#সেই_মেয়েটাকেই_ঘিরে
MD Misad Ali
.
.
এক বছর আগের কথা,
আলফী এসেছে মাধবপুর, হবিগঞ্জ। এলাকার সৌন্দর্য দেখে সে একদম মুগ্ধ। মাধবপুর বাজারের পাশেই শ্যামলী আবাসিক এলাকা, সেখানেই থাকেন আলফীর বড়ো ভাই আব্দুল কাদের জিলানী। হবিগঞ্জেই একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করেন তিনি। আলফী খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো পাশেই আছে একটা চা বাগান, নোয়াপাড়া টি স্টেট। মাধবপুর বাসস্ট্যন্ডের পাশেই রয়েছে ম্যাক্সি আর বাসের সমাগম। আলফি একটা ম্যাক্সিতে চেঁপে বসল আর বলল জগদিসপুর তেমুনিয়ায় নামবে সে। মাধবপুর বাসস্টেশন থেকে মাত্র ১৫টাকা ভাড়া নিয়েছে। জগদিসপুর তেমুনিয়ায় কিছু রিক্সা আর টমটম(অটোরিক্সা) দাঁড় করানো আছে। একটা টমটমে উঠে বলল নোয়াপাড়া রেলস্টেশন যাবে সে। নোয়াপাড়ায় টমটম থেকে নেমে ৫টাকা দিল চালককে। তারপর এগিয়ে চলল চা বাগানের দিকে। সে ভেবেছিল চা বাগানটা পাহাড়ি এলাকায় হবে, কিন্তু সমতল ভূমিতে চা বাগান দেখে মন কিছুটা খারাপ হয়ে গেল। তারপরেও ভিতরে এগিয়ে চলল, কিছুটা ভিতরে যেতেই দেখল একটা মাজার। তারপরেই পাহাড়ি এলাকা, যা দেখে আলফীর খারাপ হয়ে যাওয়া মনটা নিমেষেই ভালো হয়ে গেল। মাজারেল সামনে কয়েকটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর কাকে যেন খুঁজছে। আলফী এগিয়ে চলল বাগানে আরো গভীরে। বেশ কয়েকটা ছোট ছোট পাহাড় অতিক্রম করার পর দেখলো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সাদা পোশাক পরিধান করে।
কিছুটা ভয় পেলো আলফী, ভূত-প্রেত নয়তো আবার! কিন্তু তারপরেও মেয়েটার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল। পিছন থেকে কারো পায়ের শব্দ শুনে পিছন ফিরে তাকালো মেয়েটা।
আলফী দেখলো এক মায়াবী চেহারার মেয়ে, চোখে ভয়ের ছাপ। মেয়েটা দেখতে তেমন একটা ফর্সা না হলেও কেমন একটা মায়া আছে তার চেহারায়। আলফী অনেক চেষ্টা করেও চোখ সরাতে পারছিল না মেয়েটার চোখ থেকে। মেয়েটাও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আলফীর দিকে।
-কে আপনি? আর এই ভয়ানক জায়গায় একা কি করছেন?' নিস্তবদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে আলফী জিজ্ঞাসা করলো
-আমি তাসফিয়া তানহা ঝুম। আমার ফ্রেন্ডদের সাথে এসেছিলাম ঘুরতে, কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। এখন যেদিকেই তাকাচ্ছি সবকিছুই এক মনে হচ্ছে। হারিয়ে ফেলেছি পথ, ফিরে যাবার অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু কোনদিকে যাবো বুঝতেই পারছি না।' ভয়ার্ত কন্ঠে বলল ঝুম
-আচ্ছা চলুন ফিরে যাওয়া যাক। যতটা এসেছি, পথ আমার মনে আছে। এর বেশি গেলে হয়তো আমিও হারিয়ে ফেলতে পারি।
-আচ্ছা চলুন।' কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলো তারপর বলল ঝুম
.
ফিরে এলো মাজারের কাছে, সেখানেই রয়েছে ঝুমের ফ্রেন্ডরা। তাদের দেখে ঝুম একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আলফীকে তারা অনেক ধন্যবাদ জানালো।
-আচ্ছা আপনার নামটা কি জানা যাবে?' আলফী ফিরে যাচ্ছিল, এমন সময় বলল ঝুম
-আমি আবিদ আলফী মিসাদ, বাসা চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলায়।
.
সেখান থেকে ফিরে এলো আলফী। সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিল। পরদিন সকালে তার বড়ো ভাই বলল,
-আজ তো শুক্রবার, আমার কোনো কাজ নেই। চল পাশেই একটা চা-বাগান আছে, সেখান থেকেই ঘুরে আসা যাক।
.
আলফী শুধু মনে মনে হাঁসল, তার ভাই তো আর জানে না আলফী গতকালকেই সেখান থেকে এসেছে।
.
আজ এক বছর হয়ে গেল ঘটনাটার। কিন্তু ভুলতে পারছে না সেই মেয়েটাকে। কোনো মেয়েদের দিকে ঠিকমত তাকায় না সে, কারণ প্রতিটা মেয়ের ভিতরে খুঁজে চলেছে সেই মেয়েটাকে।
কোনো মেয়েকেই আর ভালো লাগে না তার, কারণ তার ভালো লাগা, ভালোবাসা, স্বপ্ন সবই তো শুধু সেই মেয়েটাকেই ঘিরে।
.
.
[][][][][] সমাপ্ত [][][][][]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন