স্বপ্ন পূরণ ২

স্বপ্ন পূরণ ২

MD Misad Ali

.

.

স্নিগ্ধার সাথে দেখা হয়নি আজ চার বছর। জানি না কেমন আছে সে, কী করছে সেটাও আমার অজানা।

চার বছর আগে আমি গ্রাম ছেড়েছিলাম শুধুমাত্র ওর জন্য। এখন বাসে বসে আছি, বাস তার নিজের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। চার বছর আগের বলা স্নিগ্ধার কথাগুলো বাববার প্রতিধ্বনিত হয়ে আঘাত করছে আমার কানে।

-প্লিজ জারিফ, আমাকে একা ফেলে যেও না। আমার প্রয়োজন নেই ভালো খাবার-পোষাকের, তুমি যেভাবে রাখবে সেভাবেই থাকবো তবুও যেও না। চলো পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি, পরে সবাই মেনে নিবে।' কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিল সে।

তার কথাগুলো আমার হৃদয় স্পর্শ করে যাচ্ছিল, চোখ থেকে অঝর ধারায় বয়ে চলেছিল অশ্রু। অনেক চেষ্টার পরেও অশ্রু লুকাতে ব্যর্থ আমি। আমার মনও মেনে নিতে পারছে না, স্নিগ্ধাকে ছাড়া একা যাচ্ছি আমি। কিন্তু কী আর করার? কোন বাবা তো নিজের মেয়েকে এমন বেকার একটা ছেলের হাতে তুলে দিতে পারে না। শর্ত দিয়েছিলেন তিনি, চার বছরে টাকা জমিয়ে ভালো ব্যবসা দাড় করতে পারলে তবেই তিনি বিয়ে দিবেন আমাদের।

কোনো উপায় না দেখে অবশেষে আমিও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। এই চার বছরে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা জমাতে সক্ষম হয়েছি। ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি শর্ত পূরণ করে গ্রামে ফেরার কথা। এতক্ষণ হয়তো স্নিগ্ধা আমার জন্য বউ সেজে অপেক্ষা করছে।

এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। ঘুম থেকে জেগে নিজেকে হাসপাতালের মর্গে আবিষ্কার করলাম। বেরিয়ে এলাম শত অর্ধ পঁচা লাসের ঘর থেকে।

বাইরে দরজার সামনে অনেক ভিড়, সবাই কাঁদছে। সেই ভিড়ে স্নিগ্ধার দিকে নজর গেল, অনেক শুকিয়ে গেছে সে। তার দিকে এগুতে যাবো, ঠিক সেই সময় আমার পাশ দিয়ে একটা স্টেচারে করে মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছিল। স্নিগ্ধা সে দিকেই দৌড়ে এসে মুখের ওপর থেকে সাদা কাপড়টা সরালে যা দেখলাম তা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।

ওটা যে আমারই মৃতদেহ!

.

.

মন্তব্যসমূহ