ফ্যান রহস্য

#ফ্যান_রহস্য

MD Misad Ali

.

.

-মাথার উপর সিলিং ফ্যান পড়ে মৃত্যু, সত্যি বড়ো অদ্ভূত দুর্ঘটনা। এরকম দুর্ঘটনা সচরাচর ঘটে না কোথাও।' ফোনটা কান থেকে নামাতে নামাতে বলল কানন

-কি বলো! এরকমটাও হয় নাকি? তা খবরটা কে দিলো? মিস্টার আয়ান?' কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম

-ইতিপূর্বে যে এরকম ঘটেনি তা নয়, কিন্তু আমাদের এলাকায় এটাই প্রথম। আর হ্যাঁ, ওসি স্যারই ফোন করে খবরটা দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন সাথে করে নিয়ে যেতে। তুমি কি যেতে পারবে?

- যাওয়া সম্ভব হবে বলেতো মনে হচ্ছে না। এবার নাহয় নাইবা গেলাম।

.

দশ মিনেটের মাথায় ওসি স্যার আসলেন এবং দুজন মিলে চললেন ঘটনাস্থলের দিকে।

ঘন্টা খানেক পর কানন ফিরে এলো।

-বুঝলে আলফী, একটা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন রফিক সাহেব।

-সেটা কেমন?

-আমি আর অফিসার-ইন-চার্জ মিস্টার আয়ান আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই লক্ষ্য করলাম রুমের ভিতরে একটা চেয়ারে বসিয়ে রাখা আছে রফিক সাহেবের মৃত দেহ। চলন্ত সিলিং ফ্যান মাথার উপরে পড়ার ফলে মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে এসেছে। আর তাছাড়া বাম কানটাও কেটে পড়ে আছে পাশে, সাথে শরীরের বাম দিকটার অনেক জায়গা কেটে গেছে। এমন সময় আমাদের দিকে এগিয়ে এলো রফিক সাহেবের বড়ো ভাই শরীফ এবং বলল, "আমি বাইরে পত্রিকা পড়ছিলাম, এমন সময় কিছু একটা পড়ার শব্দ সাথে রফিকের চিৎকার শুনতে পাই। তাই তাড়াহুড়ো করে এই রুমে এসে দেখি, চেয়ারে বসে আছে সে। আর ফ্যানটা দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে তার পাশে।" আমি কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলাম এবং বললাম, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। রফিককে চেয়ারের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছিল, যার চিহ্ন তার হাতে স্পষ্ট। তাছাড়া রফিকের বুকে আর মুখে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন।

আমার কথা শেষ হতে না হতেই বাইরের দিকে দৌড় দিলো শরীফুল ইসলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্য, ওসি স্যারের হাত থেকে পালাতে পারল না।' আরাম কেদারায় গা এলিয়ে দিয়ে বলল কানন

.

.

[][][][][] সমাপ্ত [][][][][]

মন্তব্যসমূহ