#ভুলের_বিপরিতে_ভুল
MD Misad Ali
.
.
চার তলা বিল্ডিংয়ের উপরের তলায় তানজিমরা ভাড়া থাকে। তানজিম, তার বোন সুবর্ণা আর বাবা-মা, এই চারজনের সুখের সংসার তাদের। তানজিম মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে আর সুবর্ণা পড়ছে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।
বেশ কিছুদিন থেকে তানজিমের মধ্যে কেমন যেন আনমনা ভাব লক্ষ্য করছে তার পরিবার, তাছাড়া খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমতো করছে না। কারণ জিজ্ঞাসা করলেও কিছু বলছে না সে।
সকালে ছাদে যায় সুবর্ণা, গিয়ে দেখে তানজিম ছাদের রেলিংএর ওপরে দাড়িয়ে আছে। লাফ দিতে যাবে ঠিক এমন সময় হাত ধরে নিচে নামালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সে।
-কী হয়েছে? তোর একাজ করতে যাবার পেছনে কারণ কী?' প্রথমে শান্তনা দিয়ে জিজ্ঞাসা করল সুবর্ণা
-কিছু হয়নি আপু।' কাঁদতে কাঁদতে বলল সে
-দেখ, কোন কিছু লুকিয়ে রাখলে কষ্ট আরো বাড়বে। বলে ফেল, মনটা হাল্কা হবে। তাছাড়া পরামর্শও দিতে পারবো, এখন কী করা উচিৎ আর কী করা উচিৎ নয়।
-আপু আমি প্রেগনেন্ট।
তানজিমের কথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল সুবর্ণার ওপর। নিজের কানকেই যেন অবিশ্বাস হচ্ছে তার। আদরের ছোটো বোন যে এমনটা করবে তা কখনো কল্পনাও করেনি সে।
-কী! কী বলিস? কখন হলো এসব? আর ছেলেটাই আবার কে?' চোখের অশ্রুবিন্দু মুছে জিজ্ঞাসা করল
-গত দুই বছর আগে রিলেশন শুরু হয় আমার আর সিহাবের।' কন্ঠ কেঁপে কেঁপে উঠছে তার, কান্নার কারণে বলতেও পারছে না
-সিহাব মানে কি সেই ছেলেটা, যে তোকে নোট দিতে বাসায় এসেছিল?
-হুম,,, কয়েকমাস থেকে আমাকে অনেকভাবে রাজি করার চেষ্টা করে আসছিল। আমি তার কথা ফেলতে পারিনি, আর ও আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু যখন তাকে বললাম আমি প্রেগনেন্ট, তারপর থেকে আমার সাথে কথাও বলছে না। অনেক ফোন করার পর আমার নাম্বার ব্লাকলিষ্টে এ্যাড করে রাখছে। ম্যাসেঞ্জারেও ব্লক করছে। আমি বুঝছিলাম না কী করবো, কোথায় যাবো, তোমাদের মুখ দেখাব কিভাবে তাই আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলাম।' বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল সে
-দেখ, যা করেছিস তা নিঃসন্দেহে ভুল কাজ। আর এখন যা করতে যাচ্ছিলি তা আরো বড়ো ভুল। তুই যখন বুঝতে পারছিস তোর একটা ভুল কাজের জন্য আমরা অনেক কষ্ট পাবো, তাহলে আরেকটা ভুল করতে যাবার কথা তোর মাথায় এলো কিভাবে? আর শোন, আত্মহত্যা কোন কিছুর সমাধান নয়। জীবনে চলার পথে বাধা আসবেই, তাই বলে কি সেই বাধা দেখে পিছু হটে যেতে হবে? জীবনে তারাই জয়ী হয়, যারা সংগ্রাম করতে পারে। লড়ে যায় প্রতিটি বাধার সাথে। তুই কি চাস, তোর আরেকটা ভুলের জন্য আমরা কষ্ট পাই?
-না আপু। কিন্তু আমার পেটের মধ্যে যে সিহাবের সন্তান বেড়ে উঠছে। কী করবো এখন?
-তুই কী করতে চাচ্ছিস?
-অ্যাবরশন করবো?' কথাটা বলেই সুবর্ণার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো তানজিম
-তুই বলতে চাইছিস গর্ভপাত করবি। কিন্তু দোষটা কি নিষ্পাপ বাচ্চাটার ছিল?
-দোষটা আমাদের, কিন্তু ওকে পৃথিবীর আলো দেখালেই হাজারো প্রশ্ন আসবে ওর জন্ম নিয়ে।
-দুশ্চিন্তা করিস না, আমি সিহাব আর তার বাবা-মার সাথে কথা বলবো। এখন নিচে চল, নাস্তা করবি।' মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে হাত ধরে নিচে নেমে এলো তারা।
নিচে নামার সময় তাদের কানে ভেষে আসে বেশ কয়েকজনের কথা বলার শব্দ। নিচে নামার পর দেখে বসে আছে তানজিমের বাবা-মার সাথে সিহাব ও তার বাবা-মা।
তানজিমকে দেখা মাত্র সিহাব এগিয়ে আসে তার দিকে। কিন্তু সে তার সাথে কোন কথা না বলে ছাদে চলে যায়, সিহাবও তার পেছন পেছন ছাদে আসে।
-কেউ যেন আমার পেছন পেছন না আসে, আমি তার সাথে কোন কথাই বলতে চাই না।
-আমি জানি, আমি তোমার সাথে যা করেছি তা ক্ষমার অযোগ্য। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমার মুখে ও কথা শোনার পর ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। বুঝছিলাম না কী করবো, কাউকে কিছু বলতেও পারছিলাম না। অবশেষে বিষয়টা আমার কাজিন জারিফের সাথে শেয়ার করি। সে-ই আমার পরিবারকে বুঝিয়ে রাজি করে বিয়েতে, আর আমাকেও বোঝায়।' এগিয়ে গিয়ে তানজিমের হাত ধরে বলতে থাকল সিহাব' প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও।
.
.
পরদিনই তাদের বিয়ে হয়ে গেল। বেঁচে গেল তিনটা জীবন আর দুইটা পরিবার।
তাদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক।
.
কী? আপনারা ভাবছেন আপনাদের সাথেও এমন হবে?
জ্বী না, সবাই সুবর্ণা আর জারিফ না যে আপনার কুকর্মের পরও বুঝিয়ে বলবে।
আর তাছাড়া জন্ম, মৃত্যু আর বিয়ে এই তিনটার উপর কারো হাত থাকে না। আল্লাহ যা লিখে রাখছেন তা-ই হবে। তাহলে আপনি কিভাবে নিশ্চিত হবেন বিয়ে আপনার তার সাথেই হবে?
তাই বিয়ের আগে মেলামেশা করা থেকে দূরে থাকুন। ভালোবাসা কখনো শারীরিক সম্পর্ক দিয়ে প্রমান করতে যাবেন না।
*****সাবধান*****
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন