দ্য এডুকেশন-ডাউন
মোঃ মিসাদ আলী
আজ ছোট্ট রাফিকে ভর্তি করা হলো স্থানীয় এক স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে। সুদির্ঘ আড়াই মাসের প্রচেষ্টার পর কোন রকমে ক থেকে ঠ পর্যন্ত আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয়েছে।
হঠাৎ দেশে এক মহামারি দেখা দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা করা হলো অটো প্রমোশনের। আরও দেয়া হলো এ্যসাইনমেন্টের নামে এক বাড়তি ঝামেলা।
হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আন্দোলন করলে তাদেরকে নিয়ে সবাই হাসা-হাসি শুরু করলো। এভাবেই কেটে গেল দুইটা বছর। একদিন হঠাৎ করেই খুলে দেয়া হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সেই ছোট্ট রাফি আজ ক্লাস থ্রীর ছাত্র। সে ক্লাসে বসে সদ্য পাওয়া বইগুলোকে উল্টিয়ে দেখছে। এমন সময় তার চোখে পড়ল তার চেনা একটি বর্ণ, কিন্তু সেটা কী তা মনে করতে পারল না।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে দেখল, একটা ছেলে মাথায় ইট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সে পেছনে তাকাতে মুখটা স্পষ্ট দেখতে পেল রাফি। এটা সেই ছেলে যার সাথে সে স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।
এমন সময় ক্লাসে প্রবেশ করলেন গনিত শিক্ষক। তিনি ব্লাক বোর্ডে একটা অঙ্ক তুললেন, পিতা-পূত্রের অঙ্ক। ক্লাসের সবাই অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সেদিকে। এগুলো কী হচ্ছে কিছুই তাদের মাথায় ঢুকছে না।
এদিকে শিক্ষকও মিলাতে পারছে না অঙ্কটা। কোনমতে আজকের ক্লাসটা ছুটি দিয়ে বেরিয়ে এলেন তিনি। মনের অজান্তেই কিছু কথা বের হয়ে আসলো, উফ এই দুই বছর তো মনে হচ্ছে যেন লক-ডাউন ছিল না, ছিল এডুকেশন-ডাউন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন