স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন

স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন

MD Misad Ali

.

.

মধ্যরাত, চাঁদ মাথার ওপরে থেকে আলো ছড়িয়ে আলোকিত করছে চারিদিক।

হঠাৎ আলফীর ঘুম ভেঙ্গে গেল কারো কান্নার শব্দে। বিছানার পাশে বসে দু'পায়ে মুখ গুজে ফুপিয়ে কান্না করছে তাসফিয়া।

ভুত দেখার মতো চমকে ওঠে আলফী,

-তুতুতু তুমি!' ভয়ার্ত কন্ঠে বলে সে, চোখে-মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ' তুমি এখানে কীভাবে এলে?'

মুখটা তুলে চোখের অশ্রুবিন্দুগুলো মুছে ফেলল সে।

-আমি সবকিছু ফেলে তোমার কাছে চলে এসেছি। আমার পক্ষে অন্য কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন করা সম্ভব নয়। তুমি প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিও না, নইলে ওরা জোর করে আমার বিয়ে দিয়ে দিবে। আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনাও করতে পারি না।' এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামল সে

আলফী বুঝতে পারছে না কী বলবে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা ভয়ার্ত সে। আরো ভয়ার্ত ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা ভেবে। তাসফিয়ার বাবা এলাকায় খুবই প্রভাবশালী, সে যদি জানতে পারে আলফী তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে তবে আস্ত রাখবে না তাকে। বাবার মতো সাহস মেয়েটারও আছে, নাহলে এভাবে বিয়ের আগের রাতে বাসা থেকে পালানোর কথা ভাবতেও পারতো না।

-কিন্তু আমি তো তোমাকে বলেছি, আমি তোমাকে পছন্দ করি না। তারপরেও এসবের মানে কী?'

আলফীর এমন কথায় কিছুটা আশাহত হলো সে। কান্নাকে যেন আঁটকে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার।

-দেখ, তুমি যদি আমায় বিয়ে না করো, তাহলে আমি কী করবো তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।' কিছুটা কড়া শব্দেই বলল সে 'এখনও সময় আছে, কথা দাও বিয়ে করবে। নইলে আমি চিৎকার দেবো, আর বলবো তুমি আমায় জোর করে তুলে এনেছ। এখন চিন্তা করো কী করবে।

তাসফিয়ার কথা শুনে ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল তার স্বর। কোন উপায় নেই তার সামনে, বিয়ে তাকে করতেই হবে। কিন্তু এমন একটা বিপজ্জনক মেয়েকে বিয়ে করা কতটা নিরাপদ তা বারবার ভাবিয়ে তুলছে আলফীকে। যে বিয়ে করার জন্য এমন করছে, তাকে বিয়ে করলে বিয়ের পরে কী অবস্থা করবে তার!

-কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করা আমার দ্বারা সম্ভব না। আমি বিয়ে করলে দু'পরিবারের উপস্থিতিতে এবং তাদের সম্মতিতেই বিয়ে করবো অন্যথায় নয়।' বিয়ে থেকে বাঁচার অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করল সে। কারণ সে ভালোভাবেই জ্ঞাত, তাসফিয়ার পরিবার কিছুতেই মেনে নিবে না আলফী আর তাসফিয়ার বিয়ে।

গত তিন বছর আগে প্রথম দেখা হয় দুজনের। প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায় তাসফিয়া তানহা ঝুমকে। কিন্তু পরবর্তিতে যখন ঝুমের পরিবারের সম্পর্কে জানতে পারে, দূরে সরে আসে সে। উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে ঝুমের বিপরিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের আবিদ আলফী মিসাদের সম্পর্কটা যে টিকবে না তা ভালোভাবেই বুঝে গেছিল সে। কিন্তু তাসফিয়া এসব মানতে নারাজ, অন্য কাউকে নাকি সে জীবনসঙ্গি হিসেবে মানতেই পারবে না। তাসফিয়ার বিয়ের খবরটা পেয়ে যেন বুকের পাজরা ভেঙ্গে গেছিল তার, শত চেষ্টার পর সবকিছু সামলে উঠছিল সে।

-এই কী ভাবছ এতক্ষণ ধরে?' হালকা ঝাঁকি দিয়ে বলল তাসফিয়া 'আমি যদি আমার পরিবারকে রাজি করাতে পারি, তবে বিয়েটা করবে তো?' আলফীর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল সে

-আচ্ছা, তুমি রাজি করায়ে দেখাও।

-তোমার কী মনেহয়? আমি এতরাতে একা এসেছি?

-তাহলে?

-বাবা বাইরে তোমার বাবা-মার সাথে কথা বলছে আমাদের বিয়ের ব্যপারে। একমাত্র মেয়ের আবদার কি কখন ফেলতে পারেন?'

তাসফিয়ার কথা শুনে জড়িয়ে ধরল তাকে। এমন সময় ঘুম ভেঙ্গে গেল আলফীর।

সেই সময় বাড়ির পাশের মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসছে, 'একটি শোক সংবাদ, আমজাদ হোসেনের একমাত্র মেয়ে তাসফিয়া তানহা ঝুম আজ রাত বারটার সময় ইন্তিকাল করেছেন...'

নিজের অজান্তেই আলফীর চোখ দিয়ে বয়ে চলেছে অশ্রুর বন্যা।

.

.

[][][][][] সমাপ্ত [][][][][]

মন্তব্যসমূহ