফ->"কিন্তু, আমরা এখান থেকে বের হবো
কিভাবে ?"
আমি->"সেটাই তো খুজে বের করতে হবে ।"
.
এখন আমরা যাচ্ছি রোকনের কাছে । কাল রাতের ব্যাপারে একটু ভয় লাগছে কিন্তু এখান থেকে বের হতে হলে রোকনকে নজরে রাখতে হবে । তাই
রোকনের ঘরের দিকে রওয়ানা হলাম । রোকনের
ঘরের সামনে এসে দেখি রোকন একটি আগুনকে
সামনে নিয়ে কি যেনো বলছে । তারপর রোকন উঠে বাইরের দিকে হাঁটা শুরু করেছে । আমরা তার পিছু নিয়ে দেখলাম সে একটি তেঁতুলগাছের ভিতরে ঢুকে গেলো আমরা সেখানে দিয়ে দেখলাম একটি দরজা । সেই দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখি আরেকটি দরজা সেই দরজা দিয়ে বাইরে
তাকালাম । দেখলাম আমরা সেই জঙ্গলে এসে পৌচেছি । আরে এটাতো সেই তেঁতুল গাছটা যেটা রাতে পুকুরে রুপান্তরিত হয় । আমরা বাইরে এসেই প্রথমে সেই ঝোপের কাছে গেলাম এবং
দেখলাম । একটি ছোট নাইফ পড়ে আছে সেই সঙ্গে একটি বই । আমরা এগুলো
নিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম এবং বইটি পড়া শুরু করলাম । বইটির প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা আছে "নুরনাহারের কিছু কথা" । আমি পড়তে শুরু করলাম,,
.
১২০৫ খ্রি. এই স্থানে এক দারুন সুন্দরি বাস করতো । সে ছিলো এক রাজার কন্যা নামঃ নুরনাহার । যেমন ছিলো তার সৌন্দর্য তেমনি ছিল তার সাহস । একদিন অন্যরাজ্যের রাজকুমার রোকন নুরনাহারের সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে প্রেম নিবেদন করে । রোকনও ছিলো দারুন যোদ্ধা এবং চেহারাও
দারুন । তাই রাজকুমারি তা গ্রহন করে এবং দুই রাজা মিলে তাদের বিয়ের
ব্যাবস্থা করে । সুখেই চলছিলো তাদের ছোট্ট সংসার কিন্তু এই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি । কিছুদিনের মধ্যেই এক জাদুকরের কূদৃষ্টি পড়ে তাদের সংসারের উপর । জাদুকর তার মায়া শক্তি প্রয়োগ করে তাদের রাজ্যকে মাটির নিচে নামিয়ে দেয়, তার উপর
একটি জঙ্গল তৈরি করে । আর সেই জঙ্গলের একটি
তেঁতুল গাছকে মায়া করে দিনে বটগাছ এবং রাতে পুকুর করে দেয় । এবং নুরনাহার, রোকন আর তাদের রাজ্যের সবাইকে
হত্যা করে । এবং তাদের
আত্মাকে বন্দি করে রাখে জঙ্গলের নিচের রাজ্যে । নুরনাহারের আত্মা সবসময় এক হিংস পশুতে পরিনত হয়ে থাকে । কিন্তু নুরনাহার ব্যাতিত সবাই প্রতিদিন ২০ ঘন্টার জন্য মানুষের রুপ ধরতে পারে । ওদের মুক্তি দিতে হলে সেই তেঁতুলগাছটি কেটে ফেলতে হবে । এই ছোটো নাইফ দিয়ে গাছে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে গাছটি খুবই ছোট হয়ে যাবে । কিন্তু অনেক গুলো অশুভ আত্মা এসে উপস্থিত হবে । এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে, যদি কেউ ভয় পায় তাহলে তার পরিনতি হলো মৃত্যু । সেই গাছটি কাটার সাথে সাথে সব আত্মা মিলিয়ে যাবে মেঘের সাথে । তারপর আর কিছু লিখা নেই....
.
আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম যে আজ এই মূহর্তে যাবো সেই গাছ কাটতে । আর যেই ভাবা সেই কাজ আমরা সবাই চলে গেলাম সেই তেঁতুলগাছের কাছে । তারপর আমাদের মাঝে সিফাতের শক্তি বেশি এবং বেশি সাহসি তাই সিফাতই গাছটি কাটবে । সিফাত যেমনি কাটা শুরু করলো তখনি গাছটি অনেক ছোট চারা তেঁতুল গাছ হয়ে গেলো । কিন্তু আমাদের চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেলো তার মাঝে অনেকগুলো লাল বাতি জ্বলে উঠলো । এবং আমাদের দিকে এগিয়ে আসা শুরু করলো । এমন সময় দেখলাম তাদের চেহারা অনেক বিভ্যৎস চেহারা । চোখ গুলো দিয়ে আগ্নেয়গিরির লাভা বের হচ্ছে, মাথায় চুল নেই নাক ও মুখের স্থানে ছোট ছোট কোটর ।
এমন সময় সেগুলো চিৎকার করতে করতে ধোয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে হারিয়ে গেলো । সিফাত বললো কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে । কিন্তু না কাজ এখোনো
সম্পূর্ণ হয়নি । কারন বইটি সেই ঝোপের পিছনে কে রেখেছিলো সেই রহস্য এখোনো বাকিই রয়ে গেলো ।
.
.
******* সমাপ্ত *******
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন